রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০২৪
অমিত কাশ্যপ-এর কবিতা
সন্তর্পণ ভৌমিক-এর কবিতা
বরুণ চক্রবর্তী-র কবিতা
পৃথিবীর যাবতীয় অন্যায় যুদ্ধ
থামাতে পারে মানুষের ঐক্যবদ্ধ শক্তি
আমার বাবা-র বাবা বলেছিলেন বাবা-কে---
তারপর দিন ফুরিয়েছে রাত গড়িয়েছে
এক কালের ঠাকুরদাদা
স্মৃতি রেখে জগৎ ছাড়া
অন্য আমি একটু একটু ক'রে পেয়েছি উপদেশ
পৃথিবী জুড়ে একদিন হবেই ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ
আমার বাবা বলেছিলেন আমাকে ---
এই-ই এমন আমার বাবা , তাঁকে দেখেছি ন্যায়-নীতি আদর্শে
তাঁর বাবা-র পথ অনুসারী নিষ্ঠ মানুষ একজন
আজ তিনি , তাঁরা নেই ঠিকই
সশরীরে আমাদের ধারে কাছে সুখে-দুঃখে
রয়েছেন স্মৃতি জুড়ে আমাদের হৃদয়ের
অন্তরের কোথাও---
বুঝি, বেশ বুঝি আমার স্মৃতি-র পৃথিবী এঁদের ঘিরে
আশ্চর্য ভারবাহী আলোয় স্মৃতি উৎসুক
চিরকালের চিন্তার ঘনছায়া আমায় ঘিরে
অনন্ত অতীতের স্মৃতি-ভাষ্য ঢেউ, অনর্গল ঢেউ
বহে চলে আনন্দ যাত্রায়---
মনে মনে ভাবি, আমিও তো বাবা আমার সন্তান-কে বোঝাই পাখি-পড়ার মতো
বুঝিয়ে অন্তঃকরণ শুদ্ধ করি আন্তরিক ভাবনায়
উত্তরকাল আজকের এই দামামা-র যুগে
বলা-কওয়া-কে বুঝবে আর কত প্রজন্ম ?
কোথাও বাবা-র একটা জোরের জায়গা ছিল
বাবা বলতেন উল্টো কথা
'নিজের কথা বলবে না , লোকে বলবে,
বলবে অন্যেরা---
শুধু মানুষের কথা রেখো
মানুষের পাশে থেকো
জেগে জাগাও'---
এখন যুগ পাল্টে গেছে, একচেটিয়া এখন
এ সময়ের শ্লোগান
নিজের ঢাক ---
দুর্গাদাস মিদ্যা-র কবিতা
গৌতম রায়-এর কবিতা
বন্ধন পাল-এর কবিতা
পার্থ সারথি চক্রবর্তী-র কবিতা
শ্যামলকান্তি মজুমদার-এর কবিতা
আশরাফুল মণ্ডল-এর কবিতা
ঘুমের ভিতর তরতাজা এক জাগরণ ডাকছে
কড়ে আঙ্গুলের ডগাতে উঁকি দিচ্ছে
অজস্র শপথ
দুমুঠো ভাতের জন্যে
এক চিলতে চালাঘরের জন্যে
পরনের একটুকরো কাপড়ের জন্যে
হাহাকার আর বুক চাপড়ানি নিয়ে
বান ডেকেছে মৃতপ্রায় নদী
ঘুমের ভিতর এসে দাঁড়িয়েছে
অনেক মানুষ
নিজেদের শিরদাঁড়া সোজা রেখে
চিরকালের বন্ধ্যা ঘুম হটিয়ে
তারা এবার গাইবে
জেগে থাকার গীত
আবদুস সালাম-এর কবিতা
সমরেন্দ্র বিশ্বাস-এর কবিতা
পুনর্জন্মের জল-হাওয়ায় ভাসে ছেঁড়া মানচিত্র।
বাদামী অক্সিজেন ছুঁতে গেলে থোকা থোকা পাপ,
অভিশপ্ত আমি নিঃশ্বাস নিতে পারি না!
অবাধ্য পুনর্জন্ম
ক্যারামের গুটির মতো
আমাকে ফেরৎ পাঠায় এ জন্মের খোপরে।
চারদিকে চেয়ে দেখি
ইউরেনিয়ামের মতো কিলবিল করে লোভ!
সাইরেণে সাইরেণে বাদামী ধূসর মানুষেরা পাশে হটে গেলে
রাস্তা খুলে যায় নেতার, লোলুপ নায়কের –
লোভী মানুষেরা সভ্যতাকে ছোটায় বাদামী শকটে
চারধারে শুধু ধূসর ধূসর হাওয়া!
পুনর্জন্মর কাছে ফিরে যায় থোকা থোকা বাদামী নিঃশ্বাস।
আশাহত গাড়িতে অ্যাসিড-বৃষ্টি, ক্ষয়ে যাওয়া ওয়াইপার
মানচিত্র থেকে ধীরে ধীরে মুছে যায় জীবনের জন্ম, পুনর্জন্ম!
অভিশপ্ত আমি আজকাল নিঃশ্বাস নিতে পারি না!
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা
সবলের ছেলে বললো, যুদ্ধ কী মা?
যুদ্ধ মানে রক্ত, যুদ্ধ মানে আগুন,মৃত্যু।
যুদ্ধ কেন মা? -- ছেলেটি আবার বলে
মা বলেন,কী জানি? তবে শুনেছি যুদ্ধ হতেই হয়
নইলে ওরা নাকি সব কেড়ে নেবে।
যুদ্ধে কী হয় মা?
তা জানি না,শুনেছি তা ছাড়া বাঁচা যাবে না
শক্তি যার আছে সেই শত্রুরা সব নিয়ে যাবে।
দুর্বলের ছেলে বললো, যুদ্ধ কেন মা?
মা বলেন কী জানি?
আমাদের যে কিছুই নেই, শুধু অভাব,শুধু
অসুখ আর কান্না তবু...
যুদ্ধ কী মা?
সবকিছু ভেঙে দেওয়া,কেড়ে নেওয়া বা পুড়িয়ে দেওয়া আর অত্যাচার।
যুদ্ধ তবে কেন হবে ?
তা জানি না তো !
তবু যুদ্ধ নাকি হতেই হয়, নইলে মরে যেতে হয়।
দুটি শিশুই জানতে চায়,আমাদের কী লাভ?
দুটি মা উত্তর দেন,লাভ হয় না কিছুই,কিন্তু
শুনেছি লড়াই চাই-ই চাই
নইলে বাঁচা যায় না।
শিশুর সরল চোখে বিহ্বলতা, সেখানে লেখা,
আমরা যুদ্ধ চাই না,খেলতে চাই,খেতে যাই
আর গান গাইতে চাই।
গোবিন্দ মোদক-এর কবিতা
আশা নিরাশার দ্বন্দ্ব শেষ হয়ে গেলে
চাওয়ার আর কিছু থাকে না
থাকে না পাওয়ারও কিছু।
এখন আমারও সেই সুবর্ণ-দশা।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
প্রতিনিয়ত দেখতে পাই মৃত্যুমুখ
জলছবির মতো ছেলেবেলা
আর মধ্যরাত্রির দিনগুলি।
কোথাও খুব করুণ সুরে
একটা বেহালা বাজে
বাজতেই থাকে ক্রমাগত
আর আমি একটু একটু করে
তলিয়ে যেতে থাকি নৈঃশব্দের ভিতর;
জীবনের শেষ স্বপ্নদৃশ্যে দেখতে পাই –
একটা কাঠঠোকরা পাখি
ক্রমাগত ঠুকে ঠুকে
ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে
আমার বুকের পাঁজর।












