অলোক বিশ্বাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অলোক বিশ্বাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

অলোক বিশ্বাস-এর দীর্ঘ কবিতা

পোকাসাম্রাজ্য
বীভৎসদের অনুসরণ করতে করতে আরও বীভৎসের 
জন্ম হয়। কোথায় রাখবে বালিশ বিছানা 
উলের পোশাক আর নয়ন চঞ্চল। বীভৎসরা এসে খেলা করবে 
বেহুলার চারপাশে। কোথায় রাখবে 
অনুকূল শ্বাস-প্রশ্বাস পরমেশ্বর মায়াগুণ
মাথার ওপরে কল্পতরু বাতাস 
নিজেই কমিয়ে আনছে তন্ত্রসাধনা।
এসো ভাই, আপাতত বিড়িগুলো নিভিয়ে মিছিলে গিয়ে দাঁড়াই।
এসো ভাই, রোদে শুকোতে দেওয়া বিউলি ডালের বড়িতে 
কার্বন-ডাই-অক্সাইডের স্তর পড়ে গেছে কিনা জিজ্ঞাসা করি 
ভৌত বিজ্ঞানের কাছে।
বীভৎসের জন্ম যেকোনো মাসে হতে পারে, কোনো 
অন্তঃসারশূন্যতায়, আগমনী অথবা সজল বিজয়ায়।
বীভৎসরা কি কেবলমাত্র 
সরোজ দত্তকে ধরে নিয়ে যাবে? 
রামপ্রসাদকেও ধরে নিয়ে যেতে পারে।

হয়তো আমরা কেউ গঙ্গায় সাঁতার কাটতে চলে যাবো 
এমত দৃশ্য দেখে।
ঘোড়ার পিঠে চড়ে চলে যাবো জীবাত্মা
থেকে পরমাত্মায়।
এমত আনন্দের কথা ভাবতে নেই চন্দ্রা।
যাত্রাকালে হয়তো মাথায় পতপত করবে 
স্বরূপশক্তি হ্লাদিনী শ্রীরাধে।
বীভৎস চশমা ছাড়াই সেইসব দেখবে, উমাকে দেখবে আর
লক্ষ্য রাখবে কারা কারা গোবিন্দদাসের
পদাবলী গাইতে চেয়েছে।
যখন চার অংকের ক্ষুদ্রতম এবং বৃহত্তম সংখ্যা নিয়ে মজা করবো
কিংবা ধরো অঙ্কিতা যেভাবে বাসরঘরে
স্বামীকে বলেছিল স্তম্ভচিত্র অঙ্কন করো, ঠিক সেই মুহূর্তে 
সুতীব্র সংঘাতে অনেকানেক উপসর্গ দেখা দিয়েছিল।
আমরাও রাতের আকাশে নক্ষত্র গুনতে গুনতে 
অঙ্কিতার অভিজ্ঞতার মতো এক বামনের মুখোমুখি 
হয়ে যেতে পারি। আমরা ভয় পাবো না কারণ 
রণহুংকারের কথা আমরা তো 
অনেক জেনেছি জলদস্যুদের কাহিনি পড়তে পড়তে।
এই সেই বামন যে মিশরের নীলনদে আর সবরমতি 
আশ্রমেও ঘুরে বেড়ায় ভয়ঙ্করভাবে নিজের মূর্তি বদল ক'রে।
হাতিগুম্ফা শিলালিপির দিকে যখন তুমি একদৃষ্টিতে 
তাকিয়েছিলে, কিংবা ধরো ভীমবেটকার 
সংক্ষিপ্ত পরিচয় পাঠ করছিলে মগ্ন চৈতন্যে,
তোমার ঘাড়ের ওপর ঠান্ডা একটা হাত
থেকে প্রাচীনতম রক্তপ্রবাহ বয়ে চলেছে।
শাসকেরা যেসব পরম উত্তম বর্ণমালা দেখায় 
ক্ষমতায় আসার আগে, 
ভূমিকম্পের অনিশ্চয়তা বিষয়ে সন্দেহ থাকার কথা নয়। 
ক্ষমতায় আসার আগে শাসকেরা তৎকালীন প্রতিটি ধর্ষণ 
কাণ্ডের বিচারে কোনো শূন্যস্থান রাখতে চায়নি।
অথচ ক্ষমতায় আসার পর প্রতিদিন
বিদ্যালয় থেকে পবিত্রস্থান পর্যন্ত সর্বত্র 
একের পর এক শতাব্দীকে ধর্ষণ ক'রে 
গলার নালী কেটে দেওয়া কতো সহজ শাসকের প্রদত্ত মাত্রায়। 
বীভৎস দাঁড়িয়ে থেকে শীতল রক্তগঙ্গা পরিচালনা করে। 
শাসক সমস্ত দেখেও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবে না 
জনতার অনুকূলে।
কচুরি পানার মতো গজিয়ে ওঠা
বুদ্ধিজীবীরা সাংবাদিক সম্মেলনে
বলে দেবেন, এসব ছোটখাটো সামাজিক ব্যাপার। 
এই জটিলতা কোনোভাবেই সমাধানযোগ্য নয়।

সহজ মা'র গান শুনতে শুনতে দেখি
হঠাৎ আমার কলার ধরে কেউ টান দিচ্ছে। 
চিৎকার ক'রে উঠি, কে ভাই ওলাউটো, 
গান শোনা মাটি ক'রে দিলে।
কে ভাই অস্ত্র হাতে সীমান্ত পেরিয়ে এসে
আমাদের চাষের জমিতে পেচ্ছাপ করে গেলে।
কে ভাই জংধরা যন্ত্রপাতির হাড়গোড়
শহরের জলাশয়ে ছুঁড়ে দিয়ে গেলে রাতের অন্ধকারে !
বসন্ত এসেছে বলে দু'চার খানা নতুন পোশাক বিক্রি হলেও
ওষুধের দোকানে ভিড় ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
প্রত্যেকের বয়স বাড়বে সেটা স্বাভাবিক
হলেও হঠাৎ কারও মৃত্যু ঘটে যাবে
এটা কিছুতেই মানা যায় না।
বীভৎসের কথা ভাবতে ভাবতে তুমি ভুল ক'রে 
বহুবার ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলবে সেটাও কিছুতেই মানা যায় না।
দেখো, চৈত্র মাস শেষ হয়ে বৈশাখ
পড়ে গেলেও আমগাছে
এখনো মুকুল আসেনি।
আমরা যে সারারাত ধরে দিনের পর দিন 
অভয়ার ধর্ষণের প্রতিবাদ করলাম,
গির্জা মন্দির মসজিদের জোয়ারে 
তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
দেখো, পুলিশগুলো দাঁত কেলিয়ে হাসছে 
নারীদের মিছিল দেখে। মনে হয়, বীভৎস কোনো 
ভুতপ্রেতের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে শহরের
প্রতিটি যানবাহন আর ভৌতিক ড্রাইভার। 
পুলিশের কানে কানে ফিসফিস ক'রে মিছিলের মাঝখানে
ঢুকে পড়ছে চলন্ত বাস।

আমাদের ইড়াগুলো কাঁদে রাস্তায় বসে
আমাদের পিঙ্গলাদের পেছনে ধাওয়া
করে ব্রডগেজ সন্ত্রাসবাদী।
সুষুম্নাগুলো পাল তুলে নৌকোযাত্রা শেষে দুর্গন্ধময় 
রেস্তোরাঁর সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে।
দাও আলো হে কার্পাস তুলোর গাছ
দাও আলো হে ঠাকুরঘরের সন্ন্যাসী
দাও আলো হে নিপুণ বংশীবাদক।
আমাদের জামাপ্যান্ট থেকে কিছুতেই 
হাসপাতালের গন্ধ দূর হচ্ছে না।
ফুলকপির ক্ষেত খামারে 
পোকাসাম্রাজ্য দেখে এসেছি ভোরবেলা
রাতের আলোগুলো তখনো না নিভিয়ে
সিকিউরিটি গার্ড ঘুমিয়ে পড়েছে।
সিকিউরিটি গার্ডের ডিনার টেবিলে
গতকাল যারা হামলা করেছিল
তাদের পোশাকে লেখা ছিল
হাই হিটলার হাই গোয়েবেলস।
আলো নিভিয়ে জানলা দিয়ে দেখেছি।
দেখেছি পুলিশের গাড়ি এসে বিষযুক্ত
অসংখ্য মদের গ্লাস ঝুড়ি ভর্তি ক'রে
তুলে রাখলো অদ্ভুত কালো বাক্সে।
যেন কিছুই দেখিনি এমন ভান ক'রে পড়তে লাগলাম 
বিদ্যাপতির প্রার্থনা পদ।
তবু আমি জানলা বন্ধ না ক'রে গোপনে দেখে নিলাম 
পুলিশের সঙ্গে কালো পোশাক পরা কিছু লোক 
ফিসফিস কথা বলে চলে গেল।
বুঝলাম, সুড়ঙ্গের ভিতরকার আকৃতি সাজাতে
ফয়সালা হয়ে গেল গোপন গতিপথে।

আপাতত কোনো জলাশয় দেখতে পাচ্ছি না নিকটে।
দেখতে পাচ্ছি না কোনো নিভৃত চায়ের দোকান।
আকাশে যতগুলো ঘুড়ি উড়ছিল, প্রত্যেক ঘুড়িকে গুলি ক'রে 
নামিয়ে আনা হয়েছে মাটিতে এবং
ঘুড়ির সুতোকে অনুসরণ ক'রে গ্যাস চেম্বারের পরিচালকেরা 
পৌঁছে গেছে শৈশব বিধৌত মানুষদের ঠিকানায়।
অন্ধকারের আক্রমণ থেকে মানুষকে
বাঁচানোর জন্য যতো জন পাহারাদার
ছিল বিভিন্ন পোস্টে, তাদেরকে ট্রান্সফার ক'রে 
দেওয়া হয়েছে পৃথিবীর আদিমতম সমুদ্রে।
রাজাকার বলছে, তার হিসাব মতো
জলপ্রবাহের শ্রেণিবিভাগ করা হবে।
রাজাকার বলছে, অঙ্কন পদ্ধতিতে
নারী যেন চিরকাল দাসী বৃত্তিতে নিয়োজিত থাকে।
যোগফল ভাগফল সবকিছুতে উচ্চ ফলনশীল পোকামাকড় 
মিশিয়ে দিতে চাইছে রাজাকার ও তার বীভৎস
যৌন মানচিত্র।
বাতিঘরে রাখা ছিল যতো কীটনাশক,
আমাদের ফারাক্কা বাঁধ প্রকল্পে রাখা
ছিল যতো থার্মোমিটার,
আমাদের সমর মাস্টারের কোচিং
সেন্টারে রাখা যতো ফুলের কেয়ারি, 
সর্বত্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত গ্যাসে ভরে গেছে। 
পাল্টে গেছে রচনারীতি ফোবিয়ার
বিভিন্ন রূপ আঁকতে আঁকতে।
পাল্টে গেছে নতুন শতাব্দীর বাঙালির
আচার আচরণ।
পাল্টাবে সত্য সবকিছু, কিন্তু তাতে
ধর্ষকামের গন্ধ লেগেছে গভীর।
প্রয়াতকে সামনে রেখে অশ্রুবিসর্জনের
ভেতরে এতো এতো নাটকীয়তা লেগেছে।
কিন্নরদল কি পারবে না আমাদের যাপন সংগীতকে 
তুচ্ছতম ক'রে দেওয়া থেকে কোনোভাবে আটকাতে।

কলকাতা কোনোদিন এতো অভ্যস্ত
ছিল না ঘুমের ট্যাবলেটে।
প্রতি সপ্তাহে ঘুমের ট্যাবলেটের ব্রান্ড চেঞ্জ ক'রে ক'রে  
কলকাতা এখন সাইক্রিয়াটিক সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত।
বীভৎসের ইতিহাসে কতো অস্থিরতা
কতো ঘোলাজল স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে
কলকাতা খুব ভালো ক'রে জেনেও
বামপন্থীদের আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছে না আর। 
আমরা অগ্রজ কবিদের নিয়মিত
প্রয়াণের খবর পেয়ে দেহ সৎকার হবার
আগেই ঘোষণা ক'রে দিচ্ছি স্মরণসভা।
কবিদের স্মরণসভা যেন কবিতা উৎসবে পরিণত হয়ে গেছে।
ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স
আসছে ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে নিয়ে আসছে
ভাইরাস। সঙ্গে নিয়ে আসছে দূষিত রক্ত। 
নিয়ে আসছে হাড়হিম গুঞ্জন।
আমাদের আত্মত্যাগের ভেতরে 
শাখাপ্রশাখা বিস্তার করেছে বীভৎস
বামপন্থা আর বীভৎস ডানপন্থা।
যে পাখিগুলো সামান্য আশ্রয়ের জন্য
আসে, তাদেরকে তিরবিদ্ধ করেছি।
বীভৎস গণতন্ত্র এসে এক সামান্য
বৃদ্ধার দশ ফুট বাই দশ ফুট ঘর
দখল ক'রে গেল। 
তারপরেও নির্লজ্জ গণতন্ত্রের জন্য
পার্লার থেকে চুল কালো ক'রে
আমরা মিছিলে মিছিলে পালন করেছি মানববন্ধন।
এসেছে বসন্ত, কী হবে আর আমার
এসেছে পলাশ ফুল, কী হবে তোমার
কতো তিরবিদ্ধ পাখির মৃতদেহ ভাসছে হ্রদের জলে।
কিশোরীকে জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ক'রে 
ফেলে গেছে সন্ত্রাসবাদী।
কার কাছে যাবো আমি, বুদ্ধের কাছে 
নাকি শ্রীচৈতন্যের কাছে এ বেদনা জানাতে।
আমার ঘরে লেনিনের ছবি মাও সেতুং-এর ছবি আবিষ্ট হয়েছে
মাকড়সার জালে। কেউ আর কোনো দায়িত্ব নিতে চাইছে না 
গভীরতর অমঙ্গলের কারণে।
কোনো ট্যাবলেট বা সিরাপে অথবা কোনো বিপ্লবী দর্শনে 
এমত ব্যাধি আরও বেশি সংক্রামক হয়ে পড়ছে।
শুধু সংখ্যায় বা কিলোমিটারে নির্ভর না ক'রে 
খুলে বসে পড়ি অনাদিমঙ্গল।
স্নেহময়ী মাতৃভূমি আমার পরবর্তী
বীভৎসের পথ রোধ করো যাতে হরিকে
পুনঃপুনঃ ঝর্নাধারায় দেখে যেতে পারি।

 

শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪

অলোক বিশ্বাস-এর কবিতা


অবস্থাগুলো যেভাবে আসে

অভিধান ঘেঁটে কোনো শব্দ খুঁজে পাইনি, যা দিয়ে চাঁদের অন্য নামকরণ করতে পারবো। দেখিয়াছি উন্মত্ত পার্লামেন্টে ব্যবহৃত অতি উত্তেজনাময় শব্দ, যেসব উত্তেজনা লাচুং পাহাড়ের ঝর্নার সমার্থক শব্দ হতে পারে না। ভ্রমণ করিয়াছি মন্দির মসজিদ চার্চ ও গুরুদেবের আদেশ মত্ত হেরিটেজে। আমাকে কোনো উপাসনা কক্ষ ঝাউগাছও উপহার দিতে পারেনি। প্রকৃত ভালোবাসার পাশে যেভাবে প্রকৃত ভালোবাসা বসে থাকে, তেমন কোনো উচ্চারণ খুঁজে পাইনি রাজনৈতিক গ্রন্থে। সূর্যের প্রথম আলোয় লেখা কবিতার নামকরণ করতে গিয়ে দেখি সম্মুখে দন্ডায়মান অনুশাসনের স্পর্ধিত দৃষ্টি। যে কোনো নির্দেশবাহী উত্তপ্ত দৃষ্টির একটি শব্দও কবিতার সংবেদনশীল যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। 

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

অলোক বিশ্বাস-এর কবিতা

পুলিশ ও পাখি

অধিক রাতে রাষ্ট্র ঘোষিত রাজনৈতিক অপরাধীকে না পেয়ে, পোষা পাখিকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। খাঁচাবন্দী পাখির দু'পায়ে ছিল ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অলঙ্কার এবং পাখি ছিল শিল্পীত শ্রুতিধর। সারারাত পুলিশেরা পাখির পায়ের অলঙ্কার খোলা নিয়ে যা যা কথা বলেছিল প্রতিটি শব্দ পাখি শুনেছে কান খাঁড়া ক'রে। ভোর রাতে পুলিশেরা নেশাগ্রস্ত ঘুমে আচ্ছন্ন থাকিবার কালে কী কৌশলে পাখি উধাও হয়ে গেছে। 

রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০২৪

অলোক বিশ্বাস-এর কবিতা

আলোয় অক্ষরে

নদীর জলে ভাসছে প্রতিবাদী অক্ষর। অক্ষরও ধারণ করেছে প্রতিবাদী কন্ঠের নদী। আমিও কয়েকটি অভুক্ত খরগোশ পেয়েছি হৃদয়ের উৎসে যারা কবিতার অক্ষরে এসে দাঁড়ায় স্বাধীন প্রসাধনে। কার্গিল যুদ্ধের ক্ষত প্যারামবুলেটরে ভর্তি ক'রে অন্ধকারে বসে আছে ২০৫০ সালের শিশু। নদীর সঙ্গে আমার মুহুর্মুহু আলাপ দেখে, অন্য প্রাণীরাও অক্ষরে উদযাপিত হতে পারে। দলে দলে প্রাণী নিজেদেরকে নদীর কিনারে দেখতে চাইছে জলের প্রতিবিম্বে। নদীর মধ্যে বর্ষাকাল থাকলেও ভেতরে অনেক গ্রীষ্মকাল। সব মাছ সব নদীতে মানায় না বলে, বিষাদহীন মাছের চিত্রকল্প নদীতে ছেড়ে দিই। চিত্রকল্পের ভাষায় লুকিয়ে লুকিয়ে বিষাদ প্রবেশ করে। বিষাদেরা নদীর অক্ষরকে ফ্যাসিবাদের ভয়াবহতা শোনায়। ফ্যাসিবাদের উত্তর আধুনিক ভাষাতত্ত্ব নদীর জলে পাক খেতে খেতে আমাদের জলাধারে ঢোকে। ফ্যাসিবাদ মিশ্রিত জল পানে নতুন প্রজন্মের জিজ্ঞাসাগুলো ফ্যাকাসে হয়ে যায়।
 

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩

অলোক বিশ্বাস-এর কবিতা

জন্মদিনের কবিতা

বাক্যের রঙ শুনিয়েছি পাখিকে
পাখির রঙ দিয়েছি বাক্যকে
আমাদের জন্মদিনে...
হৃদয়ে জমে থাকা উইপোকা
চেতনায় জমে থাকা উৎকট বর্জ্য,
ডেটল দিয়ে মুছি তোমাদের জন্মদিনে...
মৌল নীলাঞ্জনায় আকাশ বিদায় দিচ্ছে
ধূসর-কালো স্মৃতিপ্রবাহকে...
ওয়াশ রুম থেকে পালিয়ে গেছে
কাল্পনিক ভয়-দেখানো টিকটিকি
পরীর জন্মদিনে...
যে ঘুড়িটা উড়বে না বলেছিলো
যে শঙ্খ আর বাজবে না বলেছিলো...
লোকবাদ্যের জন্মদিনে হাসি ফুটতেই
সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেলো...
শিবপুর বাজারে টাটকা ফুলকপি
আর শীতের বেগুন এসেছে
আলোর জন্ম উৎসবে বেজে উঠুক
গিটার। বেজে উঠুক রাধারমণ...
নতুনেও থাকুক কিছু বৈষ্ণব পদাবলী...

 

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

অলোক বিশ্বাস-এর কবিতা

আমিও বৃত্তের লোক

তুমি তো জানো বলয়কামী মানুষের  হাসির পদ্ধতি। বলয় পেরোতে পারলে পদ্ধতি বদলে যায়। সে তখন নিম, সে তখন ওক, চেস্টনাট অথবা কোনো ওয়েসিস মনে হয়। বলয়শীলিত মানুষের মতো আমিও বসন ভূষণ নিয়ে কাটাকুটি খেলি, আর ব্যাপক গল্প বানাই কুকুর বিড়াল ও মাছের যৌনতা সম্পর্কে। বলয় বৃত্তের মানুষের মতো আমিও মশারি খাটাই আর মশারির ভেতরে কখন যে হাজার মশা ঢুকে যায়, বুঝতেও পারি না। কথামতো ভাববাদী যৌনবিহারী হয়ে সঙ্গমে ব্যর্থ আমি ফিজিক্সের বই খুলে সিমন দ্য বোভোয়ার ব্যাখ্যা খুঁজতে থাকি। হঠাৎ স্বপ্নের ভেতরে চিৎকার করে ওঠে আমার ফ্রয়েডিয় আত্মা। বলয়বৃত্তের ভেতরে আমারই হাসি কেবল আমাকেই  বিদ্রুপ করে। সত্যিকারের পরাজয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে মিথ্যাকারে হাসি, দাবার ঘুঁটির দিকে তাকিয়ে। 

 

শুক্রবার, ২ জুন, ২০২৩

অলোক বিশ্বাস-এর কবিতা

এতো মগ্নতা কোথা থেকে আসে

সঘন চোখে গগনে মগ্ন তুমি। আপাত সম্পর্কগুলো নিজেদের মতো হৈচৈ করে। জানলায় আছড়ে পড়ে শিকারি পাখির উৎসব। অসময়ে নদী ধাক্কায় সামান্য কুটিরে। ভাবছো, আকাশ কিভাবে এতো নীল, সন্ত্রাস কবলিত দিনে। দুর্ঘটনাপ্রবণ রাস্তা তোয়াক্কা না ক'রে ছুটে যাচ্ছে কাঁপা হাতের সাইকেল। ভূমিকম্পের খবরে গানগুলো হোঁচট খাচ্ছে। আর যেভাবে নীলে মগ্ন হয়েছো, সবাই আশ্চর্য। আগুনে ব'সে মগ্নতা কোথা হতে, কিরূপে আসে। তোমার সঘন চোখে প্রচুর আকাশ। রাতভর হৈচৈ, কিম্ভুতাকার সহবাস, রতিময় দাঙ্গা, প্রদর্শিত ধুমধাম শিয়রের পাশে রেখে, স্থিরতার সঙ্গে মিলিয়েছ আকাশ। ঘন্টা বাজিয়ে আসছে ধর্মের ফেরিওয়ালা, সদলবলে আসছে ভাদ্রমাস, ছায়াতলে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়েছে টুপিওয়ালা। হয়তো তোমার চোখে অন্য কোনো প্রস্তুতি চলছে প্রতিধ্বনিত হয়ে ওঠার... 
 

রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৩

অলোক বিশ্বাস-এর কবিতা

তোমার জন্মদিনে আম্যাজন ডট ইন

আমের বাগান পার হতে এক ঘণ্টা, তারপর লিচুর বাগান, দূরে খালবিল, আরও দূরে রোদ্দুরপ্রদত্ত ধাতু সিদ্ধান্ত। তোমার ঠিকানা, জন্মের ধ্বন্যাত্মক কবিতা। কবিতাগুলোতে কতো মিলিয়ন চিহ্ন আবিষ্কারযোগ্য তা ভবিষ্যতে নয়, ইচ্ছা করলে এখনই কেউ বলে দিতে পারে। রেল স্টেশন থেকে অন্য একটা স্টেশনে পৌঁছতে যতোটা সময় লাগে, তার আগেই তোমার এক ফর্মা কবিতা লেখা হয়ে যায়। এর পেছনে কোনো সুপারন্যাচারাল নেই। যা আছে তা ওই আমবাগান বা লিচুবাগানের সহজ সরল মেটাফিজিক্স। রাজারহাট থেকে দুর্গাপুর যতোটা পথ তার চেয়েও বেশি কোনো দূরত্ব কবিতায় নিয়োজিত রেখেছো এবং সে পথ কোথায় শেষ কেউ জানি না। আমরা যেটা জানি তা হলো তোমার গাছের পেয়ারায়, তোমার গাছের লেবুতে, বসার চেয়ারে কবিতার অনেক মনস্কামনা ডাউনলোড করা আছে। তোমার কবিতা থেকে ডাউনলোড করি কলকাতা নাইট রাইডার্স-দের খেলার গোপন কল্পনা। ঘুমন্ত গণতন্ত্রের শরীরে যখন শাসকদল হাগছে মুতছে, গণতন্ত্রকে যখন ল্যাংটা ক'রে রাস্তায় হাঁটানো হচ্ছে, গণতন্ত্রের বিশুদ্ধতার কথায় যখন শাসকদলের কবিরা মাস্টারবেট করছে, গণতন্ত্রকে যখন তুলে এনে বেশ্যাখানায় বিক্রি করা হচ্ছে, তোমার কবিতার গভীর থেকে উঠে আসছে সুনামি। শাসক বদল হলেও, নেতাই বা নন্দীগ্রামের হায়নাদের বদল হয় না, এই সত্য জেনেছি আমি তোমার কবিতা পাঠে। মন্দির মসজিদ বৃদ্ধি পেলেও রাজনৈতিক ধর্ষণ বন্ধ হয় না, এই সত্য লেখা আছে তোমার বাক্যের উৎসবে...  



 

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৩

অলোক বিশ্বাস-এর কবিতা

আজকের কোনো রবীন্দ্রনাথকে মনে রেখে 

যে বাড়িতে সূর্যের সাতরঙ কারো কারো সাক্ষাৎকার নেয়... যে রুফটপ থেকে উলুধ্বনি শোনা যায় স্বৈরাচারী শাসকের তর্জনী উপেক্ষা করে... যে চঞ্চলতা মান্যতা দেয় রিষ্টওয়াচ থেকে চাঁদের আলো ছড়ালে... চলো, পুরনো খাঁচা, লাউডগা সাপ, কাটোয়ার ডাটা, রিফিলহারা কলম এবং যাবতীয় অচল চিঠিপত্র, পুরনো স্মৃতি ও টুকরো হয়ে যাওয়া সম্পর্ক নিয়ে সেই বাড়ি যাই। সেখানে হেঁটে বেড়াচ্ছেন যুক্তিকে ছাড়িয়ে যাওয়া বিন্যাসের রঙ্গিন জাদুকর। যদি মনে হয়, এই কথাবস্তু ঐকিক হলো, তবে একজন পাঠক এই জাদুকরকে বলতে পারেন প্রকৃতি বিজ্ঞানী অথবা ভূগোল বিজ্ঞানী অথবা অর্থবিজ্ঞানের পরবর্তী রূপকার। জাদুকর শব্দের পরিবর্তে পাঠক সম্ভাব্য যেকোনো প্রাণীবাচক বা অপ্রাণীবাচক চিহ্ন বসাতে পারেন। সেই বাড়ি মানে কোনো দুর্গম দুরূহ মিনমিনে বা আধাসামরিক অঞ্চল নয়। সেই বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে ময়ূরেরা বাস করে, কোকিলেরা বাক্যবিন্যাস বদলায় আর যুক্তির ফাটল দিয়ে অঙ্কশাস্ত্র বেরিয়ে গীতবিতান গেয়ে যায়। যেকোনো বস্তুসামগ্রীর, যেকোনো প্রকার দুঃখবেদনার এমনকি অনিরাময়যোগ্য পাতি ভাবনার মেটামরফোসিস ঘটে ওই বাড়িতে। ওই বাড়ির প্রতিটি বুননের ভেতর জাদুকরের জলতরঙ্গ বাজে। ওই সমারোহে গেলে সকলের দ্যাখা পাই— সালিম আলি থেকে আইনস্টাইন, ভিক্টোরিয়া ওকামপো থেকে লালন ফকির, আরনেস্ট হেমিংওয়ে থেকে কমলা দাশ এবং সানিধাপা থেকে লেবার ক্লাস, বুটিকের কাজটাজ। পরিযায়ী পাখিদেরও দ্যাখা পাবে। ওই হলো অন্য এক মহাদেশ অন্য এক মহাকাশ। ওই আকাশের গায়ে অজস্র প্রজাপতির নাম ও চিহ্ন আঁকা আছে যা আবিষ্কার করার জন্য ২টো নয় ৪টে নয় ১টা সহজগতি হৃদয় থাকলেই চলবে। আমাদের যতো জল আছে, নক্ষত্র আছে, অধরা পাখি আছে, কোষে কোষে জমে থাকা পাথর আছে, অথবা চাবুকের অসংখ্য দাগসহ প্রেম, সবকিছু নিয়ে দিনের প্রথম কিরণের কাছে যাই। দিনের সমস্ত কিরণেরা ওই বাড়ি থাকে। চলো, সেই বাড়ি গিয়ে চোখের ছানি কাটিয়ে আসি, চশমার কাচে যুক্ত করি তাহার জাদুবাস্তবতা...    


 

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২

অলোক বিশ্বাস-এর ঝুরোগল্প

পোষ্যকেন্দ্রিক হৈ চৈ 

আমার কিছু পরিচিত ব্যক্তি ঘোড়া পোষে। কিন্তু ঘোড়া কেনা ও পোষার অর্থনৈতিক ক্ষমতা আমার নেই। কুকুর পুষলে কয়েক দিনের জন্য কখনো বাইরে যেতে পারবো না। বিড়াল পোষার কথাও ভাবি মাঝেমাঝে। কিন্তু প্রভুর বাড়ি ছেড়ে বিড়ালেরা অধিকাংশ সময় অন্যের কার্নিশে ঘুরে বেড়ায়। ছোটবেলায় গিনিপিগ আর সাদা ইঁদুর পুষেছিলাম। কিন্তু ওদের কিভাবে ডানা গজালো এবং উড়ে গেলো ওরা কিভাবে, বুঝলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাপ্ত ক'রে আমার মাথায় রঙিন মাছ পোষার নেশা ঢোকে। কিন্তু মাছেরা রাত্রে কেন মারমেডে পরিণত হয়, আমার মাথায় একদম ঢোকেনি। আমার চারখানা বড়ো অ্যাকোয়ারিয়্যাম ছিলো। প্রতিদিন রাতে অ্যাকোয়ারিয়্যামের সব মাছ মারমেডে রূপান্তরিত হওয়ায়, পাড়ার পণ্ডিতরা বললেন, ব্যাপারটা খুব বাজে লক্ষণ। ইনঅস্পিসাস। গোটা এলাকা ভূমিকম্পে ধসে যেতে পারে। পরিবারের সবাই ভয় পেলাম পন্ডিতদের ভবিষ্যত বাণীতে। একদিন সন্ধ্যায় সব মাছ গঙ্গায় ছেড়ে দিয়ে আসি। আবার একদিন দেখি চিলেকোঠার ছাদে নানারকম পাখি বসে আছে, যাদের কাউকে আগে দেখিনি। বাবা একজন পক্ষীবিশারদকে কোথা থেকে ডেকে নিয়ে এলেন। পক্ষীবিশারদ বললেন, ওইসব পাখি সুপারন্যাচারাল পাখি। ওরা ধারালো ঠোঁট দিয়ে বাড়ির সব গাঁথনি উপড়ে দেবে। পক্ষীবিশারদ জানতেন, কিভাবে পাখিদের ফুঁসলিয়ে জঙ্গলে পাঠানো যায়। এরজন্য বাবার কাছে দশহাজার টাকা দাবি করলেন। বাবার কাছে অষ্টাদশ শতকের ব্রিটেনের কিছু কয়েন রাখা ছিলো। পক্ষীবিশারদ সেইসব কয়েন নিজের হেফাজতে নিয়ে পাখিদের সঙ্গে অদ্ভুত ভাষায় কথা বলতে লাগলেন। পাখিরাও সব তাঁর ইশারামতো শুশুনিয়ার জঙ্গলে উড়ে গেলো। এরকম ঘটনা একের পর এক ঘটার পর একদিন বান্ধবী সুচরিতা  বললো, প্রাণীদের পোষার চাইতে ওদের নিয়ে গল্পলেখা শুরু করাটাই ভালো হবে। প্রাণীদের নিয়ে চার-চারটে বই লিখে ফেললাম আর প্রতিটা বই বেস্ট-সেলার হয়ে গেলো। বাবা একদিন আমাকে আফ্রিকার জঙ্গলে পাঠিয়ে দিলেন প্রাণীদের সম্পর্কে আরও জ্ঞান আহরণ ক'রে সেই বিষয়ে একের পর এক বই লিখে যেতে। আমার পিতা কার কাছে শুনেছিলেন যে, পশুপাখিদের নিয়ে কেউ অন্তত পঞ্চাশটা বই লিখতে পারলে, তিনি নাকি নোবেল অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। 
 

বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

অলোক বিশ্বাস-এর ঝুরোগল্প

মেঘ-বৃষ্টির ঝাঁ-ঝাঁ-ঝাঁ 

 

করোনা বিষয়ক যাবতীয় কথা শিফট 'রে যাচ্ছে অন্য গল্পে। বহুতলের শীর্ষ ব্যালকনি ভাসছে পূর্ণ চাঁদের আলোয়। বহুতল থেকে দ্যাখা আলো ঝলমল অসাধারণ কোলকাতা। মনে পড়ে লংড্রাইভে বেরিয়ে পড়ার স্মৃতি। ত্রিবেণীর বাউল মেলায় গান। শুনতেশুনতেশুনতেভোর হয়ে এসেছিলোমনে পড়ে।

মেঘ আর বৃষ্টিদুজনেই ডাক্তার। ওরা দিনের পর দিন শুনেছে করোনায় সংক্রমণে রোগীদের আর্তনাদ। হাসপাতালের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়া প্রচুর মানুষ। সন্তান হারানো অসহায় বাবা মায়ের নিরন্তর কান্না। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত মৃত্যুর মিছিল দেখেছে দুজনে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দুর্নীতির ঘটনা দেখেছে। 

আশ্চর্যরকমভাবে দুজনেরই জন্মদিন পনেরোই অগাস্ট। জন্মদিনে ওরা কোনো মৃত্যু নিয়েকান্না নিয়ে কথা বলতে চাইছে না। জন্মদিনের গল্পে চলে আসছে ছাদের বাগানসমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসনাথুলা পাসের বিস্তীর্ণ বরফাচ্ছাদিত পর্বতশিশির মাখা ঘাসে ব্রিগেডের মাঠে প্রাতভ্রমণ আর অবশ্যই জীবনে প্রথম চুমু খাওয়ার শিহরণ।

 

 

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২

অলোক বিশ্বাস-এর কবিতা


পমকে লেখা কবিতা 

মেট্রো স্টেশনে রাধাকে ভালো কোরে দেখতে না দেখতে আর একটা ট্রেন এসে পড়ে... আর আমি এক 

গাণ্ডু, রাধাকে ভালো কোরে দ্যাখার পরিবর্তে ট্রেনে উঠে পড়ি...

 

ট্রেনে উঠে দেখি সমস্ত প্যাসেঞ্জার রাধাকে নিয়েই বলছে...তারা বলছে, দুর্গম অঞ্চল থেকে এসে, রাধা 

যমুনা হয়ে সমুদ্রে মিশেছে...আর আমি এক গাণ্ডু, রাধা বিষয়ে সংবাদপত্রের রচনা পাঠ কোরে একটাও 

জ্ঞানের আলো উচ্চারণ কোরতে পারি না...

 

রাধা, রতিনিধি আমার, সংবেদনশীলতায়... মস্তিষ্কের কোষে কোষে বিঘাবিঘা ধান গমের ক্ষেতের 

ফাইন্যান্সিয়াল ডেটা সরবরাহ করে... ফাইন আর্টস প্রদর্শনী শালার অধুনান্তিক অয়েল পেইন্টিংসে 

একাকার রাধা নতুন প্রজন্মের হার্টবিট... আমার নৌকোর মাঝি হয়ে আছে, যাকে প্রত্যেক শাসক সন্দেহ 

করে...আর আমি এক গাণ্ডু, রাধাকে সুপারন্যাচারাল ভেবে চলেছি...

 

হয়তো ভেবেছি, সন্দেহকারীদের ক্লাবেও রাধার সদস্যপদ অন্তর্ভুক্ত। আমি তো জানি, যা কিছুর ভালো 

সংকরায়ণ, যেভাবে রান্নার ফর্দ রচিত হয় ফেসবুকে, প্রতিটি অক্ষরের অধিবাসী হয়েছে রাধা... তাহার 

বর্ণমালা নির্গত জল বহুদূরের তৃষ্ণার্তকে শান্ত করে... রাধা সেই নারী, যে আমার সুইসাইড নোট দেখে 

চিৎকার কোরে আত্মহত্যা রদ কোরে দিয়েছিলো...

শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২

অলোক বিশ্বাস-এর দীর্ঘ কবিতা

কবিতার নামকরণ দিয়ে লেখা দীর্ঘ কবিতা

নির্গত ধোঁয়াগুলি আমাদেরই নির্গমন...

স্বপ্নের মহাকাশ স্বপ্নের বালুচর ডুবে যাচ্ছে ধোঁয়ার ভেতর...

যারা অতিপদে কাঁদছে, তারাই কাঁদাচ্ছে পথের প্রিয় ইশারা...

হৃদয়ের ন্যাশপাতি ডুবে যায় কাদামাখা হাতে...

যারা বিরোধিতা করে ধোঁয়ার, তাদেরই অনেকে ধোঁয়াকে ভরছে আলোয়...

যাত্রা পথের রেল শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে...

যেখানে থুবড়ে পড়ে ট্রেন সেখানে কালোকালো খেলা...

প্রেমের ভেতর ধোঁয়ার ঝড়...

ভ্রূণের ভেতর ধোঁয়ার অশ্রাব্য ভাষা...

ধোঁয়ার ঝড়কে সমুদ্র ভেবে ডুবে মরছে কেউ...

ভাবি এমন এক ভালোবাসা যা সম্পূর্ণ ধোঁয়াধুলোহীন...

তথাপি রান্না করে যাওয়া অপূর্ব এক নরম হাত, ধোঁয়া লাগেনি...

কোথাও দূষণমুক্ত সাইকেল অজস্র রোমান্টিক মুহূর্তের...

ক্রিয়াপদ স্পষ্ট কোরে বলো প্রকৃতির কাছে কী কী শপথ কোরেছো...

শপথের কোথাও হয়তো ছিলো এমন মনোভাব বাজারসংস্কৃতি যাতে গ্রাস না করে...


তথাপি দুলক্ষ শিরার ভিতর মিথ্যার প্রবাহ...

তথাপি তুমি লিখেছো সত্য যাপনের কবিতা...

তথাপি ধোঁয়া আর ধুলোর বন্ধুত্ব তোমাকে হাসিয়েছে... 

ঘনঘন সত্য যাপনের কবিতায় এতো মিথ্যা এলো কী কোরে...

বেবি, তুমি জন্মেছো বরফ প্রকৃতির সম্পর্কের ভেতর...

কাল্পনিক বরফ বাস্তবিক বরফের চেয়ে সুদূরপ্রসারী...

মান্যবর হে, হৃদয়ের উষ্ণতা ম্যাজিকাল বাঁচিয়ে রেখেছো...

বরফের রাঙ্গানিতে বরফের কোনো দোষ নেই, তাকে আমরাই ডেকেছি সকল পাঠশালায়...

তথাপি বরফ ঘিরে ফেললে পাঠশালাকে, আমরা অন্ধ হয়ে যাই...

যুদ্ধের বিভিন্ন প্রজাতি ফোকলোরের সাজঘরে ঢুকেছে...

বিশ্রাম নেওয়ার ক্যাম্পে অবিরাম অ্যাসিড বৃষ্টি...

কবিতার এলাকা কোনোদিনও দূষণমুক্ত হবে কিনা আমাদের জানা নেই...

কোনো সীমান্ত এলাকাতে আজ আর শান্তি বিরাজ করে না...

সমস্ত শান্তির বার্তায় ধোঁয়া ঢুকে গেছে...

শান্তির দীর্ঘ দীর্ঘ পঙক্তিতে অসংখ্য উইপোকা...

নতুন কোরে হয়তো জন্মাবে না ফিদেল কাস্ত্রো...

আগামী প্রজন্ম জানে চে গুয়েভারা মমি হয়ে গেছে...

তথাপি গর্জে ওঠে রাইফেল... 

সামান্য হৃদয়ে গর্জে ওঠা রাইফেলের কিছুটা কবিতার জন্য উৎসর্গ করা...

পরিবর্তিত ভাষায় কিছু বললে কেউ কেউ খুব রাগ করে...

যারা পরিবর্তিত ভাষার ওপর ধোঁয়া ছোঁড়ে, তাদের জন্য অসময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত...

অন্ধকারের বহু বৃষ্টিপাত...

অন্ধকার স্যাচিওরেটেড  হলেও অন্ধকার নেভে না...

ঘনঘন-রূপ-বদল-কোরে অন্ধকার বাড়ি বাড়ি ঘোরে...

তথাপি অন্ধকার ধরা পড়ে যায় কারো কারো তীব্র হাতে...

আমরা আলোকে সবসময় ডাকি অন্ধকারকে বগল দাবা কোরে...

অন্ধকারকে আলোর ভেতর ছেড়ে দিই...


আলোর ভেতর ডুবতে থাকা অন্ধকারের দৃশ্যটা ভাবো চিৎকারের বালাই নেই পুনর্জন্মের আশায়...

অথবা যে চিৎকারটি ওঠে তার কদরই আলাদা...

যতোই হাস্যোজ্বল চলি ধোঁয়ার প্রসঙ্গ এসে যাবেই...

ধোঁয়া এক অনন্য উপকরণ অপস্রিয়মান...

আগমনি গান গেয়ে ওঠা নিবিড় সাইকেল ভেসে যায় গভীর গুহায় ধোঁয়ার নিবিড়তায়...

এবং একটি সাইকেল বিশ্বভ্রমণ করে ধোঁয়ার মায়াময় রঙ দেখে...

প্রতিবেশীকে বলি তার চোখেমুখে সাইকেল উৎপাদন হতে পারে...

তথাপি অজস্র ডেয়ার-ডেভিল-ধোঁয়া সব ছিন্নভিন্ন কোরে দেয় সবকিছু...

এমনকি অনন্ত আকাশ ছিন্নভিন্ন করার খেলায় মেতেছে...

পাখিরাও চেনে সাইকো মানুষের গভীরে চলে যাচ্ছে চাপচাপ সন্ত্রাসবাদী ধোঁয়া...

ধোঁয়াময় সম্পর্কে বসবাস কোরতে কোরতে ভালোবাসাগুলো হাঁপিয়ে উঠছে...

ভালোবাসার ভিতরে আর সকালের হালকা নরম রোদ নেই....

ভালোবাসার সঙ্গে কুলকুল ছায়ার আর কোনো সম্পর্ক নেই...

উড়ে উড়ে যাওয়া পাখিসবের রব নেই...


সরল হাসিকে জটিল বাক্যে পরিণত করা যায় ধোঁয়া মাখিয়ে...

এবং সরলতা ভাঙ্গিয়ে কিছু লোক মই বেয়ে উঠে পড়ছে যৌগিক অন্ধকারে...

এবং মানুষের মধ্যে অনেকেই জানে অন্ধকারের কাছে আত্মসমর্পণ করা কতো সহজ...

এবং যেকোনো ভাষায় অন্ধকারের প্রচুর প্রতিশব্দ আছে...

তথাপি মানুষেরা কেক খায় মদ খায় বারবিকিউ তৈরি করে...

তথাপি মানুষেরা প্রতিদিন ভোরে তিরিশ কিলোমিটার সাইকেল চালায়...

তথাপি মানুষেরা লাফিং ক্লাবে নাম নথিভুক্ত করে...

তথাপি শেষ হয় না যুদ্ধকণ্ঠ অন্ধকার এবং ধোঁয়ার সহজপ্রাপ্যতা....

ধর্মের ডেরাগুলো থেকে কেবল বিষাক্ত ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে...

যাকে গুরু মানা হয় তিনিও গভীরভাবে ধর্ষণপ্রবণ...

একের পর এক শতাব্দী পার হলেও ধর্ষণগুলো হয়ে উঠছে নিবিড়তম...

ধর্ষণ আর ধোঁয়া উভয়েরই জন্ম অন্ধকারের ভেতর...

আমাদের খেলনাগুলো, প্রেম গুনগুন সুন্দর চিরুনি জামায় মশলা ভর্তি পকেট...

অন্ধকারের ভেতর আরো বহু শিল্পসম্মত বিষয়ের নামধাম ডুবছে...

তাদের আলো ডুবছে, ডুবছে তাদের ভবিষ্যৎ...


কিছুদূর খেলার পর অতিবিপ্লবীও অন্ধকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে...

পেট 'রে অন্ধকার খেয়ে কতো মানুষ বিরাজ কোরছে শহরে...

শহরের সঙ্গে চাঁদের সম্পর্ক নষ্ট কোরছে পলিটিকাল পার্টিগুলো...

মর্নিং ওয়াকের সময় শিশির বিন্দুর আলো আর চোখে পড়ে না...

শিশির বিন্দুগুলোকে ধোঁয়ায় মুড়িয়ে জটিল খেলায় জড়িয়ে যাচ্ছে জাদুবাস্তবতা...

ঘরে বাইরে নতুন রাক্ষসের গন্ধ...

নতুন রাক্ষসকে ভালো কোরে চেনা যাচ্ছে না...

বুঝতে পারছি না নতুন রাক্ষসগুলো আমাদের ভালো কোরবে নাকি খারাপ কোরবে...

কেউ বলছে এই সেই রাক্ষস যে অজস্র ছেলেকে লাশ কোরে দিয়েছিলো...

কেউ বলছে এই রাক্ষস সেই রাক্ষস নয়...

রাক্ষসের মানে রাক্ষস নয়, রাক্ষস মানে খোক্কস নয়...

তথাপি এ্যাতো মানুষ নিরুদ্দেশ হয়ে যাচ্ছে কেন, রাক্ষস জানে না...

তথাপি এ্যাতো ধর্ষণ কেন, রাক্ষস জানে না...

অনেকে তো দেখছে ধোঁয়ার ভেতর মিলিয়ে যাচ্ছে রাক্ষস...

অনেকে তো দেখছে ধোঁয়ার ভেতর থেকে গল্প শোনাচ্ছে রাক্ষস...

আমরা বুঝতে পারছি না কিভাবে রাক্ষস, ঈশ্বর হতে পারে...

কিভাবে ঈশ্বর, রাক্ষসের রূপ ধরতে পারে বুঝতে পারছি না...

ঈশ্বরের নামে ঘটানো সন্ত্রাসগুলোর কোনোটাতেই ঈশ্বরের সমর্থন নেই...

অথবা ঈশ্বর এখানে নেই, আছে অন্য কোনোখানে...


এখানে যদি ঈশ্বর থাকেন, তবে এ্যাতো ধোঁয়া কেন আছে...

এখানে যদি এ্যাতো ধোঁয়া থাকে, তবে ঈশ্বরকে বসাবো কোথায়...

আমরা এক্সট্রা টকটাইম চাইছি, অতোশতো বুঝি না...

এও জানি ধোঁয়ার মধ্যেই কোথাও খেলা কোরছে এক মানুষ, হয়তো সে গোডো...

আনলিমিটেড টকটাইমে গোডোর সঙ্গে প্রচুর কথা হয় আমাদের...

যথাবিধি কথা হয় অনন্ত সকালে বিকালে...

ছিদ্রহীন অন্ধকারে হাইটেক ডিকশনে ধোঁয়াহীন লোককথার আয়তনটি বাড়তে থাকে...

অন্ধকার জালের ভেতর জড়ানো ধর্মীয় সন্ত্রাস বিষয়ে কথা হয়...

কথা হয় আর কোন কোন কাজ থেকে বাদ দেওয়া যায় অন্ধকার...

কোন কোন ধোঁয়া কতদূর উড়ে গিয়ে শত্রুকেও বিনাশ করে...

বিনাশিত হওয়ার আগে শত্রুরা আমাদেরও খুব কাঁদিয়ে চলে যায়...