নিখিলকুমার সরকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নিখিলকুমার সরকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

নিখিলকুমার সরকার-এর দীর্ঘ কবিতা


জল, তোমাকে... 

জল, কাকচক্ষু-মোহ পরিত্যাগ করো

এই কালখণ্ডে কেউই জলের আয়নায় নিজেকে দেখে না
তোমার প্রবাহে সাঁতার কাটে যারা, অবগাহনে মত্ত হয়
তারা কেউই তপস্বী নয়, ঋষিসুলভ উদাসীন পোশাক  
 আর নির্বিকার মুখোশের আড়ালে ওরা সবাই 
তমসা-বিহারী, সৌন্দর্য নিধনে উল্লসিত হয় 

  ওই যে — তোমার নির্মোহ নির্জনতায় 
পাশাপাশি বসে আছে ওরা —
একে অপরের ভেতর নিজেকে খুঁজছে, ওদের
তোমার অনন্তপয়ারের সঙ্গে যুক্ত করো, নতুন শব্দের 
আধার হয়ে প্রবাহিত হও, আর সংলাপহীন
 নয়, মুখরিত হও — নিজেকে উপচে তোলপাড় ঢেউ তোলো
বহুবর্ণ ঢেউ ওদের যুগলবন্দিশের নোটেশন হোক  

তুমি বাঁক নিয়ে মাত্রাবৃত্তের ঝুলবারান্দা থেকে দূরে 
যেখানে এসেছ — এ তোমার 
স্বপ্নের তপোবন নয়, হিংসায় উন্মত্ত নৃশংস 
শিকারিদের চারণভূমি 
এখানে তোমার ঘাটে জল খেতে আসা 
বাঘ এবং হরিণ — কেউই যে নিরাপদ নয় সেই সত্য কি 
জল, তুমি জানতে পেরেছ? জেনেছ কি
 এখানে আহুতিমন্ত্র নয়,  হুক্কাহুয়া 
যাপন-প্রবচনে রূপান্তরিত হয় 

শব্দের আধার, কবিতার উৎস তুমি যে শিকারিদের পাতা
 ফাঁদ হয়ে উঠেছ — এহেন বিচ্যুতি, আত্মবিচ্ছেদ 
তোমাকে মানায় না, ভাবতে পারছ কি? 
ওই কারা যেন কোনো কারণ ছাড়াই
কাকচক্ষু তোমাকে ঘোলা জলে পালটে দিতে চায়
ওদের পিছনে অপেক্ষা করছে তারা 
যারা ঘোলা জলে মাছ ধ'রে পরমানন্দ, যেন-বা 
মোক্ষলাভ অনুভব করে

আর মৃদুমন্দ সহজ-প্রবাহ নয়, অশান্ত-উত্তাল হও
তোমার বহুস্তরীয় রূপকথায় মাছ বাঁচুক মাছ হয়ে
জলের বাহিরে মাছ বাঁচে না ঠিকই 
জলও কি মাছ ছাড়া জল হয়ে উঠতে পারে? 
                           ***       ***     ***

জল, তোমার কি পূর্বজন্মের কথা মনে পড়ে, জন্মচক্রের
বাষ্পীভূত অনিশ্চিত অভিযাত্রাপথে
 বাংলা কবিতায়  অনুপ্রবেশ, কবিতার রহস্যময় স্পেসে
তোমার ও নাসেরের সেই চির-অসম্পূর্ণ আলাপচারিতা —
নান্দনিক উচ্চারণের চিরকালীন ভাষ্যগুলি, মনে পড়ে ? 

কিংবা মেঘজন্ম — ঋতুমুগ্ধ হাওয়ায় 
ভেসে যেতে যেতে খরাক্রান্ত প্রান্তরের আকাশে থমকে গেলে  
বুকে একফোঁটাও জল সঞ্চিত নেই, বৃষ্টি হতে না-পারার
তোমার অসহ যন্ত্রণা টের পেয়েছিল যে কবি 
তোমাকে বৃষ্টির শরীরে বিনির্মাণ করেছিল তার ছন্দভাঙা ছন্দের 
পাণ্ডুলিপিজুড়ে — সেই কবিকে অবশ্য 
তোমার মনে থাকার কথা নয়, তবে 

তাকে নিশ্চয় মনে রেখেছ — 
বিকেলের ছাদে নিজস্ব নির্জনতায়
অপেক্ষায় ছিল মেঘমল্লার মোডে, তুমিও অসময়ের শ্রাবণ হয়ে 
তাকে পরিপূর্ণ অবগাহনে নিষিক্ত করেছিলে 
সেই অভিসার-স্মৃতি, আনন্দ নাকি বিষাদ — কোন অনুভাবে
বহন করছ তুমি, জানি না, জানতে চাই এমনও নয়
যদিও এই নিয়ে নন্দনকাননের আনাচকানাচে বহুমাত্রিক ফিশফাশ কান না-পাতলেও 
কানে এসেই যায় 

আচ্ছা, তোমার দু-পাড়জুড়ে সাঁকো নির্মিত হয়েছে 
তারপরও ওরা মাঝির খোঁজ করে, কেনই-বা 
তোমাকে ছুঁয়ে থাকা নৌকোতেই ওদের 
পারাপার, এ বিষয়ে তোমার পর্যবেক্ষণ জানতে চাইলে 
তুমি কী বলবে ? সাঁকো ও নৌকোর সঙ্গে
তোমার সম্পর্ক-রসায়ন জানতে সত্যিই আমি কৌতূহলী 
মধ্যরাত্রিতে সাঁকো ও নৌকো ঘুমিয়ে পড়লে তুমি কি একাই 
শব্দহীন জেগে থাক, নাকি কক্ষচ্যুত
অবিন্যস্ত হলুদ নক্ষত্রটি নেমে এসে তোমাকে মহাকাশের নক্ষত্রযাপনের অশ্রুতপূর্ব কেচ্ছা শোনায়
                             ***   ***   ***

জল, ওরা চির-ব্যর্থমনোরথ, তোমার অতলে আত্মবিসর্জন দিয়ে
পুনর্জন্ম পেতে চায় কবিতার নতুন ভুবনে
ওরা এজন্মের সাঁতার ভুলতে চায় 
 তোমার সহজিয়া নির্লিপ্ত প্রবাহ ভুলতে দিচ্ছে না, অথচ 
আত্মবিসর্জনের সময় অতিক্রান্তপ্রায়, আর
 
বিলম্ব নয়, তুমি দু-পাড় ভাসানো তীব্র জোয়ার ডেকে আনো
প্লাবনের চোরাস্রোত আর ঘূর্ণির অব্যর্থ টানে
জীবন ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী মোহনায় বিপজ্জনক প্রতিধ্বনি হও 
আত্মবিসর্জনে উন্মুখ ওদের মুক্তির দিশারি 
প্রিয় হন্তারক হয়ে ওঠো 
ওরা আর কিছুতেই ওদের জন্মান্ধ শিবিরের 
বিষাদগাথায় ফিরবে না

সব মেঘই বৃষ্টি হয় না জানি, তবে এও জানি ---  
মেঘ ও বৃষ্টির দ্বৈত উচ্চারণে অজস্র নতুন শব্দ ঝরে পড়ে 
কবিতার শূন্যতায়, সে যা-হোক, দ্যাখো  
তোমার আকাশে একখণ্ড মেঘ মুচকি হাসছে,এখনই বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে --- তুমি শরীর ও মনের সর্বস্ব উজাড় করে 
স্বতঃস্ফূর্ততায় ওকে স্বাগত জানাও 
আলিঙ্গন করো, পূর্ণ চিত্তের নিত্য-আকুলতায়

সমর্পণের এক নতুন অধ্যায় রচিত হোক...   


পাদটীকা : সবাই বলাবলি করছে, ইতিমধ্যেই নাকি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়ে গেছে।          

রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০২৪

নিখিলকুমার সরকার-এর কবিতা

অনিত্য সরণি 

কাকচক্ষু হারিয়ে যাওয়া অভিমানী জল সমূহ প্রবাহ-চিহ্ন মুছে 
দূরে সরে গেলে, মাছেরাও বিষাদিত পাখনায়
রন্ধনপ্রণালী পেরিয়ে হারিয়ে যায় 

আত্মবিস্মৃত মোহজাল একাকী এলোমেলো পায়চারি করে 
পরিত্যক্ত তটে 

আমিষ-সাঁতার ভুলে ক্রমশ ধূসর হতে থাকে এই অনিত্য সরণি 

যশোদি থেকে যোজন-দূরের অস্পষ্টতায় ওই কারা যেন 
যশোদিকেই খুঁজছে, কোনও দিনই 
খুঁজে পাবে না জেনেও 

বিচ্ছেদশেষের শূন্যতায় সংগোপনে
বিরহ-উদযাপনে মগ্ন, বাংলাকবিতার চিরন্তন প্রেমিক-প্রেমিকা যত 

 

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

নিখিলকুমার সরকার-এর কবিতা

কুয়াশা ... 

সান্ধ্য কিচিরমিচির থেমে গেছে, ঘুমিয়ে পড়েছে সব পাখি ... 

বৃক্ষের দৃষ্টিতে বৃক্ষ দেখে নিচ্ছে ––– সবাই ফিরেছে কি না 
শীতের কুয়াশা নাকি পৌঁছে গেছে এই কলোনির
উদাসীন বাঁকে 
চির-রহস্যময় এমত কুয়াশায় পাখিদের 
নিজেকে হারানোর ভয় থেকেই যায়, বৃক্ষ জানে

কোনও ডালেই সদ্য বয়ঃসন্ধি পেরোনো সোনালিডানাকে তো
দেখা যাচ্ছে না ––– সে কি তবে পথ ভুলেছে 
ফিরতে পারেনি, নাকি ফিরতে চায়নি 
রোমাঞ্চকর নবীন কুয়াশার টানে বিদিশায়
উড়ে গেছে, উৎফুল্ল ডানায় 

মধ্যরাত্রি ... বৃক্ষ নিদ্রাহীন 

ঘরের ভেতর ঘরে ক্রমশ অস্থির বিনিদ্র অবিনবাবু
আত্মজা ফেরেনি এখনও, জানা যাচ্ছে 
তার অনির্ণেয় অবস্থান, অশনিসংকেতপ্রায় –––
পরিষেবা সীমার ওপারে, নট রিচেবল অচিন বাহির-কুয়াশায় 

 

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২

নিখিলকুমার সরকার-এর কবিতা

সিন্ধুদর্শন ... 


বিন্দু 
সিন্ধুদর্শনে যাবে , কিন্তু 
কীভাবে তা সম্ভব 
বিন্দুর হাত-পা , ধড়-মুণ্ড
কিছুই তো নেই
বিন্দুমাত্র 
অনুভূতিপ্রবণ অস্তিত্ব 
সম্বল করে কখনো 
সিন্ধু পৌঁছোনো যায় নাকি –––
এসব কথা আমরা ভাবছি 
বিন্দু ভাবছে না

সে নিজেকে নিয়ে 
পেরিয়ে 
পাহাড়-পর্বত-ঝরনাজল
মেঘলাপ্রদেশ 
জনপদ-নির্জনতা
অরণ্য-প্রান্তর... অবিচল
বিন্দু বিন্দু পায়ে
এগিয়ে চলেছে ওই –––

বিন্দুতে সিন্ধুদর্শন নয় 
বিন্দুর সিন্ধুদর্শন 
 অবিশ্বাস্য অভিযাত্রা –––
সন্ধ্যাকালীন ব্রেকিং নিউজ
কাঁপছে  উত্তেজনায় 
বিতর্কসভায় পথ ভুলে
ভ্যাবাচ্যাকা যত বিদ্বজ্জন 

আত্মবিসর্জন 
অথবা 
 নির্বাণলাভে পরমযাত্রা
নাকি
 নিছকই প্রমোদভ্রমণ 
বিন্দুর কী অভিপ্রায়
কেউই 
বুঝতে পারছে না ঠিক

মনোরমা টি স্টলের 
সন্ধ্যা পেরিয়ে যাওয়া 
স্ফীত কৌতূহল 
ক্রমেই বহুমাত্রিক... 

 

বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নিখিলকুমার সরকার-এর কবিতা

রুমাল 

 

মাত্রাবৃত্তে বাঁধা 

মঞ্চের আলোয়

রুমাল 

চোখের নিমেষে 

এক খাপখোলা 

দুরন্ত বেড়াল 

 

কয়েক মুহূর্ত প্রকট

তারপরেই

আত্ম-অতিক্রমণীয়

সেই লাফ --- 

অদৃশ্য, মঞ্চের বাহিরের 

আবহমান

অনন্ত পয়ারে... 

 

বিস্ময়ে ত্রস্ত দর্শক, 

মুহূর্তে সবার

পকেটে হাত 

হাতের মুঠোয় ধরেছে 

প্রাণপণ, যে যার 

নিজস্ব রুমাল, আত্মকৃত

অপূর্ণ অর্জন ---

 

চৌকোয় বিন্যস্ত

অস্তিত্বের কয়েক পরত 

 

শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০২২

নিখিলকুৃমার সরকার-এর কবিতা

রাক্ষস,  রূপকথার বাই-প্রোডাক্ট 

 

রাক্ষসের খিদে ... 

 

শরীরী কবি এগিয়ে আসে, 

ধরা দ্যায় 

আসক্ত রাক্ষস 

মুখ ব্যাদান ক'রে

কবিকে মুখের ভেতর 

পুরে নেয়, তার ল্যাজা-মুড়ো, 

বুক-পেট, হাড়-মাংস, রক্তরস

পরমানন্দে চিবিয়ে 

চেটেপুটে খায় 

কবির ছিবড়ে পড়ে থাকে 

তার ঘরের ভেতর ঘরে 

জগৎ-সংসার

কিছুমাত্র টের পায় না 

 

উদরপূর্তিশেষে

রাক্ষস থাকে না রাক্ষসে, 

অঘোরে ঘুমোয়

ঘুমের ভেতর 

রাক্ষসের স্বপ্নে নিত্য

কবির পুনর্জন্ম হয়, যদিও

ভাইরাল ওই জন্মকান্না

গৃহপালিত হলেও রাক্ষসের 

অ্যানড্রয়েড স্ক্রিনে 

পৌঁছোয় না

 

সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

নিখিলকুমার সরকার

 


আলো

 

কোম্পানিবাগানের আকাশে

ভোর আসে, আলো

স্বচ্ছ 

মখমল 

 

স্বচ্ছতার কোনও ধর্ম নেই, রং 

এককমাত্রার যুদ্ধ

অথবা

সুসমাচার

 

এবড়োখেবড়ো কলোনির ভোর

যোগচিহ্ন 

 ছড়ায় নিজেকে 

বহুমাত্রায়

 

হোঁচট খেতে খেতেও উঠে দাঁড়ায়

অসম্পূর্ণ ক্ষত-বিক্ষত

 যত অবয়ব 

লোককবিতায়