আফজল আলি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আফজল আলি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১

আফজল আলি-র ঝুরোগল্প


সংকট 

গল্পটা পড়তে পড়তে ঠিক ওই লাইনটাতে চোখ দাঁড়িয়ে গেল । এত নিখুঁতভাবে কী করে বললেন বিষয়টা। জীবনের এই সত্যটা এখন হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারছে স্যামুয়েল।  তার সব আছে, তবু মনে হয় এক বিরাট শূন্যতা প্রতিদিন গ্রাস করতে চায়।  এর কারণ সে বোঝে কিন্তু সুরাহা করা যাচ্ছে না।  একমাত্র বন্ধু ম্যাক্রোর সাথেই এ বিষয়ে আলোচনা করে।

সেদিন ম্যাক্রো বলল -  জীবনের মনস্তত্ত্বে এই বিষয়টা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে প্রকৃত পক্ষে একটা মনের মানুষ পাওয়া খুব কঠিন। আমরা সবাই খুঁজছি, কিন্তু পাচ্ছি না।  আবার পেলেও তা স্থায়ী হয় না।
তবে স্যামুয়েলের ক্ষেত্রে এই সংকট আগে এতটা ছিল না।  ইদানীং কী যে হয়ে গেল, চিন্তার পথটাই গেল পাল্টে।  যে ভাবনা একসময় গুরুত্বহীন ছিল এখন যেন  চেপে বসেছে। জীবনের সুরাহা তাকে করে যেতেই হবে।  কিন্তু এ পথ খুব সহজ নয়।

আবার কঠিন  ভাবলেই কঠিন, যে কোনো বিষয় কঠিনই হয়ে ওঠে। তাই সহজ করে ভাবাটাই অধিকতর শ্রেয় বলে মনে করছে স্যামুয়েল।  এরিনাকে সব কিছু খুলে বলেছে, এমন কোনো দিক নেই যে এরিনা জানে না।  এত অকপট সব কিছু জানানো, আগে সে কাউকেই পারেনি। কিন্তু  এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।  এরিনার সাথে যতক্ষণ থাকে মনে হয় সে ভালো থাকে । হৃৎপিন্ড কি এত কিছু বুঝতে পারে , হয়তো পারে । না হলে এরকম অনুভূতি হয় কেন। অদৃষ্ট পাল্টে যাওয়ার মতো মানুষের লক্ষ্যও  পাল্টে যায়।  এরিনা কি তবে লক্ষ্য হয়ে উঠল।

পিচরাস্তা দিয়ে যে মানুষগুলো যাচ্ছে তাদের বক্তব্য হল বেহাল রাস্তা নিয়ে।  খারাপ রাস্তা পথচারীদের মনের উপর তীব্র প্রভাব ফেলে , একটা নেগেটিভ এটিচুড কাজ করতে থাকে মনের মধ্যে,  একটা তীব্র বিরুদ্ধ অবস্থান।  ভীষণ রাগ জন্মায় মনে এবং তার এফেক্ট পরে শরীরে । অথচ যখন এক্সপ্রেস ওয়ে দিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে যায় স্যামুয়েল তখন অদ্ভুত এক ভালোলাগা জড়িয়ে ধরে, তখন এরিনার কথা মনে আসে। রাস্তাও যে মানুষের উপর প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে চায় এমনটা আগে কখনও ভাবেনি স্যামুয়েল।  আমাদের দৈনন্দিন ঘটনা আমাদের মনস্তত্ত্বের উপর নানাবিধ টানাপোড়েন সৃষ্টি করে আমরা টের পাই কি।

এ বিষয়ে ম্যাক্রো বেশ অভিজ্ঞ, তার পড়াশোনা আছে । যদিও এরিনা অনেক ম্যাচিওর এ সব সম্পর্কে।  কিন্তু ওর কিছু সমস্যা আছে,  যা ওর ব্যক্তিগত জীবনে ছাপ ফেলে। স্যামুয়েল বোঝাতে চায়,  কিন্তু সে খুব জেদী আর রেগে যায় তাড়াতাড়ি।

কিছু কিছু কল্পনা এমন ধাওয়া করে তা পাল্টানো যায় না।
স্যামুয়েল ফোন লাগালো এরিনাকে
- কেমন আছো
- ভালো
- বলছি , ওই বিষয়টা নিয়ে কিছু ভাবলে
- সেভাবে ভাবিনি  , আমি আছি তো
-  সেটা ঠিক , কিন্তু---
- কী
- আচ্ছা ঠিক আছে পরে বলছি
ফোন রাখল স্যামুয়েল।  সে জানে ' আছি তো ' শব্দবন্ধ শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয় তা অনিশ্চিত।  আসলে এরিনা খুব অস্থির।  কিন্তু ভালো থাকার জন্য ওকেই চায়