নাসের হোসেন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নাসের হোসেন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

নাসের হোসেন-এর কবিতা


এইটুকু


মানুষের কাছে কোনো অঙ্গীকার  করিনি আমি — তাই

এই হাত নীল হয়ে আসে, বিষদীপ্ত হাত দেখে ভয় করে —

প্রতিটি আঙুলের মনে হয় কলমের নিব, কাগজে টেনে দিলে

বেরিয়ে আসবে তরল বিষ; আজ এইখানে আমার

অনাহার শুরু হল, যদি কিছু সুস্থ হতে পারি — অঙ্গীকার!

আমার সমস্ত শরীর নীল হয়ে গেছে, এই শরীরে আমি

মানুষকে ছোঁব না, যদি তার ক্ষতি হয়, যদি সে মরে যায় —

আজ শুধু এইটুকু অঙ্গীকার করতে পারি।  


রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

নাসের হোসেন-এর কবিতা

লোকোৎসব


মানুষটি মারা গেছে, সকলে তার মৃতদেহটিকে

ঘিরে রয়েছে, পাড়ার লোকজন, অনেক খুঁজেও

সেই জ্বলন্ত ঘূর্ণি-চাকতির কোনো হদিশ পাওয়া

যায়নি, স্টেজের উপরে শুরু হবে নতুন কোনো

পালাগান, আসলে যে-বান্দাই মারা যাক

বা লোপাট হয়ে যাক, রঙ্গমঞ্চের নাটক বা যাত্রা

চলতেই থাকে, সকলেই জেনে গেছে আজ সন্ধ্যায়

রামরহিমের মাঠে বিশাল লোকোৎসব শুরু হবে, চলবে দিন-সাতেক

 

শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪

নাসের হোসেন-এর কবিতা


এগারো লাইনের কবিতা 

স্কুলের বাইরে পড়তে এসেছে ছেলেমেয়েরা, স্কুলবাড়িটা

ভেঙে গেছে মুহুর্মুহু-বোমার আঘাতে, কে বা কারা ভেঙেছে

জানা নেই, হিংসা করলেই প্রতিহিংসা আছে এবং চলতে

থাকে, কখনো যা কোনোভাবেই থেমে যাবে না, এই অদ্ভুত 

প্রক্রিয়া, কেননা যে থামবে তার কাছে সেটা হবে খুব

লজ্জার বিষয়, মানুষ একে অপরকে খুব ঠাট্টা করতে ভালোবাসে,

বারবার কানের কাছে বলে, তুই পারলি না তুই থেমে গেছিস,

সে কী-সুন্দর হিংসা করছে, তুইও হিংসা কর, তা না হলে

সমানে-সমানে জমবে কী করে। ওই যে গাছ ওই যে প্রজাপতি

ওই যে পাতা-ফুল-ফল ওদের কোনো হিংসা নেই, ওরা

ওদের ভালোবাসার কাজ করে যাচ্ছে, চেষ্টা করছে, চেষ্টা করছে।


মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

নাসের হোসেন-এর কবিতা

মহিমময় শব্দ


এবারেও আমরা পারলাম না কিছুতেই —

কিছুতেই আমাদের হাত থেকে ঝরে পড়ল না

                           একটি নিটোল কবিতা

সকলকে জানিয়ে দাও শুনছো আমরা বেঁচে আছি

                          কেউ যদি বাঁচে তো বাঁচুক

আমাদের সর্বত্র অহিংসা!

অতঃপর ক্ষিপ্রতা থেকে লাফ দিক

                           রহস্যময়ী আলো —

রক্তাক্ত পৃথিবী থেকে ঝরে যাক রক্তাক্ত পৃথিবী —

যাবতীয় তীব্র জোনাক জ্বলে জ্বলে শেষ হয়ে যাক —

মানুষের ঠোঁটের থেকে ঝরে পড়ুক মহিমময় শব্দ

 

মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

নাসের হোসেন-এর কবিতা

খোঁজ 


হৃদয়ই তো সব

হৃদয় কাবা হৃদয়ই কাশী

মসজিদ মন্দির আমি ঠিক বুঝি না

মাটিই তো সব

মাটি ভাষা মাটিই জননী

মসজিদ মন্দির আমি কিছু খুঁজি না




 

রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০২৪

নাসের হোসেন-এর কবিতা

অবগুণ্ঠন


বৃক্ষের পাশে দাঁড়িয়ে আছে পা, চতুর্দিকে

ঝরে যাচ্ছে বৃষ্টি, অবিশ্রাম…

প্রতিটি মুহূর্তের মধ্যে বয়ে যায় হাড়গোড়, কার্বনকণা…

মাথার উপর আরো বেশি কানায় কানায় জমে ওঠে জল…

অন্ধকারে পিঁপড়েরা সারিবদ্ধভাবে বের হয়ে আসে –––

যেন স্মৃতি, স্মৃতির অবগুণ্ঠনে তেজস্বী স্তব্ধতা!

হায়, মানুষের কতরকম রূপ থাকে, কত পিচ্ছিল সাধ! 

 

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩

নাসের হোসেন-এর কবিতা

মানুষের


আমি প্রকৃত মানুষ নই বলেই হয়তো মানুষের কথা

                                                     বলতে পারি

তার খুব নিকটে নেই বলেই হয়তো ঝুঁকে আছি

                                        তার বুকের ভেতর

খুব জ্বর নাকি অসুখ দেখব বলে 

                                        আমি দাঁড়িয়ে রয়েছি

তাকে খুব ঘৃণা করি বলেই হয়তো দাঁড়িয়ে রয়েছি

                                       তার ঠিক পাশেই

আমার দিকে হাত বাড়ালে আমি সরে যাই আরো দূরে

                                        আমার নাম ধরে

কেউ ডাক দিলে আমি দু-হাতে চাপা দিই কান

আমার দিকে যখন কেউ ছুড়ে দেয় পারমাণবিক বোমা

                                        আমি লুফে নিই

তারপর লোফালুফি করতে করতে নিজেরই বিস্ফোরণের পর

                           মানুষের কথাই মনে পড়ে যায় খুব

 

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

নাসের হোসেন-এর কবিতা

অজানা

 

সবকিছু তোমাকেই দেখতে হবে, অন্য কেউ কখন

এসে করবে সে আশায় বসে থাকা তোমার পক্ষে

শোভা পায় না, একজন মানুষের অসীম ক্ষমতা

যদি তা সুন্দরের পক্ষে হয়, সুন্দরের পক্ষে

যেই থেকেছে মুহূর্তের মধ্যে হাজার-হাজার মানুষ

এসেছে পাশে, হাতে হাত লাগিয়েছে, অর্থাৎ

একজন মানেই অসংখ্য, সুতরাং এসো, হাতে

হাত লাগাও, বিস্তীর্ণ খেত শস্যের রঙে ভরে দাও।

 

শুক্রবার, ২ জুন, ২০২৩

নাসের হোসেন-এর কবিতা


খোঁজ

হৃদয়ই তো সব

হৃদয় কাবা হৃদয়ই কাশী

মসজিদ মন্দির আমি ঠিক বুঝি না

মাটিই তো সব

মাটি ভাষা মাটিই জননী

মসজিদ মন্দির আমি কিছু খুঁজি না