মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
রফিক উল ইসলাম-এর কবিতা
শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২
রফিক উল ইসলাম-এর কবিতা
যে তোমার সামনে হাত পেতে
যে তোমার সামনে হাত পেতে দাঁড়িয়ে,
এমনও হতে পারে, তার হাতে
অমাবস্যার চাঁদ জেগে আছে! অতি-সামান্য অনুদানে
ওই চাঁদ তোমারও হতে পারে। তোমার
কুঁকড়ে থাকা করতলে,
তোমার গোটানো আস্তিনের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকা
বহুকালের অন্ধকার
পুনর্নির্মিত হতে পারে অদৃশ্য কিরণে। তুমি যদি দু-পা
এগিয়ে যেতে পারো, সে হয়তো দু-হাজার পা এগিয়ে এসে
তোমার অবনত পৃথিবীকে
পুনরায় সঠিক কক্ষে ফিরিয়ে দিতে পারে।
এতসব অস্ফুট অনুকম্পা যার, সে আজ, তিনি আজ
তোমার সামনেই হাত পেতে দাঁড়িয়ে। এমনও হতে পারে
তাঁর হাতে কাবাগৃহের আলো জেগে আছে!
শনিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২
রফিক উল ইসলাম-এর কবিতা
ঈশ্বরকণা
পাহাড় যার আয়না, তার আলাদা কোনও
ঈশ্বর লাগে না। কোন সে সুদূর কৈশোরে
পাহাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছি, সাঁতার দিচ্ছি পাহাড়ে,
বিস্রস্ত বসনও ঠিকঠাক করে নিচ্ছি, পরিশুদ্ধ করছি
পাহাড়ে প্রতিবিম্ব দেখে। এখন তো ঈশ্বরই
আমার অনুকম্পায় বেঁচেবর্তে থাকছেন!
আমি বাপের পুত্র যেমন, মায়েরও পুত্র
তেমনই। এঁরা দুজন আমাকে ছুঁড়ে দিয়েছিলেন
দূরের পাহাড়ে। শুধু সাবধান করেছিলেন ঝরনা নামক
নারীটিকে নিয়ে। ঝরনা নাকি কোথায় যেন
ভাসিয়ে নিয়ে যায়! আর ভাসমান প্রতিবিম্ব
সত্যি কথা বলে না কখনও! আমি আমার
সত্যি ছবি দেখতে গিয়ে
পাহাড়ে পাথরে আছড়াই। আর গুঁড়ো হতে হতে
ঈশ্বরকণার সন্ধান পেয়ে যাই।
সমুদ্র যার এলোচুল, তারও আলাদা কোনও
ঈশ্বর লাগে না। রাত্রির বেণীবন্ধনে নেমে আসা
অযুত নক্ষত্রের গরিমায়
সে নিজেই ঈশ্বরী হয়ে ওঠে!
বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
রফিক উল ইসলাম-এর কবিতা
গ্রিল
বারান্দায় স্থাপিত হওয়ার আগে নীল শিখা আর
গলিত ধাতুর বন্ধু ছিলুম আমি। ওরা দুজন, দুরন্ত দুপুর
আর নির্মম হাতুড়িরা কত যে শিল্পরূপ শিখিয়েছে,
ভাবতে ভাবতে স্তব্ধ হয়ে গেছি। এই স্তব্ধতা ভাঙার নয়
কখনো। সমুদ্র পেরিয়ে, মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে
বাতাস ছুটতে ছুটতে আমাকে স্পর্শ করার আগে
পথ হারিয়ে ফেলে। উত্তাপ জমাট বেঁধে যায়।
কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে তুমি এখন
বাথরুমে। সেখান থেকেই চেঁচিয়ে উঠবে: মা,
খেতে দাও। এরপর আধভেজা ব্রা, শায়া আর ছোট্ট হাতরুমালটি
মেলে দিতে দিতে অল্প একটুক্ষণ আমাকে ধরে
দাঁড়াবে। নানারঙের উত্তাপে ঝলমলে হয়ে আছে
শরীর। সেসব দিয়ে তোমাদের যাবতীয় জলছাপ মুছে দিতে দিতে
আমি কি কখনো আর ফেরার কথা
ভেবে উঠতে চেয়েছি?


