মামুন মুস্তাফা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মামুন মুস্তাফা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

মামুন মুস্তাফা-র অনুবাদ কবিতা

জন ডান

সুপ্রভাত

বলো তো শপথ করে, ভালোবাসার আগে তুমি আর আমি কী করতাম?

তখন কি আমরা সত্যিই বড়ো হয়ে উঠিনি, হয়তো শিশুর মতো

তখনো গ্রামের ছোটো ছেটো আনন্দে ডুবে থাকতাম?

নাকি সময়ের কোনো অন্ধকার গুহায় হারিয়েছিলাম

দীর্ঘ ঘুমে, সাত ঘুমন্ত মানুষের মতো?

হয়তো তাই। কিন্তু এখন বুঝি,

ওসব আনন্দ ছিল কেবল কল্পনা।

আমি যদি কখনো কোনো সৌন্দর্য দেখে থাকি,

যাকে চেয়েছি, পেয়েছিও

সবই ছিল তোমারই স্বপ্নরূপ।


এখন আমাদের জেগে ওঠা আত্মাকে সুপ্রভাত।

তারা ভয়ে ভয়ে একে অন্যের দিকে তাকায় না;

ভালোবাসার জন্য, তোমার চোখ ছাড়া আর কিছুই

দেখার নেই। আর সবকিছু নিঃশব্দে সরে গেছে।

শুধু একটি ঘরই যথেষ্ট, এটাই পৃথিবী।


সমুদ্রপথিকরা নতুন পৃথিবীর খোঁজে যাক,

মানচিত্রে অন্য কেউ এঁকে নিক অন্য তেপান্তর।

আমাদের দরকার নেই সেসব। আমরা একটাই

পৃথিবী গড়ি। তুমি আর আমি।

প্রত্যেকের একটি পৃথিবী আছে, যেমনআমাদের।


তোমার চোখে আমি দেখি নিজেকে,

আমার চোখে ভেসে ওঠো তুমি।

কোনো ভনিতা নেই সেখানে

ওই দৃষ্টির ভেতরে দুটি নিখাদ মনের বসবাস।


এর চেয়ে সুন্দর আর কী হতে পারে?

আমরা কোথাও দুটো সমুন্নত অর্ধ-গোলার্ধ খুঁজে নিতে পারি

যেখানে থাকবে না নির্মম উত্তর, অথবা নুয়ে পড়া পশ্চিম।

অথচ যা কিছু মরে যায়, তা অসমতার ফলাফল।


কিন্তু আমাদের প্রেম যদি এক হয়,

যদি তুমি আমি একইভাবে ভালোবেসে থাকি

তবে কেউ সরে যেতে পারে না।

এই প্রেম অমর; কখনো মৃত্যু তাকে ছোঁবে না।


[জন ডান (১৫৭১ বা ১৫৭২ -- ৩১ মার্চ ১৬৩১) ছিলেন একজন ইংরেজ কবি, পণ্ডিত, সৈনিক এবং সচিব। তবে তাঁকে ইংরেজি কাব্যধারায় Metaphysical বা আধিভৌতিক কবিতার প্রধান কবি হিশেবে চিহ্নিত করা হয়। ১৭ শতকের ইংরেজ কবিদের লেখা এক ধরনের কবিতা, যা গভীর বুদ্ধিবৃত্তিকতা, জটিল চিন্তা, অদ্ভুত উপমা (Conceits), এবং বাস্তবতার দার্শনিক প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করে, যেখানে সাধারণ ভাষা যুক্তির মাধ্যমে আধ্যাত্মিক দার্শনিক বিষয়বস্তু প্রকাশ পায়। জন ডনকে ধারাার গুরুত্বপূর্ণ প্রধান কবি বলে মনে করা হয়।


জন ডানের কবিতার শৈলী আকস্মিক সূচনা, নানা বৈপরীত্য, বিদ্রুপ বিচ্ছিন্নতা দ্বারা চিহ্নিত হয়ে থাকে। তাঁর শুরুর দিকের কবিতাগুলো ইংরেজ সমাজ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান বহন করে। তাঁর কবিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল প্রকৃত ধর্মের ধারণা, যা নিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে চিন্তা করতেন তত্ত্ব নির্মাণ করতেন। তিনি ধর্মনিরপেক্ষ কবিতা লিখেছেন, পাশাপাশি ইরোটিক প্রেমের কবিতাও রচনা করেছেন। বিশেষত, তিনি মেটাফিজিক্যাল কনসিট ব্যবহারে দক্ষতার জন্য বিখ্যাত।] 

মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

মামুন মুস্তাফা-র অনুবাদ কবিতা


 মায়া আবু আল-হায়াত

দিবাস্বপ্ন 
আমি এমন একটি আনন্দের কথা লিখবো
যা জেনিনকে ছয় দিক থেকে আক্রমণ করে।
আমারি ক্যাম্পে শিশুদের বেলুন হাতে ছুটোছুটির কথা,
ওই আবেগমথিত বিষয়ে যা আস্কারে
সারারাত ধরে স্তন পানরত শিশুদের শান্ত করেছিল;
সামান্য সমুদ্রের কাছাকাছি-
তুলকারেমে আমরা যার উপর ও নিচ দিয়ে হাঁটতে পারি,
বালাতায় মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা চোখ সম্পর্কে,
কালান্দিয়ার চেকপয়েন্টে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকদের জন্য
একজন মহিলার নাচ সম্বন্ধে,
আজাউনে হাস্যরত পুরুষদের শরীরজুড়ে যন্ত্রণা নিয়ে;

এবং তোমার আমার বিষয়ে-
আমাদের পকেটভর্তি সমুদ্র-শেল ও পাগলামি
আর একটি শহর নির্মাণ প্রসঙ্গে।


পরাজয়ের সরণি 
আমি অন্যান্যদের মতো
পালানোর কথা ভাবলাম।
কিন্তু আমার পালিয়ে যেতে ভয় হচ্ছে,
যানজটপূর্ণ একটি সেতুর আতঙ্ক
এবং ট্রাফিক দুর্ঘটনা,
এমনকি একটি নতুন ভাষা শেখার।

একটি সহজ যাত্রার জন্য আমার পরিকল্পনা
অথচ একটি ক্ষুদ্র প্রস্থান:
আমার সন্তানদের একটি স্যুটকেসে নিয়েছি
একটি নতুন জায়গায় আমাদের যাত্রা।

দিকনির্দেশ আমাকে বিভ্রান্ত করে:
এই শহরে কোনো বন নেই,
মরুভূমিও নেই।
পরাজয়ের কোনো সড়ক তোমার জানা আছে
যা শেষ হয় না
একটি উপনিবেশেও?

আমি পশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা ভেবেছিলাম,
আনন্দদায়ক, বিকল্প হিশাবে
আমার বাচ্চাদের বৈদ্যুতিক খেলনার জন্য।
এবং কেউ অন্যকে বলি দেয়ার আগে
আমার বাস্তুচ্যুতির জন্য জায়গা চাই,
কেননা আমার সন্তানেরা বড়ো হচ্ছে,
তাদের বহুবিধ প্রশ্ন!
আর আমি মিথ্যা বলি না
এবং ক্ষোভও রাখি না।
যদিও প্রতিবেশীরা সবসময় নোংরা থাকে,
তবুও আমি তিরস্কার করি না
কিন্তু শত্রুরা হত্যা করে।

আমার সন্তানেরা বড়ো হয়
তবু কেউ এখনো চিন্তা করেনি
শেষ সংবাদ প্রচারের কথা:
ধর্মীয় চ্যানেল বন্ধ করে দাও,
স্কুলের ছাদ ও দেয়াল সীলগালা করো,
নির্যাতন শেষ।

আমি কথা বলার সাহস পাই না
কিন্তু আমি যা বলি তাই ঘটে
আর আমি কথা বলতে চাই না
বরং হারিয়ে যেতে চাই।


[মায়া আবু আল-হায়াত ১৯৮০ সালে বৈরুতে জন্মগ্রহণকারী ফিলিস্তিনি ঔপন্যাসিক, কবি, গল্পকার এবং অনুবাদক। লেবানিজ মা ও ফিলিস্তিনি বাবার সঙ্গে তিনি বেড়ে ওঠেন জর্ডানে। মায়া আবু আল-হায়াত তিনটি উপন্যাস এবং তিনটি কবিতা সংকলন প্রকাশ করেছেন। তাঁর বইগুলো বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে এবং তার কিছু গল্প বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। মায়া একজন অভিনেত্রী হিসেবেও কাজ করতেন এবং প্যালেস্টাইন রাইটিং ওয়ার্কশপ চালাতেন। তিনি শিশু সাহিত্যেও বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ২০০৩ সালে, তিনি নাবলুসের আন-নাজাহ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। জেরুজালেমে বসতি স্থাপনের আগে তিনি তাঁর পরিবারের সাথে আম্মান, জর্ডান এবং তিউনিসিয়ায় বসবাস করতে থাকেন। ২০০৮ সালে মায়া আবু আল-হায়াত জেরুসালেমে চলে আসেন এবং বর্তমানে তিনি তাঁর স্বামী ও তিন সন্তানের সঙ্গে এখানেই বসবাস করছেন।]

রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০২৪

মামুন মুস্তাফা-র অনুবাদ কবিতা

শেখা হালেওয়া

স্মৃতি 

দখলিকৃত বেদুঈন স্মৃতিতে আমার সব এলোমেলো।

যুবকটি বেশ ক’জন বালিকার বাগদত্তা হবার দাবি রেখেছিল
যে কিনা নিজ খেতে সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুততাড়িত হয়।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হবার পর সে যেন ফানুস হয়ে পড়েছিল।

সব সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও স্মৃতি আমার সঙ্গে প্রতারণা করে।
সে কি বাগদত্তা ছিল, নাকি বিলম্বিত আলো অথবা সবুজ মাঠ?
আমার স্মৃতিতে প্রতিটি বিষয় বিশদভাবে জাগিয়ে
তোলার অভ্যাস ছিল আমার মায়ের।
অবশেষে যুবক হয়ে গেল মাঠ, সবুজ হলো লণ্ঠন
আর আমার গ্রামে কখনোই আলো পৌঁছল না।


পরীক্ষা

আমার মায়ের জ্ঞানার্জন অনেক দেরি হয়ে গেছে
নাকবার সঙ্গে ঐক্যমতের ফলে,
আমরা কত বছর ধরে একত্রে বসবাস করছি- তিনি তা গুনছেন
এবং আমি আমার জিভ কামড়ানোর সময় একবার গণনা করি,
অকস্মাৎ কথায় কথায় তিনি আমাকে
বক্তব্য দিতে জোর করেন।

আমাদের মধ্যে বছরের পর বছর কোনো তফাৎ না থাকায়
তিনি আমার অনেক দিনের ক্ষোভকেও বিবেচনাই করেন না,
নাগরিকতা আমার ভবঘুরে জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে
এবং আমার ভাষাকে করে মার্জিত।

একজন নির্দয় শিক্ষকের মতো
তিনি তার পাঠ-অনুশীলন চালিয়ে যান
যার অবসরে যাওয়া বিলম্বিত হচ্ছে।
তিনি তার বাহুর নিচে লাঠি খোঁজেন
অথচ পাচ্ছেন না,
তাই তিনি কাঠের ডেস্কে আঘাত করেন:
“জাহান্নামে কোনো পুরুষের সঙ্গে, যে
তোমাকে কাঁদায়, তুমি কি বুঝতে পারো?”
অথচ পরীক্ষার আগে আমাকে উদ্ধারের জন্য
কোনো ঘণ্টা বাজেনি।


[
শেখা হালেওয়া একজন বেদুইন লেখক, কবি এবং শিক্ষাবিদ।  তিনি বেন-গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরব নারীবাদের একজন প্রভাষক। তিনি ১৯৬৮ সালে হাইফার কাছে একটি অচেনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং হাইফার নাজারেথ নানস হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি জাফাতে চলে যান এবং তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি হিব্রু সাহিত্যে বিএ এবং এমএ করার জন্য অধ্যয়ন করেন। তিনি শিক্ষাদান নির্দেশনাসহ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শিক্ষণ কর্মসূচির উন্নয়ন এবং পূর্ব জেরুজালেমের স্কুলগুলিতে শিক্ষাদান এবং পরিবর্তন প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার কবিতা এবং গল্প ইসরায়েল এবং আরব বিশ্বের ম্যাগাজিন এবং সাহিত্য ওয়েবসাইটগুলিতে প্রকাশিত হয়ে থাকে। তাঁর একটি কবিতার বই এবং ছোটগল্পের তিনটি সংকলন রয়েছে। শেখা হালেওয়ার কবিতা গল্প বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।]