অম্লান রায়চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অম্লান রায়চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪

অম্লান রায় চৌধুরী-র কবিতা


 ভুল করে চাওয়া

জন্মান্ধ আমি, বহুবার খুঁজেছি, সেই

চাওয়া অজানা আস্তানাটি ।

এক সময় রাত ঘোর মুছে যায় ---

কিছু অপূর্ব ভোরকে যাপন করতে

ইচ্ছা হয় ----

তাও ভালো লাগেনি, ঘোর কাটেনি,

কাছে গিয়ে দেখেছি যখন, অজানা

অজানাতেই আটকে রইল,

চাওয়া – কারণটা- প্রশ্ন তুলল,

আমি -  ঠিক চাইলাম কিনা!

 

তাই আমার রাত ঘোর মোটেই মেটেনা,

বসে থাকি নতুন রাতের আশায়

সেটাও আসেনা।

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২

অম্লান রায়চৌধুরী-র কবিতা

কড়চা

 

ক্ষণিক সুখে, দুঃখ মেনে, মনন বেচার কারবারে

শোষক খোঁজে, আঁচ বাঁচানো, বর্ম দেওয়া আস্তরণ

শাসন চলে, শরম লুটে, বেপরোয়ার হাত ধরে

আর্তনাদের, বন্দীদশায়, বদল হচ্ছে বন্দী মন

 

ধর্ম হলো, ফাঁকের ঘরে, ফোকরের ঐ আঁতুড় ঘর

শরীর ভেজায়, ধর্মস্নানে, নীতির কালো কুঠরীতে

শরম তবু, বাঁচাতে চায়, লজ্জা ছাড়া সেই প্রহর

বদল দেখছি, মন পাহাড়ায়, সাগর ঢেউয়ের ঝাপটাতে

 

হাতের তালুর, রক্ত রঙ্গ, বোধ হারা ঐ মসনদে

বদল আসে, হাত বদলের, মিথ্যে মেকী গহ্বরে

নীতির দোহাই, পানসে লাগে, নিশিডাকের শেষ পাদে

খোলাম কুচি, ওড়ানোটাই, গিলছে সবাই প্রাণ ভরে

 

শ্বাপদ সুখে, হাত পাকিয়ে, অগ্রদাণীর গহ্বরে

বিরুপতার, আভাস কেনা, সহজ মনে হয়

নীতির অভাব, দুর্নীতি তাই, পেখম মেলে ওড়ে

নতি স্বীকার, অসম্মান নয়, অজানা বোধ হয় 

 

বুধবার, ১ জুন, ২০২২

অম্লান রায়চৌধুরী-র ঝুরোগল্প

সময়

: আপনার গল্প  বলা কি এখন শেষ?

: নাতো। গল্প কি এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়? গল্পের ডাল আছে, পালা আছে, শাখা আছে, প্রশাখা আছে।

: তাহলে চুপ হয়ে গেলেন যে?

: নিস্তব্ধটাও কিন্তু এক ধরণের গল্প।

: এটা আবার কেমন?

: এই ধরো, তোমার  চেহারার চলন, ফলন, দেখে আমি পরবর্তী ঘটনাটা কল্পনা করি, তাই নিস্তব্ধতাই আসল শক্তি  --

: তার মানে আপনি স্বতঃস্ফূর্ত নয়  - বুঝে শুনে এগোন । সেই সময় বুঝে, ভাষা বুঝে, নিজেকে সামলান – ওটা কি সত্যিই গল্প হলো।

: কেন, ওটাই তো গল্প। কেন আমি নিজের মনন কে চাপ দেব, ওটা তো লীজ দেওয়া আছে সভ্যতার কাছে – দন্ডী কাটা আছে, পেরোলেই রাবন আসবে । কেন যাব বলো । তাই তো ঘটনা খুজি, শুধু খুঁজিনা – দেখি – দৃশ্য হতে দেইনা।

: তাহলে আপনি কি এতক্ষণ কল্পনা করছিলেন না । দেখছিলেন  -- দৃশ্য আমি জানতে চাইনা       দেখাটা বলুন  অন্তত।

: হুম! তবে সরি।

: এতে আবার সরি কেন?

: আপনার অনুমতি না নিয়ে কল্পনায় আপনাকেও যুক্ত করেছি   -- শুধু দেখার আঙ্গিকে। দৃশ্য তো বলতে নেই, তাই বলবনা।

: কি কল্পনা করলেন?

: তাতো বলা যাবে না। কল্পনারা যতক্ষণ আলোহীন থাকে ততক্ষণ সজীব থাকে। আলোর দেখা পেলে কল্পনা তার সজীবতা হারায়।

: হেয়ালি রাখেন। যাকে নিয়ে কল্পনা করছেন সে যদি পাশেই থাকে তাহলে কল্পনার কি দরকার? রাত বাড়ছে।  

: আচ্ছা সেকেন্ডের কাটাগুলো এত দ্রুত যাচ্ছে কেন? এত দ্রুত?

: সকালকে ধরবে বলে।

: লাভ কি? সকালকে ধরবে বলে ছুটছে। সকালকে ধররে আবার দুপুরকে ধরতে যাবে। সেটাকেও ধরে রাখতে পারবে না। বিকেল হবে, সন্ধ্যা হবে। তারপর রাত। 

এই বৈচিত্রের কাছে আসার কি প্রয়োজন , যেখানে আমার দেখা ঠিক , দেখানো ঠিক , বোঝানোরও  কোনো সমস্যাই নেই – প্রান বাঁচাতে বুঝবে।

এরকমের শ্রোতাই তো চাই।  

: তাহলে সাবধানে থাকবেন আপনাকে যেন শ্রোতা হতে না হয় – সেরকম  নজর দারী আছে তো।

: নিশ্চয়ই আছে , আমার নিজেকে রাখতে হয়না, যারা আমায় ভাবায় , লেখায় তারাই রাখে নিজেদের স্বার্থে। আসলে কি জানেন, শ্রোতা হবে মৃত্যুর কাছাকাছি মানুষেরা – উপভোগ করতে চায় জীবনের শেষ সন্ধ্যাটা – ফল প্রতিফল কেউই আশা করেনা। চৌখস শ্রোতা কোথায়, ওরা তো আটকা – অন্য গল্পে --  

তাই সময়টাকে আটকে রাখতে চাই – সময়ের বৈচিত্র চাই না , আসলে কাউকেই ধরে রাখতে পারে না সময়, শুধু ছুয়ে যায়।

: আপনিও কি তাই সময়ের লেজ ধরে আপনার মনের মতন হবেন?

: ওটাই চাওয়া, তবে সেই শ্রোতাদের মিছিল আসবে কি – এই অল্প সময়ে।