সৈয়দ খালেদ নৌমান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সৈয়দ খালেদ নৌমান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

সৈয়দ খালেদ নৌমান-এর কবিতা


একজন কবি

কেননা একজন কবি কোনো রাষ্ট্র নন। নির্দিষ্ট
সুনির্দিষ্ট কোনোই ভূখণ্ড নেই একজন কবির। সৌরসংসারেও নেই, পৌর সংসারেও নেই। একজন কবি কম্পাসহীন কলম্বাস। যে রকম ধর্মের কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড নেই, সেরকম কবির নেই, কবিতার সেই। সৌর সংসারেও নেই, পৌর সংসারেও নেই। কবি ও কবিতার তাই নিজস্ব ভূখণ্ড নেই, ধর্মেরও তাই নিজস্ব ভূখণ্ড নেই। একজন কবি তাই চতুর্থ বিশ্বের নিঃসঙ্গ নাগরিক।


এটা রাখো বলে

এটা রাখো বলে সেই যে তুমি উধাও হলে আর এলেনা। রাখতে রাখতে ডান হাতে ফোস্কা পড়ে গেলে পরে পকেটে রাখি। তখন পকেটমারের ভয় হঠাৎ জ্বরের মতো জাপটে ধরে। চারদিকে সন্দেহ পূর্ণ লোকারণ্য দেখে ঘরে রাখি নিভৃতে। দরোজায় কড়া বদলাই, চৈনিক তালা আনি লৌহকঠিন। তবু জানালা ও অন্যান্য ছিদ্র পথ রয়ে যায় অরক্ষিত। যাকে দেখি, মনে হয় সে-ই জানে, গোপনে একটা কিছু নীরবে আগলে রেখেছি দুর্মূল্য কোনো রত্নের মতন। দেখো, তোমার সম্পদ পাহারা দিতে দিতে কী অনিদ্রার আগ্রাসন। প্রহরীর কাজ, জানি সে আমার নয়। এটা রাখো বলে সেই যে তুমি উধাও হলে, কতোকাল রাখতে হবে, সে সম্পর্কে কিছুই বলে গেলেনা।


ইঁদুর

একটা ইঁদুর  রোজ রাতে আমার পায়ের কাছে ঘোরে! রোজ রাত ঠিক বারোটায়। আমি লক্ষ্য করি ইঁদুরের চোখে কোনো ভয় নেই, তাঁর সুকুমার চোখ রবি ঠাকুরের ক্যামেলিয়া কবিতার মতো নিটোল মনে হয়। সেই ইঁদুর বোজ রাত বারোটায় শরীরের ঘ্রাণ ভালোবেসে আমার পায়ের কাছে ঘোরে, ঠিক রাত বারোটায়। 

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২

সৈয়দ খালেদ নৌমান-এর কবিতা

রাত্রি আমাকে

রাত্রি আমাকে নিজের রূপ দেবে বলেছিলো
দিন বলেছিলো দেবে তার অহঙ্কার
 সময়ও বলেছিলো আমাকে মুহূর্ত দিয়ে সাজাবে; 
অথচ রাত্রির স্পর্শে আমি অস্থিরতা নিয়ে আসি 
দিনের মুহূর্ত থেকে তুলে নিই ইচ্ছা, বিষণ্ণতা 
সময় সমীপে আমি নিয়ে আসি মায়ামন্ত্র আর অক্ষমতা ...
সুতরাং আমিও নিয়েছি প্রতিশোধ,
রাত্রিকে ফিরিয়ে দিই নিদ্রার প্রবাহ 
দিনকে কর্মমুখর রাখি যতিহীন পঙ্‌ক্তির মতো –––
মৃত্যুর মতো এক আশা আর অভিলাষ তুলে দিই
সময়ের মুহূর্তের হাতে।

তবু সব ভ্রষ্ট মনে হয়,
বহু জীবনের মতো অমোঘ শূন্যতা নিয়ে 
শেষ বাতায়ন খুলে দিলে 
শরীরের কাছাকাছি এসে যাই;

জলের গভীরে ভাঙে রেখা,
কখন সমস্ত রেখা যেন একাকার হয়ে যায় –––
বাতায়ন রুদ্ধ ক'রে আমি প্রতিশ্রুতির দর্পণ
এবং দর্পকে চূর্ণ করি।