অমৃতেন্দু মণ্ডল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অমৃতেন্দু মণ্ডল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

অমৃতেন্দু মণ্ডল-এর কবিতা

 


দুঃস্বপ্নের দিকে

কাল মধ্যযামে সাংঘাতিক বিষ ফুলের মতো রাত্রিকে
ফুটে উঠতে দেখলাম, তার গর্ভ-কেশরের উপর দশ হাজার 
ভোমরার পা — আজকের দিকে হেঁটে আসছে 
সূর্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল তার আয়ু বিষয়ক 
তথ্যচিত্রটি নিয়ে বেশ চিন্তিত আর যে বাচ্চারা
বিশেষ ইউনিফর্ম পরে দিগ্বিদিক ছুটে যাচ্ছে 
 তাদের গন্তব্য সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে 
খেই হারিয়ে ফেলা টিচার ব্ল্যাকবোর্ডে আঁকা 
শূন্যের মধ্যে ডুবে যাচ্ছেন 
সফটওয়্যার ধরে বাঁচতে চাইছেন 

আকাশের গায়ে দগদগে ফাটল 
ছিঁড়ে যাওয়া ওজনস্তর থেকে 
ছুটে আসছে বেগুনি দানব 

ওয়ার-ফেয়ার-এ যদি মানুষের এত ভয় 
তবে এত যুদ্ধ কেন? পৃথিবীটা যে দুমড়ে যাচ্ছে
মানুষ কি বুঝতে পারছে না? মামুলি 'হায়' শব্দটা
না হয় নাই বললাম 
কিন্তু মানুষ, মানুষের কি হবে!

রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

অমৃতেন্দু মণ্ডল-এর কবিতা

মনখারাপ

মনখারাপ একটি গাছ 

মুখ দেখছিলো সরোবরে

দ্যাখে তার সহোদরা প্রতিবেশী আত্মীয়বন্ধু অনেকে  

তার মতো ঝুঁকে আছে জলে 

দেখে নিজের উপর হেসে উঠলো 

গাছটি বুঝলো তার মাটি বাতাসেই 

ঘুরে বেড়াচ্ছে মনখারাপের বীজ 


মনখারাপ  গাছটি সহসা দেখলো 

উদাসরঙের একটি পাখি খুঁটে খাচ্ছে সেই বীজ 

আর আকাঙ্ক্ষাবিষ্ঠা ত্যাগ করে ---

খুশির ডানায় উড়ে যাচ্ছে আকাশের দিকে 

আহা কি অদ্ভুত সেই মসৃণ উড়ে যাওয়া!

দেখে অবাক সেই গাছ 

নিজের জন্য একমুঠো 

সবুজ হাসি হেসে উঠলো।

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

অমৃতেন্দু মণ্ডল-এর কবিতা

মধ্যবর্তী অন্তরীপ

নৈর্ব্যাক্তিক ভার কোন গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে

ডলফিনের মতো ওই কাঁধ যা বহন করতে সক্ষম

বলে জানিসময়মতো পিছলেও যায় ঠিক


বোঝা না বোঝার মধ্যবর্তী অন্তরীপ

চারপাশে নীল জল মায়াঘোর

সেখানে এসে থেমেছে

হৃদয়-বোঝাই জাহাজ

 

দূরে-দূরে মেঘ ঘনিয়ে আসে সান্ধ্যবাতাসে

কান্নাপাওয়ানো সুগন্ধ ভাসে

একদিন যা ছিল

নতুন পাওয়া, নবীন কিশোরের

স্বপ্ন জাগানো প্রথম নিবেদন

 

আজ যখন ভাবিসবচেয়ে গাঢ়

গাঢ়তম স্বপ্ন স্বরূপে

দিগন্তে বাজে অপূর্ণের পদাবলী

রূপের অরূপের।

 

মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

অমৃতেন্দু মণ্ডল-এর কবিতা

সহজ কথাটি

এই বিষন্ন ছায়ায়

বৃষ্টির মুখ হয়ে ভিজে বাতাসের ছোঁয়া হয়ে

ভেসে আসে

রোমকূপের ঘাসে ঘাসে শিহর জাগায়

যেন-বা দীর্ঘ দীর্ণ দিনের শেষে

মেঘের ডাকে জেগে উঠেছে মরুভূমি

ভিতর বেরিয়ে আসতে চাইছে বাইরে

বাহির ভিতরে


ভাঙাভাঙা তোমাকে

ছেঁড়াখোড়া তোমাকে তখন

বৃষ্টির মুখ হয়ে ভিজে বাতাসের ছোঁয়া হয়ে

অনেক উঁচু থেকে সমতলে

নেমে আসতে দেখি

 

তখন সবচেয়ে জরুরি সহজ কথাটি

বলতে ইচ্ছে হয় তোমাকে।

 

রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০২৪

অমৃতেন্দু মণ্ডল-এর কবিতা

অন্ধের দর্শন

এক অন্ধ আর এক অন্ধকে রাস্তা পার করে দিচ্ছে

অবাক হওয়ারই কথা

হচ্ছি না

এরকমটা হয় জীবনে

একজন একদিকে দেখতে না পেলে

অন্যদিকে বেশি ভালো দেখে

শুনতে পারে ভালো আর একজন

দুজন মিলে পার হয়ে যায়

চলে যায় যেখানে যাবার

কোন বাধাই বাধা নয়

যদি লক্ষ্য স্থির থাকে 


দেখতে হবে দৃষ্টি কেঁপে না যায়।

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩

অমৃতেন্দু মণ্ডল-এর কবিতা

না

ভাতকাপড়ের কষ্ট, তার গা-বেয়ে জড়িয়ে ওঠা গান
আসুন গ্রে-হাউন্ড এসো হে স্পেনিয়াল
বকলেসহীন এই গানগুলো শুঁকে দ্যাখো

 না-জোটা ভাতের
না-সারা অসুখের চারাগুলো মাটিতে পুঁতে দেওয়া আছে
এই হলো আবহমানের মাটি
লক্ষ্য করো কিরকম অন্ধকার ফুটে আছে গাছে গাছে

বন্ধ-কারখানার চাবিহীন তালার ভিতর থেকে
খড়কুটো ধরতে না-পারা বেকার-রক্তের ভিতর থেকে
দীর্ঘশ্বাসে কলম চুবিয়ে
এই যে শব্দগুলো লিখলাম ––– এগুলো শুঁকে দেখুন
দাঁত ফোটাবেন না।

 

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

অমৃতেন্দু মণ্ডল-এর কবিতা

নিসর্গ চিত্র

মনখারাপের মতো নরম হয়ে আসছে বিকেল

তার ঠিক পাশেই আমার ঘর

ঘরের চুরমার দরজা, বিক্ষিপ্ত জানালা

 

এখান থেকে পাখিদের ঠোঁটে ঠোঁটে কথা দেখা যায়

শোনা যায় তাদের চোখের মর্মরতা


একটি মৃতপ্রায় রোদের হঠাৎ ঝুঁকে পড়া ...

বিকেলের পায়ের কাছে মরে পড়ে থাকে

কিছু পরে চাঁদ এসে কুড়িয়ে নিয়ে যায় তারে


সন্ধ্যার খোঁপা ভেঙে পড়ে ––– এলানো চুলের রাশি

তার ভেতর থেকে মৃত সেই আলোর দ্যুতি নিয়ে

আকাশে উঠে আসে চাঁদ

শুক্রবার, ২ জুন, ২০২৩

অমৃতেন্দু মণ্ডল-এর কবিতা

মেঘদূত
টেলিফোন টাওয়ারে ছলাকলাযাপন করছে মেঘ
তার নিচ দিয়ে ছায়ায় ছায়ায়
এগিয়ে আসছে একটি হৃৎকম্পন

কাছাকাছি আসতেই ঠিক যে মুহূর্তে
বিদ্যুচ্চমকের ভেতর বৃষ্টি শুরু হলো
ঠিক তখনই
এক ঝলক সুগন্ধি বাতাস অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে উদাসীন

এদিকে রঙিন ছাতায় বৃষ্টি
ছাতার নিচে বেসামাল ভিজে যাচ্ছে
কম্পন আর কথামালা

কথামালার পিঠে গজানো ডানা
বিদ্যুৎ মেখে আকাশজুড়ে উড়তে লাগলো
দেখে চাতক পাখিরা বলল
এতো দিনে আমাদের মতো হলে!
 

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৩

অমৃতেন্দু মণ্ডল-এর বিশেষ গদ্য

কবি নাসের হোসেন শ্রদ্ধাস্পদেষু 
এই বিশ্বসংসারে যতরকম কাজ আছে, যতরকম সম্পর্ক আছে,যতরকম শিল্প আছে ––– সবকিছুর মূলে রসের যোগান আসে ভালোবাসা থেকে।ভালোবাসা আসলে চালিকাশক্তি সবকিছুর আর এই ভালোবাসা আসে একাত্মতা থেকে, একাত্ম হতে পারলে তবেই ... । এই একাত্মভাবের জন্যে হৃদয়কে করজোড়ে দাঁড়াতে হয় অনুভবের কাছে, প্রথমেই দরকার তাকে। সে ঘুমভেঙে উঠে পাশে এসে দাঁড়ালে তবেই ...। একটি সাক্ষাৎকারে আমাদের প্রাণের কবি শিল্পী নাসের হোসেন বলেছিলেন, "কবিতালেখা বা যে -কোনো  শিল্পসৃজন মানুষের জন্য। এই মানুষ কারা? যাঁরা কবিতাটা অনুভব করেন, শিল্পটা অনুভব করেন। আমি ইচ্ছে করেই 'বোঝেন' শব্দটা লিখলাম না। কেননা অনুভব করাটা প্রধান ব্যাপার। তো, কবিতা বা শিল্প হচ্ছে যাঁরা এটাকে অনুবভ করেন তাঁদের জন্য।"  একজন শুদ্ধচিও মানুষ –––তিনি কবি হোন বা না-হোন শিল্পী বা না-শিল্পী যাই হোন না কেন মানুষকে তিনি ভালোবাসেন।মানবতায় তাঁর দ্বিধাহীন আস্থা ও বিশ্বাস।সত্তার প্রতিটি বিন্দুতে নিহিত থাকে স্বপ্ন। কবি নাসের হোসেনের  স্বপ্নভাবনাই তাঁর কবিতাভাবনা এবং সেই স্বপ্নসমূহ যেহেতু মানবিক-বার্তাই বহন করে,ফলে তাঁর সঙ্গে, আমরা যারা তাঁর কবিতার পাঠক, বিশ্বাস করি তাঁর সব স্বপ্নই গঠিত হয়ে থাকে কবিতায় প্রকাশিত হওয়ার জন্যে। এই বিশ্বের তাবৎ কিছু সতত পরিবর্তনশীল ।কোনকিছু এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না  শিল্পসাহিত্যের প্রবনতাও তদরূপ । পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপে নতুন বাঁক সৃষ্টি করতে করতে তার চলা।তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেকেও পুনর্নবিকরণ করে নিতে হয়। স্বীয়সৃষ্টিকে নির্মাণ বিনির্মাণ করে উপস্থাপন করতে হয় বর্তমানকালের কাছে | কার্যত ভাবনা ও দৃষ্টিকোন বদলে যায় এবং তা প্রকাশের ধরণ বা স্টাইলস্টাইলও বদলে যেতে পারে কারও কারও ––– অন্তত আমার পর্যবেক্ষণে তাইই মনে হয় কবি নাসের হোসেনের ক্ষেত্রে৷ 
তিনি প্রধানত স্যুররিয়ালিজম ধারার কবি৷ পরের দিকে নব্বইয়ের মাঝামাঝি থেকে তাঁর মধ্যে, তাঁর সৃজনপ্রক্রিয়ার মধ্যে এসে পড়লো পোস্টমডার্ন ভাবনা। এও বলা চলে উপরোক্ত দুটি ভাবনা একই সঙ্গে ক্রিয়াশীল থেকেছে তাঁর মধ্যে, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে। তার প্রতিফলন তাঁর কবিতায় দুর্লক্ষ্য নয় মোটেও। কিন্তু যেটি শেষ পর্যন্ত অপরিবর্তিত ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য হয়ে তাঁর মধ্যে থেকে গিয়েছে, তা অনেকটা হাওয়ার মতো অনুভববেদ্য। সহজ করে বলা, সহজ করে গভীর কথা বলা৷ তার মধ্যে থাকে নানা রকম স্তর, বহু বিচিত্র সেড তাঁর কবিতার মধ্যে, এমন কি একই শব্দ ও পংতির ভিতরেও থাকে বহুমাত্রিক আলোছায়ার মেধাবী কারুকাজ, মনোযোগী পাঠকের কাছে উন্মোচিত হওয়ার অপেক্ষায় ৷  কবি নাসের হোসেনের  সৃষ্টির গায়ে সুরভির মতো জড়িয়ে বহমান এক বোধ, কখনো  স্পষ্টরূপে কখনো-বা পরোক্ষে আভাসে ইংগিতে তা হলো 'মঙ্গলবোধ', মঙ্গলকামনা। তিনি চান সবার ভালো হোক। সবকিছুর  মধ্যে শুভবোধ জাগ্রত থাকে তাঁর অন্তরে। তিনি চান পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ সুখে থাকুক, শুধু মানুষ কেন ––– উদ্ভিদ মনুষ্যেতর প্রাণী পশু পাখি কেউ যেন কষ্ট না পায়।
বাস্তবত প্রত্যকটি মানুষ যাঁরা তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন,যেসব গাছ ,প্রাণী কুকুর বেড়াল পাখির সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছে, কেউই তাঁর স্নেহ ভালোবাসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়নি।এসবের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে তাঁর আকাশের মতো উদার ব্যাপ্ত,সমুদ্রের মতো গভীর রহস্যময় তাঁর জগৎ তাঁর সৃজনবিশ্ব।  একজন বড় মাপের মানুষ,সতত সৃষ্টিমুখর,মহৎ কবি নাসেরদার অতর্কিতে না-ফেরার দেশে চলে  যাওয়াটা (জন্ম: ২ জানুয়ারি ১৯৫৮ , মৃত্যু: ৯ ডিসেম্বর ২০২০) মন থেকে মেনে নিতে পারি না, কষ্ট হয়, চোখ ভিজে ওঠে।পাশাপাশি এও ভাবি ––– তিনি তো আমাদের মধ্যই আছেন, থাকবেন, তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে ৷

 

অমৃতেন্দু মণ্ডল-এর কবিতা

একটি অরাজনৈতিক কবিতা 

যদি বলার মতো তেমন কোনো কথা না থাকে

তাহলে আবহাওয়া নিয়ে কথা বলা যেতে পারে

আবহাওয়া খুবই নিরপেক্ষ

সত্যি আর অপরিহার্য

সুতরাং পক্ষপাতিত্ব মূলক নয় একেবারেই

সহজ অথচ খুবই রহস্যময়

নীতি রাজনীতি কোনো কিছুর মধ্যে নেই

অথচ সব কিছুর মধ্যে আছে

আবহাওয়ার মধ্যে 'হাওয়া' কথাটা তো আছে

ওতেই কিস্তি মাৎ

হাওয়া ঘুরছে

 হাওয়া ঘুরবে

এই কথাগুলো কি অরাজনৈতিক?

রাজার নীতি

অথবা

রাজার নীতির বিরুদ্ধে।