শৈবাল আদিত্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শৈবাল আদিত্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শৈবাল আদিত্য-এর কবিতা

খেরোখাতার খুচরো-কথা

১.
দৈন্য সুরে প্রেমধ্যানে মজিলে পরান কেটে যায়
নিকষ যত অথই আঁধার ঘনিয়ে ছিল মনে,
আবীরমাখা রাধাচূড়া ফুটেছে সখার খোঁপায়
দোলপূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে সাধুপাড়ার বনে৷

২.
তুমি যদি বা সরল নদী আমি নতজানু ভূমি
তোমাতেই ডুবে মরা ও পূণর্জাগরণ আমার!
অপেক্ষমান দিগন্ত আমি হেসে ওঠা সূর্য তুমি
ছুঁই না সখা হে, স্পর্শে গড়ি প্রেমের যৌথ খামার৷

৩.
তোমার মুখের মত লাস্যময়ী মুখরার বাণী
অন্তর চুঁইয়ে নেমে আসা অন্তরার অন্ত্যমিলে
আর স্মৃতির সঞ্চারী খুঁড়ে অভিমানের শুনানি
কন্ঠে বিরহপ্রবণ সুর; সুর জুড়ে তুমি ছিলে৷

৪.
কাছে গেলে যদি হারাই এই ভয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকি
চোখের আড়াল হলে সত্যিই মনেরও আড়াল হয় নাকি!
চোখে হারাই কল্পনায় দু'হাত বাড়াই তাই সংগোপনে
দেহে সন্দেহ যদি আত্মার এ দূরত্ব বল ঘুঁচাই কেমনে?

৫.
একই ছাদের নীচে পাশাপাশি শুয়ে থাকে দু'জন মানুষ
এক পুরুষ ও এক নারী, একে অন্যে ভাগ করে মন দেহ
হাসে ভালোবাসে জীবনের যত উত্তর মিলায় নিরঙ্কুশ
তাদের মাঝে অদৃশ্য জিজ্ঞাসা চিহ্ন হয়ে ঝুলে থাকে সন্দেহ!

৬.
তোমার জন্যে ঘর ছেড়েছি আপন এবং পর ছেড়েছি যে
পিছুটান ভুলে কাঁধব্যাগে তুলে পথ করেছি বসতবাটি
ভাটির দেশের মাটির পাখি পোষ মানালাম কৃষ্টিতে ভিজে
নমস্য হে বৈরাগ্য, তোমার মোহে সাধ-বিরহে উজান হাঁটি৷

৭.
তুমি আফ্রোদিতির হাসি তাই সখা আমি কৃষ্ণপক্ষের বাঁশি
পূর্বকোণে আমার উদয় পশ্চিমে অস্ত যাই তোমার কোলে
তোমার আগুনরূপ আমি নিশ্চুপ দাহকালের মৌনভাষী
অনাবিস্কৃত সভ্যতার মাঠে আমরা কি মিলবোই তাহলে?

৮.
রক্তাক্ত তর্জনী মুছবে তোমার সিঁথির সিঁদুর
কালো থাবা এঁকে দেবে ঐ কপালে কলংক-টিপ!
মলিন সজল চোখ শোকে হোক বেদনাবিধূর
তারুণ্য জেগে আছে, ভয় কী প্রিয় গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ??

৯.
বিজাতীয় থাবায় সময়ের চক্ষু চড়কগাছ
কোনো কোনো বিনিদ্র আঁখি তবু শেকড়ের সন্ধানে
মাতৃপ্রেমে মশগুল পাহাড়-নদী-সড়ক-গাছ
মানুষের প্রকৃত ভূগোল তার অতল পরানে৷

১০.
জ্ঞান-বৃক্ষের এক শাখে ছিলেন কনফুসিয়াস
অন্যগুলোতে কৃষ্ণ-মোহাম্মদ-সক্রেটিসের বাস
এমনি শাখা প্রশাখায় তাবৎ জ্ঞানী গুণীজন 
সে বৃক্ষের ছায়ার নাম - মানবতার অন্বেষণ!

 

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৩

শৈবাল আদিত্য-এর কবিতা

এ রকম কবিতা সহজেই লেখা যাবে

এ রকম কবিতা সহজেই লেখা যাবে
এ রকম কবিতার জন্য হয়তো প্লেটোও পস্তাবে...

না পেলেই প্রেম আর প্রাপ্তিটা কাম...গুণীজনে কয়!
তবে যে তোমার জন্য এ পরাণ এতটা উতলা হয়...
সই গো, তোমারে পাবো না তবু পস্তাবো না এ রকম ভাবি
তবু যে ক্যানো ইশ্ মন করে নিশপিশ...তোমার কাছেই চাবি
এই মন-দরজার৷ তোমারে ছাড়া আমি আমার ভেতরে কেমনে ঢুকি?
বল গো সখি...কি করে নেবো তবে এই অসম্ভবে বিরহের ঝুঁকি!
আমি তো আদিমপ্রেমিক এসেছি নির্ভিক; চর্যাপদের পৃষ্ঠা থেকে,
হেঁটে হেঁটে প্রাগৈতিহাসিক হিংস্রতা কাঁধে ক'রে পিছুটান রেখে...
তাই তো তোমার চিবুক, ওষ্ঠ আর খুব গোপনে লুকিয়ে রাখা নদী
আমাকে টানে স্রোতের পানে...ক'রে তোলে কামুক যোদ্ধা নিরবধি৷
সখি, চাষের চৌষট্টি কলা আর আনন্দের বীজতলা শিখে কৃষ্ণ-কৃষক
হাজার বছর পরে অনাগত অগোচরে বুনে দিয়েছি স্নিগ্ধ চন্দ্রালোক...
আর মুষল জোছনায় ভিজে ভিজে আমরাও নিজে নিজে হয়ে যাবো প্রেমময় বন্য,
বৃক্ষ ফলাবে ফল আর ফুলেরা শতদল...সখা-লতা ঠিকই খুঁজে নেবে উর্বর অরণ্য!

এ রকম কবিতা সহজেই ভূমিষ্ঠ হবে, অসংখ্য অনুভবে হবে দিনরাত!
এ রকম পদ্য থেকে দূরে...অন্য কোনো সুরে তোমার গান গাবো—
সনাতন ভেঙে-চুরে প্লেটোনিক হাঁটুরে কিনে নেবো পিরিতের সমস্ত খাত,
বহু তপস্যায় বারংবার তোমাকেই চেয়ে খুব কাছে পেয়ে পুনরায় নিঃশর্ত হারাবো...

 

রবিবার, ১ মে, ২০২২

শৈবাল আদিত্য-এর কবিতা

টোটেম 

 

কাঁটা বনে 'ড়ে আছে

এক খন্ড ছুরি এবং দ্বি-খন্ডিত ভুল...

ভীষণ জেদে ঘরছাড়া পথ সিজোফ্রেনিক ফুল!

অভিমানে ফড়িঙের বন ঘাস পাহারায় থাকি,

সার্গেই বুবকা হয়ে ওড়ে শূণ্যতাপ্রিয় পাখি৷

অনু-গ্রহ উড়তে উড়তে সুমঙ্গলে যায়...

দ্যাখো ক্যালেন্ডারে ঝুলছে নদী নগর আখড়ায়!

মায়ের মত স্মৃতিসৌধ আছে নগরপতি?

নেত্রকোণায় উঠেছে জেগে প্রাচীন সরস্বতী...

একটু একটু খরচ হচ্ছে গৃহযুদ্ধ-ঋণ;

আমার কানে মন্ত্রণা দ্যায় কাউবয় পুশকিন৷

 

দেশপ্রেমিক পাখি আর আহত মাশুল

কাটা বই- অমনোযোগী চোখ হয়ে 'ড়ে আছে৷৷

ঘোলাজল থেকে ফুল সেই সুযোগে

খাচ্ছে ডানামাছে...সিঁদুররঙা মাছে...