মোনালিসা চট্টোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মোনালিসা চট্টোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২

মোনালিসা চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা

দুব্বোঘাসের পুকুর ১৪

 

ভালোবাসা শুধু দিতে পারে বাতাস তরঙ্গে লীলাবক্ষ।

যে বুকে মাথায় মুখ ছোঁয় থেমে যায় কথা 

সে টানে আজন্ম টান তার কাছে –––

প্রকৃতি অমোঘ এই বোধ সৃষ্টিতে সীমান্ত চিনে নিক 

আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি প্রেমিক সৈনিক

নির্মাণের জন্য যেন কোথাও নিজেকে আমি 

নিয়ে যাই নিঃসংশয়ে ; সামান্য আমিও তবু 

কেমন নিজস্ব বাখ্যা আছে তৃণে

 

সব ঘাস জমিতে ফসল ফলে

ভালোবেসে অগ্নি জ্বলে

চিত্তে এমন দৃশ্যেও মানুষ কি মানুষের হয়ে থাকে

 

ভালোবাসা সত্য আর মিথ্যে দহন জ্বালায়

জন্ম মৃত্যুর অধিক; তাই যে প্রাণ ঘাসের সেই প্রাণ 

বৃক্ষ কিম্বা মানুষের 

যা মানুষ অতিক্রম করতে পারে না তার নাম 

ভালোবাসা যাকে আমি দুব্বোঘাস বলি

 

শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০২২

মোনালিসা চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা

অতীত  

ছুঁয়েও দেখো না আর ---
যদি মনে আসে ভুল করে,  মৃত্যু ভেবে নিও -- 
আঘাত যে যার তার , এক এক দিন অন্যরকম হাওয়া আসে, 
কোলেপিঠে মানুষের মা কোল পেতে বসে, ভালোবাসার আগুনে 
হাত পুড়ে বুজরুকি ছক্কাপুট ! 

মধ্যাহ্ন আঁচড়ে যদি ত্বক ছিঁড়ে দেয় মন 
সে অতীত ই বড় স্মৃতি 

মানুষের অবজ্ঞার ভার স্বার্থবিজড়িত খালকাটা 
কুমীরের মত ,রক্তাক্ত সর্বনাশ পুড়ে গেলে যাক, 
নিজের কাছেই বসি , হাত নখ মুখে যত ছায়া লেপে ছিল
আলো তার মৃত্যু শোনো অনেক আগেই তুমি! 

অনেক আগেই মৃত্যু নেচে বলেছিল ---
বল তুই কার? 

ভ্রষ্ট চাঁদ, সেতারের টুং টাং,
ঘড়ার শীতল কানা,
অসুখের দিনগুলি,
আত্মার অতীত নয় , তবু  বুঝে গেছি 
বাকী সব স্মৃতির অতীত পথ, 

কারা হেঁটে ছিল কোনদিন কোনপথে 
আজ সব ভুলে গেছি মানুষের ভন্ডামিতে, 

পদলেহিত ঘাসে লেগে থাকা হিম 
ঘরে ঘুমোনোর আগে কত মিথ্যে বলতে তাদের ! !

 

মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২

মোনালিসা চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা

এই ভালো  

 

ভীষণ ভালো থাকার নাম যদি একা হয়,

ঘন হিম অবহেলা ঋদ্ধ করে,

অবজ্ঞায় ধুয়ে ফেলি ঝিনুকের পচা পাক,

কলমির ডাঁটিজল, পানকৌড়ির বাঁকা চোখে

সময় চলেছে  জলজ পুরুষে কাঁধে

আপাত দৃষ্টির প্রেম শূন্য  -- এই ভালো

 

গিরগিটি সরে  যায় পাড় ঘেঁষে -----

 

ভালোবাসা চিনে চিনে মেয়ে বড় হয়ে গেলো

আমি গান হয়ে গেলাম বিভোরে

 

আকাশে হিমের ছোঁয়া জাগে 

চতুর্দিকে খেয়ালের বশ 

কে আর বশ! নিজের দিকেই রাখো আঙুলের তির 

 

জীবন আমাকে বহু চিনিয়েছে জীবনের ধার 

 

যা কেবল অত্যাশর্য সৌন্দর্যে অক্ষর ভাঙি 

 

একা একা পার হই মরু বরফ 

 

সঙ্গীহীন বাতাসের কেউ থাকে না 

যা থেকে থাকে গতি


 

শনিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২

মোনালিসা চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা

বাতাস ময়ূর 

 

প্রেমচক্ষু ছিঁড়ে নিই শিকলের ঘ্রাণ 

তাকে তুমি ভালোবাসি বলো 

আর কোন কোন জলে ঘুরে যায় কোন কোন বাতাসে ঘূর্ণন কাঁপে

বাতাস ময়ূর

 

এক একজীবনের প্রেম এক এক মানুষের ঘোরে 

ঘুরপাক খায় মানুষের মন মাথা বুক পিঠ।

চামড়া খুলেই দেখি রক্ত গড়ায় মনের মধ্যে

আঙুলে আঙুলে শ্বাস আটকে খুঁজছ আমি কার 

তুমি কার আমি কোথায় কখন

 

হারিয়ে যাবার পর আমি যদি তোমাতেই থাকি তবে 

তোমার তুমিও আমি আর তুমি হারিয়ে যাবার পর

যদি আমি তোমাতেই থাকি তুমিও আমার

 

তুমি আমি  দুই শব্দ সর্বনাম

এসব ছাড়াও যদি লিখি 

যদি লিখে ছিঁড়ে ফেলি সাদাপাতা 

কি নামে ডাকব বলো

প্রেম

ভালোবাসা?

 

বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১

মোনালিসা চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা


 সোহাগ ডিঙায় পলাশকুসুম

অবশেষে সাধ জাগে  প্রেমের  সোহাগ চায় 

অভিমানে ঝরায় একাঘ্নী বাণ শব্দে শব্দে --- 

কচি ঘাসে বীজধানে হাওয়ায় মিশে 

যেতে চায় চন্দ্রালোক ---

 

আমি দেখি আর ভাবি ক্ষতচিহ্নে কোনো 

অমতে  দেবোনা প্রেম

 

প্রেম কি গোলাম কারো

 

হাপিত্যেশ এক হাতিদাঁতে কারুকাজ দেখি 

আলটপকা লিখে বানানো ছবির রূপ দিতে গেলে সেটা কবিতা হয় না জেনো!

যে রূপ তোমার ছিল সন্তাপ রাখেনি হরি 

দুঃখ বেদনা বেঁধে নীরব বীণায় গাও গিরিধারী।

 

পলাশ ফোটাতে চাইলে আলো আগুণ ধুলি হবে তাই ডিঙায় বসেছ যদি পলাশ লিখো না ভুলে 

পলাশের প্রেম বলেই ভেবো না ক্ষমা

 

স্তাবকের হাততালি পেতে পেতে তুমি 

বসন্তেই মাটি খুঁড়ে বানিয়েছ রাধা 

আসল তো প্রেম তাকে আহত লজ্জায় 

লাল রেশমি কাপড়ে ঢেকে রেখো 

দূরে গেলে  অক্ষরে দেখি 

কুসুমবনের আমিষাশী জমি  রাতজাগা 

অতল জলের  এক কৃষ্ণপক্ষে গোপন  শিকারী।