জ্যোতি পোদ্দার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জ্যোতি পোদ্দার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০২৪

জ্যোতি পোদ্দার-এর কবিতা

খয়ের চুনে লাল ঠোঁট 

দুই ঠোঁট শিস বাজানোর মতো গোল করে
তুমি যখন পুচ্ করে মুখভরা পানের পিক

জানালা দিয়ে বাইরে ফেল তখন মনে হয়
চিলিক দিয়ে ধনুকের ছিলার মতো বেঁকে

লাল রক্ত সবুজ মাঠ রক্তস্নাত হয়ে ওঠে।
সবুজপানে খয়ের আর চুনে রক্তাক্ত মুখের

ঠোঁট লিপস্টিকের চেয়ে লোভনীয় মনে হয়।
খয়ের চুনে লাল ঠোঁটে কতদিন চুমু খাইনি!

আহা!লালে ভেজা নড়ে ওঠা গোল শিস ঠোঁট
পুচ্ করে ধনুকের ছিলার মতো বাঁকা করে

পিক ফেলার আগে একবার টোল পড়া গাল
দেখতে দেখতে আমার শুষ্কঠোঁট কর্দমাক্ত করি।

 

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

জ্যোতি পোদ্দার-এর কবিতা

শিরোনামহীন

পরতে পরতে ভাঁজ আর ভাঁজের পরতে পরতে

মিলে মিশে থাকে হাতের স্পর্শ

                    রোদের খিলখিল

আর বৃষ্টির ধারাপাতের

পতন গুঞ্জন।


কোন ভাঁজই আমি খুলতে চাই না।

আমি যে রুমাল ব্যবহার করি

এপিঠ ওপিঠে মুখ মুছে রেখে দেই।

                           নিভাঁজ করি না।


ভাঁজ খুললেই অনাদরের কাপড়ের স্তুপ।

ফাঁপা  পিচ্ছিল পাহাড়।


ভাঁজের ভেতর গিরিখাদ;

ভাঁজের ভেতর চোখ ঝলসানো বিষ্ময়।


এক ভাঁজের ভেতর বসে থাকে অন্য ভাঁজ

অন্য কেউ  সুরে নাচে

সবুজ আলোয়

ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে অথচ অন্য কোথাও....

 

সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২২

জ্যোতি পোদ্দার-এর কবিতা

মিহিদানা নুনঘাম

লোকটিকে ধরে ফেললাম।
তিনি দাঁড়ালেন।
তিনি দাঁড়ালেন না।

তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পা নাড়ছে।
একবার ডান
একবার বা পা।

ডান আর বামের গতি দেখে বুঝলাম
বহুদূর হেঁটে এসেছেন
                       আরো বহুদূর যাবেন।

তাঁর দাঁড়ানোর অভ্যাস নেই।
দাঁড়ানোর ভেতর হাঁটেন
অথবা হাঁটার ভেতর তিনি দাঁড়ান।

দাঁড়ানো আর হাঁটার মাত্রা ধরতে পারিনি
বলে লোকটিকে ধরেও
                      ধরে রাখতে পারলাম না।

লোকটি চলে গেলেন।
আমি স্থির দাঁড়িয়ে রইলাম।

ধুলার শরীরে একজন ঘর্মাক্তের মিহিদানা     
নুন ঘাম লেগে আছে।
ছপছপ ভেজা দাগ লেগে আছে।

 

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

জ্যোতি পোদ্দার


শিরোনামহীন

 

আমি কোনকালেই বইয়ের পাতা ভাঁজ 

করে রাখি না।

 

যখনই খুলি ঠিক নম্বরেই  খুলি।

অন্ধকারেও জানি কোথায় তালার নাভী

                         কোথায় দরজার ছিটকিনি।

চাবির ছড়া থেকে ঠিক ঠিক বের করতে পারি 

গোল নাভীর তালার  চাবি কোনটি?

 

ঠিক জায়গায় চোখ রাখি 

যেখানে আটকে রেখে গেছি চোখ।

চোখ খুব সন্তর্পণে জাগিয়ে তোলে 

আমার ঘুমন্ত চোখ।

 

বইয়ের কান মলে দিতে আমার ইচ্ছে করে না।

কানমলার কান গরম করা লাল লজ্জ্বা 

এখনও আমার পিছু ছাড়েনি।

বাঁধানো ফ্রেমের মতো ঝুলে আছে 

স্মৃতি দেয়ালে।

 

হাতের আঙুল নেড়ে নেড়ে বুঝি এই 

অক্ষর শরীর আমার নোঙর। 

 

 

এই আমার সগ্রাণতা।

এই কেঁপে ওঠা ঝংকৃত রক্তমাংস শরীর

ভারী গরম নিশ্বাসে 

                        দুলে উঠছে 

                                   ফুলে উঠছে

ভরাট শব্দের তলপেট।