হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রবন্ধ


শঙ্খ ঘোষ : তবু কিছু দাগ কেটে যায়  


কবিদের কবি শঙ্খ ঘোষের মেধা ও মননের সিগনেচার হয়ে  ধরা দিয়েছে সমকালীন বাংলা কবিতার ধারা ।সমসাময়িক কালে তিনি যে একজন  বিরল প্রতিভা সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
বিশেষতঃ মিথ ব্যবহার ও সমাজবাস্তবতার 
চেতনা তার কবিতাকে ভিন্নরকম মাত্রায় উন্নীত করেছেন ।নির্জনতাপ্রিয় এই কবির অন্ধকার থেকে আলোর দিকে সতত যাত্রা বহুকাল ধরে মুগ্ধ করে আসছে বাঙালি পাঠককে।
তিনি  নিজেই নিজের উপমা।তিনি কবিতায়
 আত্মগত,স্বগতোক্তির গাম্ভীর্যে অভিসৃত।
নিজ বৈশিষ্ঠে তিনি সমুজ্জল ।
প্রজ্ঞা ও প্রেরণা শঙ্খ ঘোষের  লেখার এক অনিবার্য
ইউ এস পি ।সেই সঙ্গে অনন্তকালের বুক ছাপিয়ে 
নাটকীয় চিত্রকল্পের বিভাস অনির্বচনীয় ।কবির যে কোনও কবিতা তার অন্তরাত্মার ছায়াকে প্রস্ফুটিত করে বলেই পাঠকের এত আগ্রহ, এত অনুভৱ ।
এই কবির কোনও  ঘুরপাক নেই, ঘুরপথ নেই ।

তিনি নিজেই একাধারে মিস্টিক কবি
অন্যত্র যোগী।শব্দে রূপকল্পে, চিত্রকল্পের বিভায় 
তিনি সমুজ্জল, চিরকাল অন ন্য ,অসাধারণ ।
সেল্ফ আ্যকচুয়েলাইজেশনের আড়ালে সত্যকে আবিষ্কাৰ করা কবির যেন দ্বায়িত্ব ।
নিজের গভীরে প্রতিবাদ ও ভালবাসায় মেলানো তার সমস্ত কবিতা ।আসলে এ সব ই প্রেমের কবিতা ।
মানুষ  তবু ও কিছু  প্রতিবাদ করে ,করে যায় ...
একসময় লিখেছিলেন তিনি. ..ধূম লেগেছে হৃৎকমলে.... ব ইতে।

..তিনিই বলতে পারেন নির্দ্বিধায়: 
...তিন রাউন্ড গুলি খেলে তেইশজন মরে যায় লোকে এত বজ্জাত হয়েছে /স্কুলের যে ছেলেগুলি চৌকাঠেই ধ্বসে গেল অবশ্যই তারা ছিল সমাজবিরোধী /ওদিকে তাকিয়ে দ্যাখো ধোয়া তুলসীপাতা /উল্টেও পারেনা খেতে ভাজা মাছটি এত অসহায় /আত্মরক্ষা
ছাড়া আর কিছুই জানেনা বুলেটেরা / দার্শনিক চোখ শুধু আকাশের তারা বটে দ্যাখে মাঝে মাঝে /..../
পুলিশ কখনো কোনো অন্যায় করে না তারা যতক্ষণ আমার পুলিশ ।.....

এই কবিতার নাম ,ন্যায়  অন্যায় জানিনে ।
১৯৯৩ সালে লেখা।একেবারে সরাসরি আক্রমণ ।ভাষা অতীব স্পষ্ট, অনুভব তীক্ষ্ণ আড়াল নেই কোথাও ।

এই ক্ষমতার আর এক অন্যরূপ ।লাইনেই ছিলাম বাবা কাব্যগ্রন্থের একটিকবিতায় দেখছি।

...ধরো কেউ নিজে থেকে দিতে চায়  সব তা বলে কি 
/বসে থাকা সাজে ?তাঁর টুঁটি ছিড়ে নিয়ে এসো কাছে /আমাকেই বলতে পারো ঈশ্বরের প্রথম শরিক /করতে পারি সব যদি সঙ্গে থাকে সপ্রেম বুলেট /ক্ষমতার উৎস থেকে  ক্ষমতার মোহনায় _যা বলো/সে কেবল ক্ষমতাকে দাপিয়ে বেড়ানো ক্ষমতায় /
এত ছোট খাটো কান্ডে কেঁদে কেটে মাথা হবে হেঁট/

চরিত্র ই নেই যার তার আবার ধর্ষণ কোথায়  ?


আসলে সমাজের এই ঔদ্ধতার মুখ  যেন আমরা দেখতে পাই।ক্ষমতাকে দাপিয়ে বেড়ায় ক্ষমতায় ।
খবরের কাগজের লাইন থেকে উঠে এসেছিল এই কবিতা  বিরাটিতে  ঘটেছিল এই ঘটনা ।ধর্ষিত হয়েছিল ঐ মেয়েটি ।কিন্তু সমাজ কি পাল্টেছে  ?পার্কস্ট্রিট থেকে কামদুনি হয়ে গাইঘাটা কাটোয়া ধূপগুড়ি কৃষ্ণনগর সব ই তো এক ই রকম চিত্র ।ক্ষমতার কোথাও কোনো রদবদল ঘটেনি।পীড়ন দমন চালোনোর মেশিনে পরিণত হয়ে।ক্ষমতা দেখিয়ে শৌর্য বোধ করে আনন্দ ও উল্লাসে ফেটে পড়ে।

এবং অদ্ভুত ব্যাপার এটাই যে তারা কেন ভুলে যায়  এটা চরম কাপুরুষতা ।
যেমন অন্য একটি কবিতায় :


....হাতে যে মুগুর দেখছ, এর গায়ে তেল মাখা আছে / মারলে লাগে না বেশি,মরে যেতে পারো সেটা ঠিক /কিন্তু সে তো স্বাভাবিক, মারবার জন্যেই মারে  লোকে! /শুধু এই !এর ই জন্য , মিথ্যে ওরকম ভয় পেলে /আমার কাছে না এলে, আমার কথা না শুনলে আজ/ আমি তো বুঝিনা তুমি কীভাবে বা হবে জনগণ!....

জনগণ শব্দটিতে এসে শ্বাস রূদ্ধ হয়ে আসে।
সহজবোধ্যতা থেকে এক দার্শনিক ইশারা ও সংকেত শঙ্খ ঘোষের কবিতায়  নিরন্তর যা কখনোই বাস্তবকে উপেক্ষা করে নয় ।
বিভিন্ন সময়ে বাংলা কবিতার শরীরের উপর দিয়ে 
হাংরি শ্রুতি নিম শাস্ত্রবিরোধী ইত্যাদি ইত্যাদি আন্দোলন হলেও মূলত কবিতার যে আবহমানকালের সুর তার কবিতায় উঠে এসেছে বারবার ।ছন্দ তার হাতের মুঠোয় ।যেন কথা কয় ।ছন্দকে মান্যতা দিয়ে তিনি ছন্দ ভেঙেছেন।মিথের ব্যবহারে তিনি সিদ্ধ হস্ত।উৎপ্রেক্ষা এবং চিত্রকল্পের সঠিক ব্যবহারের জন্য  অনেক বিদগ্ধজনের কথায় তিনি আসলেই কবিদের কবি ।এক ই সঙ্গে তার কবিতা সমস্ত আড়াল ত্যাগ করবার একটা মস্ত উদাহরণ হয়ে ওঠে।রবীন্দ্রনাথ একবার বলেছিলেন
আমার এ গান ছেড়েছে তার সকল অলংকার ।

কবির একটি অসাধারণ অতুলনীয় কাব্যগ্রন্থের নাম,আদিম লতাগুল্মময় ।সেই কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতা মালা ও পুনম।

...তোমার স্বাচ্ছন্দ্য দেখি ,দূর থেকে।
রঞ্জনেরা খুন হলে তুমি বলো ,মরেনি ও,মরেনি আমার ভিতরে বেঁচে আছে কাজের ভিতরে আছে, ধুলোর ভিতরে পায়ে পায়ে ...
লোকে বলে এ শুধু প্রতীক, জীবন জানেনি যারা ,তারা বলে ।
কখনো দেখেনি  তারা মালা বা পুনম  ?
তোমাকে দেখেনি কেউ  ? সেদিন বিকেলে 
মাথা ধরেছিল বলে পৃথিবী অসার মনে হয়েছিলো ?
দেখেনি কি সমস্ত ভারত আজ রক্তকরবীর ফুলে ভরে দেয় মালা বা পুনম ?

তোমার স্বাচ্ছন্দ্য দেখি দূর থেকে 
তোমার দর্প ও দেখি দূর থেকে 
যে জল তোমার চোখে ছিল না কখনো 
আমি সেই জল ভরে রাখি ঘটে ।


এইসব কবিতায় চলমান সময় থেকে চিরসময়ের দিকে এক যাত্রা অব্যাহত থাকে ।তাই এই কবিতার 
মধ্যে রক্তকরবীর অনুষঙ্গই প্রধান হয়ে ধরা দিয়েছে।
কবিতা  সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ শিল্প ।কবিতা কি,কবিতা কেন,কবিতার কি কোনো মানে আছে পৃথিবীতে।
ছন্দের অপর নাম বিন্যাস।ভাষার একটা কেন্দ্রাতিগ শক্তি আছে।আছে বহুত্বরূপ ,ও বিদিশাময়তার ধ্রুপদী ধ্বনিসুষমা ।অন্যক্ষেত্রে কেন্দ্রিভূত অবস্থা থেকে বেরিয়ে নৈর্ব্যক্তিক হয়ে  ওঠা।অনেক সময় ব্যক্তি কেন্দ্রিক ইগো সেন্ট্রিসিটির প্যারাডাইম শিফ্ট ঘটে কবিতায়।কবিতায় সত্যি সত্যিই কি কোনো মানে থাকে না ।
এই কবিই তার এক বিশ্বশ্রুত কবিতায় লিখছেন ;

...কোনো যে মানে নেই সেটাই মানে
বন্যশূকরী কি নিজেকে জানে
বাঁচার চেয়ে বেশি বাঁচে না প্রাণে ?

শকুন এসেছিস কী সন্ধানে 
এই নে বুক মুখ ,হাত নে পা নে 
ভাবিস পাবি তবু আমার মানে 

অন্ধ চোখ থেকে বধির কানে 
ছোটে যে বিদ্যুৎ সেটাই মানে 
থাকার চেয়ে বেশি থাকে না প্রাণে 

ছুটেছে উন্মাদ ,এখনো ত্রাণে 
রেখেছে নির্ভর, সহজযানে 
ভাবে সে পেয়ে যাবে জীবনে মানে 

বিভোর মাথা কেউ খুঁড়েছে শানে
কিছু বা ভীরু হাত আফিম আনে 
জানে না বাঁচে কোন বীজানু পানে 

কোনো যে মানে নেই সেটাই মানে 
কোনো যে মানে নেই সেটাই মানে 

মানে / শঙ্খ ঘোষ 
সরল একরৈখিক যে মানে হয় না সেটাই বলা হয়েছে এইসব কবিতায় ।
জীবন সহস্ৰ মুখে বয়ে চলেছে ।
কবিতাও তাই।
নিঃসঙ্গ মানুষের অনন্তকালের জিজ্ঞাসাই হল কবিতা।Endless quiery of a lonely fello.
কবি শঙ্খ ঘোষের প্রতিটি কবিতায় আছে বীক্ষণ ।একবার পড়ে তার বোধগম্যতার নাগাল পাওয়া যাবে না।বারবার পড়তে পড়তে হবে ।কিন্তু একবার যে শেষ পর্যন্ত রস পেয়েছে সে আর কোনো দিকে চোখ ফেরাতে পারবেনা ।এটাই তার কবিতার বিশেষত্ব ।এটাই তার কবিতার ইউ এস পি।
যারা তার কবিতার সঙ্গে সুপরিচিতি তারা জানেন এই অল্প পরিসরে তাকে ও তার রচনাকে ধরা কতটা জটিল ।নিশ্চয় বড়ো ফর্মে  তাকে ও তার কবিতার মর্ম গাথা আলোচনা করার একদিন সুযোগ পাবো ।ততোক্ষণে আমরা মুগ্ধতার এই ধারাভাষ্য বন্ধ রাখি।


রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা


সুদূর

প্রখর প্রতিবাদ আর ভালবাসায় মেশানো একটাও কবিতা লিখতে পেরেছো কি কোনোদিন. ..
ট্রেনে ধূপ বিক্রি করে যে মেয়েটা তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখেছো কখনো  সাতটি তারার তিমির ...
বরানগর বাস গুমটির জানলা দিয়ে টিকিট কাটছে যে ছেলেটি ,কাচের আড়াল থেকে তার চোখ দেখা যায় না ঠিক ই  কিন্তু  স্পষ্ট অনুভব করা যায়  
বাবার মৃত্যুর পরদিন সকালে সমস্ত আবেগ বিসর্জন দিয়ে এসেছে সে...
ট্রাক ড্রাইভার থেকে কারখানার ঠিকা শ্রমিক সব স্বপ্ন ভালবাসা জলাঞ্জলী দিয়ে ঘোর অন্ধকারে একা কেন ছুটে যায়...
জানতে চেয়েছো কি কোনোদিন... নক্ষত্র ‌মৃগশিরায় 
তোমার গালে কেন টোল পড়ে না আজ ?
ভ্রূকুটিহীন তোমার মুখের রেখায় স্নেহ সম্পর্ক গুলি বিলীন, কত কাছে ছিলে আজ কত না সুদূর...

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা

 

শবসাধনা

নিজের ভেতরে ভৈরবী আর মালকোষ

আগলে রেখেছো শিবরঞ্জনী ঝঞ্ঝা 

উঠে এলো যত কড়ি ও কমলে সব দোষ

তোমার সঙ্গে  মিল দিতে তবু মন যায়  
   
তোমার সঙ্গে  মিল দিতে তবু মন চায় 

রাগ জীবনের সব চেয়ে বেশি জরুরি 
আঘাতে আঘাতে রৌদ্রপাতের মহিমা 
পারাপারহীন ভেসে থাকে জিন পরী
শুদ্ধ নি এর সঙ্গে মিশেছে কড়ি মা

এমন ই তো হয় শেকড় ছড়ায়  মাটিতে

এমন ই তো হল তোমার আমার জীবনে 

কত সহজেই দেয়া নেওয়া সারা

স্বপ্নের মায়া তছনছ সম্পর্কের হননে 

পাথর তবে  কি গড়িয়ে গেছিল জলে
শাখা নেই তবু আঁকড়ে ধরেছি পল্লব 
ধ্রুপদ ধামারে এমন কথায় বলে
প্রতি মুহূর্তে খুঁড়ে খুঁড়ে দেখি সেই শব ...

আজ প্রতি মুহূর্তে খুঁড়ে খুঁড়ে দেখি সেই শব.......

মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা

 


মুক্তসময় 

ভাবভালবাসা তুচ্ছ ছিল
সম্পর্কটা মুক্ত ছিল, অনেকটা ঠিক
জন্ম জন্মান্তরের মতন ছিল
দিনকেদিন বদলে গেছে  
টিভি চ্যানেল ফ্রিজ মোবাইলতো ছিলনা তখন  
ফেসবুকে আর ইনস্টাগ্রামের কম্পিউটার ও 
ল্যাপটপটের পাস ওয়ার্ড কোথায় ছিল? 
তবুও অগ্নিসাক্ষী ছিল,ছিল মনের মতন 
ক্ষিতি অপ তেজ মরুৎ ছিল 
চু কিত কিত খেলাও ছিল ,পুজো ছিল পুজোর মতন
গাজন ছিল আ্যমেচারের যাত্রা ছিল 
হাসি হুল্লোড় রাসমঞ্চর অন্যতর জয়ের পাথর
আর কি ছিল পাড়ার খেলা 
তোমার আমার মধ্যে  ছিল ভালবাসার একখানি ঘর

এখন অনেক বড়ো হয়েছি আমরা সবাই 
যত্ন করে ভেঙে দিচ্ছি এ ঘর ও ঘর
অনেক দিন পরে আবার দেখতে এলাম
সেসব ঠিক আগের মতন আছে কি নেই  
মুক্ত সময়  .......

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা

সততার পক্ষে

সততার পক্ষে আজ আর কোনও সত্য নেই
শুধু আছে প্রত্যাক্ষান, কিন্তু কেন ?

কেন এত দ্বেষ, শুদ্ধ অপাপবিদ্ধ কোমলতার দিকে
পন্ডিতেরা যা বলেন,ক্লাসে যা পড়ানো হয়েছে

 জ্যোতির্গময় হে মাধব হে অথর্ববেদ 

তাহলে সব মিথ্যা, ঝুট ...আমরা ভুলে যাই সহজেই

একটি শিশুর মনে থরে থরে জমে ওঠে 
অকল্পনীয় ভালবাসা, সম্ভ্রম শ্রদ্ধাভাজন মণীষা 

বড়ো হয়ে সে যখন দেখে ভুল,এই সমস্ত বিচার ভুল
গভীর বেদনায় ছ্যাঁৎ করে ওঠে তার বুক 
বিস্মৃত এবং ভয়ঙ্কর এই দুঃখ প্রাকৃতজনের

ভুলতে সে বারে যায়,যৌনপল্লিতে যায়
অসৎ হ ওয়ার. তীব্ৰ আকাঙ্খায় ঝুঁকে পড়ে তার মন
শুকিয়ে যাওয়া ক্ষত উস্কে দিয়ে সে ভুলে যেতে চায়
সমস্ত শিল্প পুরনো বেদনাযন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয় ...
 
আকাশের বুকে বড়ো তারাটির মতো কিছু নয় ...

 

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা

মনখারাপ 

মনখারাপ করে কোনো লাভ নেই
ইয়ার, দোস্ত শান্তি খুঁজতে খুঁজতে 
এ কোন শান্তিকল্যাণ? 

আমরা  কেউ বেঁচে নেই
রক্ত  মাংসহীন শব,ঘুরে বেড়াচ্ছে রাস্তায়  ঘাটে
বোমা গুলি খুন ,মনখারাপের কোনো জায়গা নেই

তুমি বাঁচলে বাপের নাম
এতো পুরনো কথা সারভাইভ্যাল অফ দ্যা ফিটেস্ট
তুমি দাঁড়িয়ে আছো তবু নির্জন স্টেশনে 
শান্তির পৃথিবী দেখবে বলে
সেই  কবে থেকে একটা  যৌথখামার
মানুষ  মানুষের  পিঠে হাত রেখে বলবে
চালাও পানসি বেলঘরিয়া ...

 

শুক্রবার, ২ জুন, ২০২৩

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা

সঙ্গীত পরিক্রমা

আঙুরবালা অথবা গওহরজান কিংবা কে এল সায়গল 
আর তালাত মামুদের ঘুমের ছায়ায়
চাঁদের চোখে মনে পড়ছে,মনে কি পড়ে
বড়ে গুলাম আলি থেকে বিসমিল্লাহ
এস ডি বর্মন হেমন্ত মান্না লতা সন্ধ্যার 
সীমাহীন আকাশ সুমন কল্যাণপুর থেকে চৌরাশিয়া
হে সঙ্গীতের অনন্ত আকাশ তোমার অপরিচয়
তোমার নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও
আমি ঢুকে পড়েছি আর বেরোবার উপায় নেই
সবসময়য় দুঃখ ও বেদনা  নয়
অদ্ভুত সুন্দর আনন্দ উৎসবে সামিল করে তোলে 
সঙ্গীত, মহান গায়কদের যত নিষ্ঠুরতার কথাই
শুনিনা কেন সব কিছু সরিয়ে
তখনই এক বিমূর্ত এবং ভয়ঙ্কর সুন্দর
শ্বেতশুভ্র সরস্বতী সামনে এসে দাঁড়ায়
আমি পুরনো  বেদনা ভুলে যায় ..... 

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২

কবিতা : হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়

মনে পড়ে...

এখনো সে কথা মনে পড়ে আর স্নায়ু তরঙ্গ 
কাঁপতে থাকে...
আমার শরীরে তখন এক আকাশ ঝড়
এক আকাশ আগুন
আমার শরীরে তখন মেঘ ভাঙা বৃষ্টি
এক সমুদ্র  গরল ....
মনে পড়ে আর কেঁপে কেঁপে উঠি
সে সব স্মৃতি
সমস্ত ধুয়ে মুছে গেলেও
এখনও কিছু রয়ে গেছে আদমসুমারিতে যা ধরা পড়ে

প্রেম বলে
 কিছু ছিল না তখন 
ভালবাসা আবিষ্কার হয় নি
পুরুষ বা রমণী তখনও আ্যমিবা হাইড্রা কিংবা
প্লাটিহেলমিনথেস....
স্বপ্নেও
 সেকথা মনে পড়লে এখনো স্নায়ু তরঙ্গ কাঁপতে থাকে, 

ভেঙে পড়ে সমস্ত কান্নার ট্যাঙ্ক
অশ্রুথলী ..পাখিদিবসের গান ...

 

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা

বারের খেলা

হঠাৎ নেলকাটারের বদলে তরমুজ কাটার ছুরিটি
শূন্যে ছুঁড়ে দি
ঘুরতে ঘুরতে নেমে আসে, আলোয় চকমক করতে করতে

বৈকালিক চায়ের টেবিল জুড়ে তখন স্তব্ধতা
মা মেয়ের কান ঘেঁষে বেরিয়ে যায়
আমি নিজেও আতংকিত তবু নিজেকে খুব স্মার্ট গাই
প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে বলি 
এই সেই বারের খেলা
অলিম্পিক সার্কাসে ,আমাদের সময়...
মেয়ে ভয় কাটিয়ে উল্লসিত হয় ,হাততালি দিয়ে ওঠে
মেয়ের মা কিন্তু বোঝে নিষিদ্ধ পিপাসা একেই বলে

আমি বিষন্ন উটের মতোই মেয়ের কানে কানে
ফিসফিস করে বলি
অর্জুনকে প্রথম অস্ত্র চালনার শিক্ষা গুরু
দ্রোণাচার্য ঠিক এভাবেই দিয়েছিলো ...

 

বুধবার, ১ জুন, ২০২২

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা

অন‍্যায়
তোমাকে দেখেছি কাল,তাতেই দুচোখ অন্ধ হয়ে গেছেফের সম্ভাবনা নড়ে চড়ে ওঠে
আকাঙ্খার ধাপগুলি স্বর্গে উঠে গেছে
অন‍্যায় চোখের নয়,জানি তবু এভাবে ডাক দিতে আছে?
চারিদিকে লালধুলো ঝরাপাতা কৃষ্ণচূড়া
না তাকিয়ে তার কোনো উপায় ছিল না
তবু কুড়িয়ে ছড়িয়ে দিলে তাস
ছেড়ে দিয়ে চলে গেলে মাঝপথে ক্রীড়া
যেভাবে নদীর দুটি মুখ বয়ে যায়
যেভাবে আসঙ্গ লিপ্সায় দুটি ঠোঁট জেগে থাকে একা,তখন থেকেও নেই না থেকেও থাকা
শুধু দিনগত ক্ষয় 
 অন‍্যায় চোখের নয়সংবরণ করার কোনো উপায় ছিল না
সত্যিই ছিল না?
এক অন্ধ আরেক অন্ধের কাছে গিয়ে বলে
সত্যিই ছিল নানা?