তাপস কুমার চট্টরাজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
তাপস কুমার চট্টরাজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

তাপস কুমার চট্টরাজ-এর কবিতা

ঝোলা

বাবা বলেছিল তোকে তো 
দেবার মতো কিছুই নেই আমার 
কোনদিন সঞ্চয়ের কথা ভাবিই নি
এক কাজ কর, আমার ঝোলাটা নে
আমি বলেছিলাম ঝোলা নিয়ে কি করবো 
ওটা তো বড্ড ভারি।
সংসারের জোয়ালের থেকেও? 
ওটা যখন বইতে পারছিস তখন এটাও
পারবি।
ওটা নিয়ে আমি কি করবো 
নিয়েই দ্যাখ, একবার কাঁধে চাপালে 
ছাড়তে পারবি না। নেশা হয়ে যাবে।
সেই নেশাতেই বুঁদ।

 

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩

তাপস কুমার চট্টরাজ-এর কবিতা

একটু অন্যরকম

সরিয়ে চাদর
আলসেমি দু পায়ে
চৌকাঠ পেরিয়ে যেতে
কৌশল
শেষ টান না পেয়ে
হাল ছেড়ে 
আধপোড়া সিগারেট
ধোঁয়া ছেড়ে ঘুমিয়ে কাদা 
বালিশের আর কি
ছেড়ে দিলে, হাঁফ ছেড়ে বাঁচে 
সেও শোবে পাশ ফিরে।

 

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

তাপস কুমার চট্টরাজ-এর কবিতা

লুকোছাপা

বাজুক বাদ্যি বুকের মাঝে 
 হাজার কষ্ট ধামাচাপা
ক'দিনের হাসি কেনার
তোড়জোড়ে নেই লুকোছাপা

যে ছেলেটা ঘুমিয়ে থাকে ফুটপাতে ওই
বাবুর বাড়ি কাজ করে মা তাথৈ তাথৈ 
 নতুন জামার জন্য জোগায় টাকাকড়ি 
 দশ আঙুলেও সামাল সামাল গয়নাবড়ি

যায় যে সময় ভাত জোটাতে
জবজবে ঘাম মোছে হাতে।

 

শুক্রবার, ২ জুন, ২০২৩

তাপস কুমার চট্টরাজ-এর কবিতা

গুরুদেব, তোমার জন্মদিনে

গুরুদেব , আমি এখন তোমার
অমলের মত জানালায় বসে থাকি।
যদি তোমার সেই দইওয়ালার মত
কাউকে পাই, তবে তার সাথে গল্প করি।
সকলেরই ভীষণ তাড়া। কেউ ই পাঁচমুড়ো
পাহাড়ের নীচে সেই গাঁয়ের গল্প জানে না।
কেউ কেউ রেগে গিয়ে বলে- যত সব পাগল 
ছাগল ।মাঝে মাঝে টিনভাঙা লোহাভাঙা কেনার জন্য 
একটা লোক আসতো, হঠাৎ সেদিন শুনলাম,
সেও নাকি আর আসবে না। 
অতিমারি তাকে নিয়ে গেছে কোন খানে
কেউ বলতে পারছেনা।এখন আমি তোমার 
রেখে যাওয়া ফুলের সুবাস নিচ্ছি। 
তোমার অজস্র গানের থেকে প্রাণবায়ু সঞ্চয় করছি। 
আজ তো পঁচিশে বৈশাখ ,তোমার জন্মদিন।। 
সকালে তোমার ছবিতে মালা দিলাম,
তোমার কবিতা পাঠ করলাম।
এখন তোমার সেই কবিতা টা শুনছি, 
"ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে। 


বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১

তাপস কুমার চট্টরাজ-এর কবিতা


সংশয়

ঘামে ভেজা উপুড়চুপুড় শরীর

সে তো আমার ,ঘামের গন্ধ নিতে

কেন সংশয়? উদাসীন ইশারায়

নিকটও চলে যায় দূরে বহুদূরে

বুঝি এই সব মায়া ছলনা

ক্ষোভে দু:খে জাগে অভিমান

 

রাখো তার পিঠে প্রসারিত হাত

বাজুক,বেজে উঠুক ঠাকুরের গান।

সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১

তাপস কুমার চট্টরাজ-এর কবিতা


উদাসী আলো


বিপন্ন একরাশ স্বপ্নবিলাস,

ভেঙে ফেলে ঝুঁকে ঝুঁকে হাঁটা 

অভ্যাস হয়ে গেছে।

নিঃশ্বাসে আত্মনির্ভর

উত্তাপ হারিয়ে গেছে কবেই।

পড়ন্ত বিকেলে এখন 

ছায়ার মাখামাখি খেলা

মাঝে মাঝে আলোর বিন্দু

মুচকি হেসে দেখা করে যায়

ভীড় ঠেলে এগিয়ে যাওয়া

হয় না, সকালের দিকে।

দাঁড়িয়ে থাকা অপেক্ষায় 

আগামী সংকেতের।



 

শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০২১

তাপস কুমার চট্টরাজ-এর কবিতা


 লিমেরিক

বিবর্ণ পাতাদের গায়ে থাকে অবসাদ

ঝড় আনে শব্দ মাখা পতনের সংবাদ

        আকুতি বৃথাই যায়

        শূন্যে দিশা হাতরায়

ইতিহাসে লেখা থাকে অব্যক্ত বিষাদ।

বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

তাপস কুমার চট্টরাজ-এর কবিতা


বিলম্বিত রোদ্দুর

অনেক স্বপ্ন বিলিয়েছি সেই

ছবিটা কিনতে। আলোর

পৃথিবীর জন্য মুঠো করে ধরে রাখা 

চাতকের প্রহর গুলো । উজ্জ্বল হয়ে ওঠার 

লোভ পিছনে অষ্টপ্রহর খামচে ধরে,

পকেটের কোণে লুকিয়ে রাখা

বিপন্ন সময় । হারিয়ে যাওয়া বাতাস

ফিরে আসে বৈচিত্র্যময় কর্মসূচি নিয়ে।

সোনালি রঙের আভা ছড়িয়ে যাচ্ছে

বিকেলের দিকচক্রবালে ।

একটু একটু করে মুঠোয় ধরছি

না পাওয়া রোদ্দুর ।

 

রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১

তাপস কুমার চট্টরাজ-এর কবিতা


জীবন

হ্যাঙ্গারে ঝুলছে জীবন,
মৃদুমন্দ হাওয়ায়
দোল খায় এদিক-ওদিক

হাওয়ার গতিবেগে ভাঙে,
ভেঙে ভেঙে যায়
আন্দোলিত পরিপাটি
ত্রস্ত পদক্ষেপে শশব্যস্ত দু'টি হাত
মোচড়ানো ভাঁজ মসৃণ করতে
ব্যাকুল নির্বিষ চাহনিতে
নিরীক্ষণ করি
সাবলীল পেরেক।

আগামীর সম্ভাবনায় থামিয়ে রাখে
বিহ্বল শ্বাস-প্রশ্বাস।

বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১

তাপস কুমার চট্টরাজ-এর কবিতা


অন্য পরশ

এটা সেই হাত , নিশ্চিন্তে ধরা যায়।

পেলব মসৃন আরোগ্য মেশা 

অনুভূতি ঘিরে থাকে প্রসন্ন সকালের মত।

কেটে যাওয়া দাগের উপর আলতো করে

খাওয়া চুম্বন , এলোমেলো চুলের মাঝে

বুলিয়ে যায় কোমল পরশ। খাপছাড়া উদ্বেগ

এক নিমেষে স্রোতহীন শান্ত নদীর মত

কুলকুল শব্দ করে।

হৃদয়ের সবটুকু জমা রেখে অনায়াসে

নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বিশ্রাম ।

আঁচলের প্রান্তদেশে ললাটের স্বেদ

খোঁজে আশ্রয় । চিবুকে প্রশান্তি ফুটে ওঠে

সেই স্নেহের ছোঁয়ায় ।

এটা সেই  আশ্চর্য  হাত।