রাজীব ঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজীব ঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২ জুন, ২০২৩

রাজীব ঘোষ-এর কবিতা

ক্লান্তি

ছিঁড়ে ফেলো পুরোনো ক্লান্তি থেকে- 
মেহেফিল রঙ এবং বক্ররেখার জ্যামিতিখাত 
ব্যথার মোড়ক খুলে হেঁটে যায় যে সরীসৃপ 
তাকেও মিড়ে ও গমকে শুইয়ে রাখো মেঘের ভিতর। 

ধানফুল গন্ধ থেকে এঁকে দিই সূর্য চিহ্নের বিহার 
তালবন তাকিয়ে থাকে কর্কটকান্তি থেকে সরে গিয়ে 
কলেজ ছাত্রী খুঁজে হ্রেসাদের চিঁহির ইতিহাস 
পেকে ওঠে কফি শপের ধোঁয়া একান্ত চর্চায়। 

তুমি হাঁটো সবুজের দিকে ধুইয়ে দিয়ে মাঠের স্তন 
লাঙলের বোঁটা ওঠে আসে রাত্রির বিছানায় 
চষে ফেলো জমিন, তানপুরা ছিঁড়ে পড়ে কান্নায় 
হেলে পড়ে চাঁদের ইয়ার্কি ঠোঁটের ধারাপাতে।

এর- পরেও যদি ক্লান্তি আসে খুঁজে নাও আইফেল টাওয়ার 
বিছিয়ে দাও উত্তাল সমুদ্রটির শরীরের উপর 
আমিও এই পথ দিয়ে হেঁটে যাই গভীর অরণ্য খোঁজে 
সুইসাইড স্পট থেকে একটু দূরে সম্রাজ্ঞীর গন্ধে।

 

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৩

রাজীব ঘোষ-এর কবিতা

এই মন 

এবার শীতে একতারা হয়ে 
কাপন তুলবো তোমার মনে।
মানভূম পোশাক সব উড়িয়ে দেব 
যেখানে ভালোবাসা বিলাবে উজানে।। 

আমি ময়দানে - পার্কে ঘুরাবো 
মনের জড়তা কাটিয়ে হবো যাদুকর।
কুয়াশা খুঁজে দেব বেহায়া হাতে 
শুধু বলো তোমার মন আমার ঘর।।

 

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২

রাজীব ঘোষ-এর কবিতা

মেঘবাদক 

 

ভেঙে যাওয়া বেড়ার গায়ে অনুভবের ঢেউ 

অস্তমেঘ জড়িয়ে গাছেদের একাকিত্বের সুর

হলুদ পোশাক ছুঁয়ে উঠে আসে তরুণ কবি 

অজস্র হাহাকার তার ব্যাগের গভীর ছায়ায়।

 

তবুও সাঁতরে নামে জলে, আঙুলে কলম গাথা 

চশমা খুলে পড়ে ফেনার ভিতর, ননতা হয় ঠোঁট 

জল ভাঙেনা আর রাত্রির চোখে ঘুম 

এর পরেও কি নেশার শরীর আড়াল করে কবিতা! 

 

কোন পথে পালাবে, সব কুহেলী বিছানো...  

কালো ঝড়ের ছমছমে দৃশ্যছবিগন্ধময় 

যেন রিডে ফেলা একটি বাতাসের শিস্ 

গান হয়ে ঝরে পড়ে অসমাপ্ত প্রেমের নৌকায়। 


নায়িকাটি মেঘবাদকের খবর রাখেনি কোনোদিন 
তার আশা যাওয়ায় কেবল আঁশগন্ধ 
পুড়তে থাকে নাচনি জলপ্রপাতের ধূসর উঠোন 
এবং কবির রসকলি বুননের বেঠিক জীবন। 

শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২

রাজীব ঘোষ-এর কবিতা

একটি অপেক্ষার - মৃত্যু 

 

সময়ের কাঁটার উপর শ্যেন দৃষ্টি জেগে উঠে 

যে কোনো মুহূর্তে ছোঁ মারতে পারে উৎসবের গায়ে 

ফুটপাতে ফুলেরা ঝরে বিনা প্ররোচনায় 

কিন্তু তার আগে বসন্তে হারিয়ে যেতে নিষিদ্ধ কোথায়! 

কচি পাতা চিরে ফসলের উদ্ভিন্নযৌবনা শরীর 

ধূলি ভিজে ওঠে চুঁইয়ে পড়া সন্ধ্যাটির নত মাথায় 

রাঙা হয়ে যায় সিঁথি, তুলসীর আড়ালে ঈশ্বরী ভাষা 

পাথুরে নদীর নাভিতে মেঘপালকের ঠোকাঠুকি 

তবুও বুক চিতিয়ে নেমে আসে শকুন্তলা কথারা

মেঘে মেঘে ঘুঙুর পায়ে নতুন মৌলবীর আজান 

আজান ছড়িয়ে পড়ে কাশের মাথায় কণ্ঠবায়ু নিয়ে  

লক্ষণরেখা পেরিয়ে পেঁচার অন্তর্ভেদী দৃষ্টি ঝুলে চৌকাটে 

ভ্রাম্যমান রক্তবীজ তাকিয়ে অপেক্ষার গোলকে 

ডোমের লাল চক্ষু  থেকে উড়ে যায় নামসংকীর্তন। 

 

রবিবার, ১ মে, ২০২২

রাজীব ঘোষ-এর কবিতা

অন্তর্গত হেমন্ত


মন্দাক্রান্তা ঠোঁট থেকে ঝরে পড়ে 

ধুলোর বর্ণমালা 

কমবয়সী হেমন্ত সংশ্লেষিত বিন্দুতে 

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে রক্ত ঝরা গান 

গলি পথ দিয়ে বেরিয়ে হাততালি দিচ্ছে 

উটগুলি মাথা তুলে ড্রেসিংরুমে 

নিজেকে একটু সেঁকে নিচ্ছে আবৃত্তি অনুভবে 

এবার শরীর দুটি মুছে যাচ্ছে নন্তা স্নানে 

যেন কোনো কৃষক উপত্যকা জুড়ে 

সেচ দিচ্ছে আর বলছে, এবার মেঘ বিয়নে 

শস্যের কাজল খুলে ভরে উঠবে হামারের পেট 

পিতৃপুরুষের দেনা শোধ হবে পলিমাটি ঢঙে 

পুঁইলতা লতিয়ে ওঠে মজনুর মতো 

হেমন্ত গড়িয়ে পড়ে বাজপাখির নখের ডগায় 

মাঝ রাত উঠে দাঁড়ায় বৈধ লণ্ঠনের উপর 

শব্দে শব্দে তখন ছড়িয়ে পড়ে ঊষর অ্যাপেলো ​