মাসুদুল হক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মাসুদুল হক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

মাসুদুল হক-এর কবিতা


পরিচ্ছন্ন শহরের বিজ্ঞাপন

শহরে কাক নেই।
ডাস্টবিন নেই।
পচা গন্ধ নেই।

পরিচ্ছন্নতার বিজ্ঞাপনে
একটি সাদা আকাশ ঝুলছে।

ভোরে দেখি,
কয়েকটা কালো ছায়া
উড়ে যাচ্ছে উল্টো দিকে —
প্রাচীন বনবাসে।

 

রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

মাসুদুল হক-এর দীর্ঘ কবিতা


কাঠের কফিন

১.
একদিন আমি শঙ্খপাণির কাছে যাব
মোমে গলা সমুদ্রের ধ্বনিমাখা 
তার চোখ; 
ধূসর অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে... 
প্রদীপের আলো তার মৃত ত্বকে 
প্রত্নতাত্ত্বিক স্বপ্ন ফুটিয়ে তোলে। 

কাছাকাছি সমতল দেশে
যেখানে তারা তাকে খুঁড়ে বের করেছে;
শীতের বীজ তার শেষ উষ্ণতা
জাগিয়ে রেখেছিল স্বপ্নচারীর 
কবোষ্ণ ঠোঁটে

আসলে প্রাকৃত মুখ নগ্ন
এলোমেলো দীর্ঘ দীঘল চুল 
মাটির মাদুলি আর কোমরবন্ধ
নিয়ে মহাকাশ বিমর্ষ... 

আমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকব
দেবীর কাছে।

সমকাল  প্রতিভার আঁচলে
বস্ত্র টেনে 
তাকে সাজিয়ে রাখবে 
যুগের মন্দিরে 
সাধুর রক্ষিত দেহের কাছে

বিগত বাতাসের তরঙ্গে
মধু ও রেণুর সংযোগ 
নিয়ে উড়ে আসবে মৌমাছি 
যখন তার কলঙ্কিত মুখ
 বিশ্রাম নেবে মৌচাকে।

২.
আমি পরনিন্দার ঝুঁকি নিতে পারি

লোকে যেভাবে যাদুবিদ্যার জল 
ছিটিয়ে পবিত্র করে তোলে 
কাঠের কফিন 

আমি সেখানে মৃত স্বরলিপি 
ঘেটে 
আমাদের পবিত্র ভূমি এবং প্রার্থনার
 অঙ্কুরিত বীজ 
জ্যোৎস্নামাঠে খুঁজে পাব 

যখন বিক্ষিপ্ত, অতর্কিত
স্লোগানে ভেসে উঠবে 
পোড়া মাংসের গন্ধ;
মজুত করা লাশ
নিজেদের মুখ দেখবে 
ক্ষেত-খামারে লুকিয়ে 
রাখা প্রহসনের আয়নাঘরে 

কারো ত্বক এবং কারো দাঁত
পাহাড় থেকে হারিয়ে যাওয়া 
পাথরের গায়ে মিশে যাবে 
উত্তপ্ত পিচের কালো আঠায় 

দখলবাজ প্রশাসন 
তার নাম দেবে 
বদলে যাওয়া উন্নয়ন 
স্বৈরাচারের লাইন বরাবর।

৩.
আসলে দেবীর দুঃখের গভীরে 
থাকে কিছু কান্নার স্বাধীনতা
সে ভক্তির পিঠে চেপে 
ধর্মের নামতায় উৎসে ফেরার 
অংক মেলায়

মহাকালের ইশারাকে 
আঙুলের মুদ্রা 
জনতার চোখে ছড়িয়ে দেয় 
আর লাল টুকটুকে জিহ্বা 
 নীরব, খুব অসহায়!

জিহ্বার ভাষা আমাদের 
জানা নেই 
শুধু মিথ্যাবাদী মেয়েটির 
বেশি কথায় 
শঙ্খপাণি দেশটাকে 
তুলে দেয় শূন্যবাদী পেঁচার কাছে 

আর কিছুই থাকে না 
ভাতঘুমে 
ফোটে না সন্ধ্যামালতী
আমরা তখন কাঠের কফিনে
মৃত্যুর ভেতর ঘুমের স্বপ্ন দেখি 

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

মাসুদুল হক-এর কবিতা

কথার দাগ

ঘরগুলোর মধ্যে বৈরাগ্য আর বাড়ির উঠানে বড়ই গাছ 
সবটাতেই বেদনার ঝিম!

সাদা ভাতে কথার দাগ লেগে গেছে... 

মর্ডান মোড়ে বাদাম কিনে উড়ো কাগজ পড়ছে মুচি থেকে 
পানদোকানি

বালকবেলার গৃহভেঙে প্রথাগত চুক্তিবদ্ধ নারীর
 সমুদ্রচোখ সামাজিক বালতিতে ডুবিয়ে
 লবণের কারখানায় ছুটছে দাম্পত্যের দিনরাত।

 

ডিভোর্স 

উদ্বিগ্ন আগুন। বড্ড অসহ্য কণ্ঠস্বর 
ক্ষত নিঃশ্বাসের সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে 
আবেগের আধখানা উলঙ্গ চাঁদ। 

 অসহ্য লাগছে ডিওডোরেন্টের ঘ্রাণ 
 নিঃশ্বাস আলাদা করা যাচ্ছে না…
আর শব্দের গোঙানিতেও পটবে না
ভ্রমরের মতো ফুলে ওঠা শরীর 

শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০২১

মাসুদুল হক-এর কবিতা


দাম্পত্য
 

অন একটি নেতিবাচক উপসর্গ 

এর কবলে পড়ে স্ত্রীর কাছে অনভিজ্ঞ আমি; 

প্রেমিকার সঙ্গে কথাবার্তায়

 ঘুমের মধ্যেও ধরা পড়ে যাই 

 

অথচ অসূয়াপ্রবণ আমার স্ত্রী 

চোখের জলে মন্দাকিনী নদী ভাসিয়ে 

অনভিজ্ঞ আমাকে জড়িয়ে 

ছিঁচকাঁদুনে কান্নায় অনসূয়া হয়ে ওঠে! 

বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মাসুদুল হক-এর কবিতা


বাইসাইকেল জার্নি

বিকেলটা দৃশ্যের মতো স্থবির 

শুধু চলছে আমাদের সাইকেলের চাকা 

 

জলরঙে আঁকা পাটখেত 

পাশের কুমড়ো মাচায় একটা স্থির ফড়িং 

 

সহসা বৃষ্টিতে বিকেলের রঙ ভিজে গেলে; 

দৃশ্যটা ভেঙ্গে আমরা দাঁড়াই জান্তব দুনিয়ায়

 

কোলাব্যাঙের কণ্ঠ। পচা কুমড়ার গন্ধ

জলভেজা বাতাসের স্পর্শে থেমে যায় চাকা 

 

তখন দৃশ্য ও আমাদের কোনো পার্থক্য থাকে না 

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

মাসুদুল হক




 সমুদ্রবিদ্যা 

১.জল ও সমুদ্র 

 

এক ফোঁটা জলে সমুদ্র আছে 

ফোঁটা ফোঁটা জল গড়ায় সমুদ্রের দিকে 

 

২.অনুভব

 

গ্লাসে জল ঢাললেই

 আমি সমুদ্রের গর্জন শুনি 

 

৩.আমি ও সমুদ্র 

 

আমি একটা সমুদ্র 

চাঁদ-সূর্যের আকর্ষণে

জোয়ার-ভাটা জাগে অঙ্গে 

 

৪.পাকস্থলীর সমুদ্র 

 

মধ্যরাতে চাঁদ প্রায়‌ই নেমে আসে শরীরে 

 

পাকস্থলীর সমুদ্র গর্জনে 

পাজরে বৈঠার শব্দ শুনি 

 

৫.ঘাম নয় ক্লান্তি 

 

সূর্য প্রায়‌ই আমার শরীরের সমুদ্র থেকে 

জল ছেঁকে আনে 

বিন্দু বিন্দু সে জলের নাম আমি দিয়েছি ক্লান্তি 

 

৬.চাঁদ ও সমুদ্র 

 

চাঁদ উঠে এলেই বুকে ছলাৎছলাৎ জল ওঠে 

মুখে হাওয়া কানে শঙ্খধ্বনি 

জোয়ারের জলে ভরে ওঠে পাকস্থলী 

 

আমি একটা সমুদ্র হয়ে উঠি