গৌতম ঘোষ-দস্তিদার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গৌতম ঘোষ-দস্তিদার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

গৌতম ঘোষ-দস্তিদার -এর অনুবাদ কবিতা


গাব্রিয়েল গ্রসি 


১৭ই মে-র জন্য একখানি কবিতা

ধমক খেয়ে আত্মহত্যা করেছিল, 
ধরেই নেওয়া হয়েছিল, ও পুরুষকেই ভালবাসে, 
১৩ বছরের সেই ল্যুকার জন্য,    
 
নৈশক্লাব ছেড়ে বেরোতে গিয়ে 
হিংসার বলি হয়েছিল, পেদ্রোর সঙ্গে 
বিয়ের ঠিক আগে, সেই জেফের্সোঁর জন্য,    
 
অপমান করে হুমকি দেওয়া হল, মারধরও হল,
সালেয়ার মেঠোপথে সেই 
আর্তুরো, আদ্রিয়ানো, কিলিয়ঁদের জন্য,    
 
 
তড়িৎবাহী অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হল, 
লিওঁর ডিস্কোক্লাব থেকে বেরোবার মুখে,
সেই ক্লেমঁর জন্য,
 
ফঁতেনে-সু-বোয়ায় মারা হল; কী না বেঞ্চিতে বসে 
দুজনে দুজনকে চুমু খাওয়ার সাহস দেখাচ্ছিল,
সেই মেয়ে দুটোর জন্য,
 
এক রোববার সকালে নৃশংসভাবে মাটিতে 
ফেলে পেটানো হল, উভয়ের হাত ধরে থাকা
তুলুজের ওই ছেলে দুটোর জন্য,
 
লিওঁর মেট্রোতে কিরকম বেইজ্জত 
হতে হল, মারধরও খেল,
সেই পুরুষ-যুগলের জন্য,    
 
জনা দশেকে মিলে ওদের ধাওয়া 
করেছিল ক্লের্মঁ-ফেরঁর ট্রামে,
সেই দুটি পুরুষ-প্রেমিকের জন্য,
 
পারির আঞ্চলিক এক্সপ্রেস ট্রেনে 
এক মাতালের হাতে মার খাওয়া
সেই মহিলাদের জন্য, 
 
পাঁচ-পাঁচটা লোক রংধনু পতাকাটা সইতে পারেনি, 
মাটিতে ফেলে তাই মুখ ফাটিয়ে দিয়েছিল, 
আহত সেই ঘানার যুবকের জন্য,    
 
অপমানিত, হুমকি-খাওয়া,
ঘুষি লাথি খাওয়া সেই সব 
নরনারীদের জন্য, 
 
হেলাফেলা করে যাদের দিকে তাকাই
সামান্য একটু তফাতের হেতু,
সেইসব মানবমানবীর জন্য,
 
পরিজন-পরিত্যক্ত
সেইসব মানবমানবীর জন্য,
 
যারা আমার চেয়েও বিশ বছরের ছোট,
যারা তাদের বৈসাদৃশ্য নিয়ে মুখর,
সেইসব কচি ইউটিউবারদের জন্য
 
নমনীয়, মনোলোভা এই মুক্তি 
কয়েক বছর আগেও 
যা ছিল কল্পনাতীত,
 
 
কিছুই যাদের হয়নি
অথচ যারা শুধুই ভিতু,
সেইসব মানবমানবীর জন্য, 
 
নিজেদের একনাগাড়ে গোপন করে রেখে 
যারা তাদের  ভাবভঙ্গি লক্ষ্য করতে বাধ্য করে,
সেইসব মানবমানবীর জন্য, 
 
তোমাদের সবার জন্য এই কবিতাটি লিখছি,
যেহেতু ফি সপ্তাহে একাধিক 
হামলার খবর এনে দিচ্ছে সংবাদমাধ্যম, 
 
এই কবিতাটা লিখছি,
কেননা মনে রাখা দরকার,
সমলিঙ্গের কাউকে ভালবাসার কী অর্থ, 
 
এ তো কোনো বিচ্যুতি নয়,
মানসিক ব্যাধিও নয়,
শুধুই ভালবাসা,

কোনো জঘন্য কাজ নয়,
সাংঘাতিক কোনো ভুল নয়,
শুধুই ভালবাসা,
 
কোনো রাক্ষুসে বাসনা নয়,
মারাত্মক কিছু উন্মাদনা নয়,
শুধুই ভালোবাসা,
 
আর সে ভালবাসা আদেশ করা যায় না,
যেখানে মন চায় সে শরবিদ্ধ করে,
যেখানেই যায়, সে অনবদ্য, 
 
ভালবাসাই সবচেয়ে সুন্দর,
এই সহজ কথাটা বলতে চেয়েই
এই কবিতাটা লিখছি,
 
আর ভালবাসাই হয়তো বিশ্বের 
সবচাইতে বেশি শক্তিশালী ও 
গহীন অনুভূতি,
 
প্রেমে পড়া বা প্রেমকে প্রকাশ করার মধ্যে
কারোরই তো 
লজ্জা পাওয়ার কথা নয়,
 
গোটা দুনিয়ার মুখের সামনে,
সমস্ত ছাদ থেকে ভালবাসার 
নাচ, গান, চিৎকার উঠুক,
 
যাবতীয় উচ্ছ্বাস, শক্তি, উন্মাদনা, 
অসংযত সব 
আনন্দ, আবেগ আর গর্বের সঙ্গে,
 
কেবলই সমকামী হয়ে ওঠা। 


[শৈশব থেকেই লেখালেখি এবং কবিতার প্রতি অনুরাগী, গাব্রিয়েল গ্রসি, ১৯৮৭ সালে নিস- জন্মগ্রহণ করেন। সাহিত্যে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বেশ কয়েক বছর ধরে তার ব্লগ "লিতেরাত্যুর পর্ৎ উভের্ৎ" (অবারিত দ্বার সাহিত্য)- তার কবিতাকে আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি সমসাময়িক সমাজ-সম্পর্ক, সাধারণ সাহিত্য, দর্শন, ভাষাতত্ত্ব এবং শিক্ষাবিদ্যা নিয়ে আলোচনা করে চলেছেন। « কঁকর্দঁস্ » সংকলনটি তারই প্রথম উদাহরণ।]




রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

গৌতম ঘোষ-দস্তিদার -এর অনুবাদ কবিতা

শার্ল বদল্যের

শারদীয় গান

খুব তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা এক অন্ধকারে আমরা ডুব দেবো; 

স্বল্পমেয়াদি গরমের এই ঝলমলে দিনগুলোকে বিদায়!

এরই মধ্যে বিষণ্ণ শেষকৃত্যের শেষে উঠোনের হাঁটাপথে 

জ্বালানি কাঠের ভেঙে পড়ার মর্মর ধ্বনি। 

 

শীতের গোটা মরশুমটা ফিরে আসবে আমার অস্তিত্বে: ক্রোধ,  

ঘৃণা, শীতলতা, কাঁপুনি, জুলুম করে নেওয়া কঠিন মেহনত, 

মেরুদেশের নরকে সূর্যের মতো, 

হৃদয়টা আমার লাল বরফের একটা চাঁই। 

 

কাঁপতে কাঁপতে জ্বালানি কাঠগুলোর পতনের কথা কানে আসে; 

গড়ে তোলা মাচানখানা বধিরতর প্রতিধ্বনিহীন। 

ক্লান্তিহীন মোটাসোটা গড্ডলিকার অনুগমনে

মন যেন সেই বুরুজের মতো টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে। 

 

একঘেয়ে এই ঝটকায় রিক্ত হয়ে গেছি যেন

কোথায় যেন হুড়োহুড়ি করে কফিনের শরীরে ওরা পেরেক মেরে দিচ্ছে। 

কার জন্য? – সবে তো গ্রীষ্ম গেল; এখন শরতকাল! 

কার জানি চলে যাওয়ার অদ্ভুত একটা আওয়াজ। 

 

তোমার লম্বা চোখের শ্যামলা আলো আমার ভালো লাগে, 

আলগা সৌন্দর্য, তবুও সমস্ত কিছু আজ আমার কাছে তেতো, 

সাগর থেকে উঠে আসা আলোর মতো দামি আর কিছু নেই 

কিস্যু না, না তোমার ভালবাসা, না সাজঘর, না ঘরের অগ্নিকুণ্ড।

 

তাও আমায় ভালোবেসো, নরম হৃদয়ে! মা হয়ে ওঠো, 

এমনকি এক বেঈমানের, মায় নষ্ট কারো; 

প্রেয়সী বা সহোদরা, ক্ষণিকের মাধুরী হয়ো 

জমকালো শরতের না কি পাটে যাওয়া সূর্যের।

 

সামান্য কাজ! সমাধি পথ চেয়ে আছে; সেও তো গৃধ্নু! 

ওঃ! ছেড়ে দাও, তোমার পায়ে মাথা ঠেকাই, 

চেখে দেখো, শুভ্র তপ্ত গ্রীষ্মের জন্য অনুতাপ, 

অন্তিম ঋতুতে গৈরিক মৃদু আলোর রেখা!


[শার্ল  পিয়ের বদল্যের  (জন্ম - ৯ই এপ্রিল, ১৮২১ পারিতে - ৩১শে অগাস্ট, ১৮৬৭ র‍্যু দু দোম) ফরাসি সাহিত্যের অন্যতম কবি অনুবাদক। প্রাবন্ধিক শিল্প-সমালোচক হিসেবে তার কাজও উল্লেখের দাবি রাখে। ফরাসিতে এডগার অ্যালান পোর অন্যতম প্রথম অনুবাদক ছিলেন তিনি।]

শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪

গৌতম ঘোষ-দস্তিদার -এর কবিতা

অস্থায়ী অস্তিত্ব


স্রোতের বুক থেকে আমি জল নিংড়ে নিয়েছি

তারপরেও দেখিপলি পড়ে আছে


পাহাড়ি হৃদয় থেকে অরণ্যকে ছেঁটে দিয়েছি

আগাছারা তবু দিব্যি রোদ খাচ্ছে

 

বাবুইয়ের মুখ থেকে খড়কুটো কেড়ে নিয়েছি

কোত্থেকে কাশবনের আঁশ তুলে এনেছে


মেঘলা আকাশ থেকে কুয়াশা ধরে পকেটে রেখেছি

দিন তবু কেন জানি কালো হয়ে আছে

 

তোমার গা থেকে ভালবাসার চাদরটা সরাতে গেছি

দেখিশ্মশানে আমারই শব জ্বালানির পথ চেয়ে আছে… 

 

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

গৌতম ঘোষ-দস্তিদার -এর অনুবাদ কবিতা

গীয়ম আপোলিন্যার

মিরাবোর সেতু 

মিরাবো সেতুর নিচে সেন নদী বয়ে যায়

আর আমাদের ভালবাসাগুলো

          মনে কি রাখতেই হবে

এভাবেই একেকটা দুঃখের পর ফিরে আসে সুখ

 

ঘণ্টা বেজে গেলে রাতকে যেন আসতেই হবে

দিনের মনে দিন যায় তবু আমিতো থেকে যাই

 

দুহাতের মধ্যে দুহাত মুখোমুখি

আমাদের বাহু যে সেতু রচনা করে ঠিক তার নিচ দিয়ে বয়ে যায়

     শাশ্বত চাউনির ঢেউগুলো এত ক্লান্ত

 

ঘণ্টা বেজে গেলে রাতকে যেন আসতেই হবে

দিনের মনে দিন যায় তবু আমিতো থেকে যাই

 

বয়ে চলা জলের মতো ভালবাসাও চলে যায়

          ভালবাসাও চলে যায়

     জীবনটা কীরকম ধীর

অথচ আশাগুলো কত উগ্র

 

ঘণ্টা বেজে গেলে রাতকে যেন আসতেই হবে

দিনের মনে দিন যায় তবু আমিতো থেকে যাই

 

দিন যায় সপ্তাহও যায়

          কাল তবু কোনওদিন অতীত হয় না  

     ভালবাসাও ফিরে ফিরে আসে না

মিরাবো সেতুর নিচে সেন নদী বইতে থাকে

 

ঘণ্টা বেজে গেলে রাতকে যেন আসতেই হবে

                                                  দিনের মনে দিন যায় তবু আমিতো থেকে যাই 


[গীয়ম আপোলিন্যার (২৬ আগস্ট ১৮৮০রোম –  নভেম্বর ১৯১৮, প্যারিস; ৩৮ বছর) – পোলিশ বংশোদ্ভূত ফরাসি কবিনাট্যকারছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং  শিল্প সমালোচক। ওঁকে বিশ শতকের প্রথম দিকের অন্যতম প্রধান কবি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। উনি কিউবিজমের সবচেয়ে আবেগপ্রবণ রক্ষক এবং পরাবাস্তববাদের প্রথম সারির অন্যতম।]