কথা বলা আলো
তুমি তখন রিখটার স্কেল, পাহাড়ের ধস, অন্তর্গত কথা বলা আলো।
তুমি তখন রিখটার স্কেল, পাহাড়ের ধস, অন্তর্গত কথা বলা আলো।
কেক -বাড়ি
তোমার জন্মদিনে কেক আনা হলো
সুন্দর এক কেক -বাড়ি ।
বাড়ির উপরে তোমার নাম।
ঘরে দারুণ হইচই আনন্দ,
টেবিলে ছোট্ট ছুরি।
তোমার বয়স গুণে গুণে মোমবাতি জ্বলছে
তুমি ফুঁ দিয়ে নেভাও ।
জ্বালানোর চেয়ে নেভানোয় সুখ বেশি !
কেক কাটতে তুমি বিহ্বল হলে
তোমার নামের উপরে ছুরি বসাতে দুঃখ ছিল না
কেক- বাড়ি টি কাটতে কেন যে হাত সরে না
মাকে মনে পড়ে--- পায়েস খাওয়াচ্ছে মা
গন্ধে মম বাড়ি
ঘরে হ্যাপি বার্থডে'র করতালি মুখরিত সুর
বাইরে তখন বাজছে :
ছুটির বাঁশি বাজলো যে ওই নীল গগনে...
পালানোর আগের রাতে
মা ও রবিঠাকুর
যখন কোনো ভালো কথা শুনি
রবিঠাকুরের মুখে বসাই।
পরে জেনেছি ‘অজ্ঞাতনামা’ শব্দটিকে
মোটেও সেই ভদ্রলোক এমন বলেনি।
যখন শৈশবে কেউ কিছু প্রশ্ন করতো
বলতাম : মা জানে।
মায়ের মুখে যে কোনো গান মনে হত
রবীন্দ্রসঙ্গীত।
মায়ের সঙ্গে রবিঠাকুরের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা
জানিনা।
যার কেউ নেই তার ঈশ্বর আছে।
ঈশ্বরের নারী রূপ কি মা,
পুরুষ রূপ রবিঠাকুর?
ঈশ্বরের নিশ্চয় কাশ্যপ গোত্র
মহাশূন্যের কৃষ্ণকূপের মতো
সবাইকে বুকে টেনে নেয়।
সূর্য প্রদক্ষিণে আছি
‘আত্মোপলব্ধি মানে নিজের সীমানাকে খুঁজে পাওয়া’
কথা বলার সময় কথাটি বোলো না
ক বললে মৃদঙ্গ বোঝে কৃষ্ণ বোঝো না
ওই তো তোমার দোষ
হয়নি কি হয়নি শেষ আমার কথাটি
হারিয়ে ফেলেছি সেই সুর লয় গান
নিজের কাছেই নিজে
আমি সেই না-বলা পরম।
হারায় হারিয়ে যায়
সূর্য প্রদক্ষিণে আছি আত্মগত
তোমার ছায়ায়।
ধরা দেবে বলেছিল মিথ্যে কিছু সম্ভাবনা-মাছ
বসেছি ভেড়ির পাড়ে, খালিগায়ে ঊর্ধ্বে আমব্রেলা
একখানি ছিপ হাতে, টোপহীন কেটে যায় বেলা
দেবে কি দেবে না ধরা, স্বপ্নদেখা একমাত্র কাজ।
ধ্যানের বিন্দুতে মগ্ন, স্থির যেন কেহ নাহি বলে
তুমি আত্মপ্রবঞ্চক, ফাঁকিবাজ তোমাকে ধিক্কার
শিকারি হবার আগে হতে হয় নিজেই শিকার
হেথা সব ছিল সুন্দর তুমি যবে নাহি ছিলে।
ধরা দেবে বলেছিল সে আশায় আজ গুড়ে বালি
হয়ত তেমন করে প্রয়োগের জানি না কৌশল
চোখ কবে দৃষ্টি হবে, ডাক হবে কবে আহ্বান
অভ্যাস জমলে পরে স্বভাবের হব বনমালি
নিজেই নিজের টোপ, আদিগন্ত ধরে রাখি ছিপ
অপেক্ষা কখন হয়, জানি না তো প্রতীক্ষার গান।