মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

সা'আদুল ইসলাম-এর কবিতা


 নিরাময় খুঁজি এসো বুকের ভিতর

এখনো গীতিকা গেয়ে দোহার তোলে কবি

মহুয়া রে!

তোর ভরা কলস মাটিতে থুয়ে দেখাবি না তোর সেই সেইসব ছবি?

 

হুমরা বেদিয়া তোরে খেলাইয়ে যায় কতকাল ধরে

নদী বনভূমি শীতলক্ষ্যার পাড় ধরে ছুটতে ছুটতে

এলোচুল ভালোবাসা কাঁখে নিয়ে বুকে নিয়ে

মোহনার দিকে এগোতে গিয়ে

ছন্দের বারান্দায় ঠোক্কর খেয়ে

শহরের রাস্তায় এসে হুঁচোট খেয়ে পড়লে!

 

হাসপাতালের দরজায় কার নিরাময় খোঁজো?

 

তোমার কোঁচড়ে কী আছে তুমি নিজেই জানো না

পাহাড় সানুদেশ নদী আর উদার মোহনা ছাড়িয়ে

উল্টোমুখে ফের গাঙুড়ের জলে ভেলা ভাসিয়ে দিয়ে...

 

তুমি কি পাগল হয়েছো, মেয়ে!

 

কোঁচড়ের বুকরাঙা ফুলগুলো

আকুল আগলে রাখা টেক্কালাল ছবিখানি

নামিয়ে রাখো কবির পায়ের তলায়

না না, কবির বুকের ডগায়। দ্যাখো

মৈমনসিংহ গীতিকার গান ঝরে কবির গলায়

 

চটুল ভাওয়াইয়া থেকে বিরহের ভাটিয়ালি

মেখেছো তো আজীবন

এখন শোনো তবে বকুলবনের গান

নিরাময় হোক কুহেলি আঁধার 

মন্দাক্রান্তা বয়ে যাক কুয়াশার ভার

নিরাময় খুঁজি এসো বুকের ভিতর।

রবীন বসু-র কবিতা

হাওয়ার ফানুস

রাত্রির যোনি থেকে যে শীৎকার উঠে এল

নিঃশব্দ বনভূমি তাকে গায়ে জড়ায়;

ফসিল অন্ধকার ভেদ করে বিদেশি হাওয়া

পুনরায় ফিরে যেতে পারেআকুলিত হৃদয়

চেয়ে থাকে শূন্য পথের দিকে;

বিড়ম্বিত প্রেম পরিযায়ী ঠিকানা খোঁজে

মানচিত্র বরাবর শুকনো পাতা নিয়ে

শীত ঋতুর ওড়াউড়িযেন ফাটা ঠোঁট নিয়ে

রক্তবিন্দু জেগে ওঠে প্রবল আগ্রহে।



প্রতিদিন সংক্রমণ গায়ে মেখে হাঁটছে মানুষ

ছায়াপথ ধরে উড়ে যায় স্বস্তিহীন হাওয়ার ফানুস।

 

গোলাম কিবরিয়া পিনু-র কবিতা

অবাক হই না 

আমি এখন অবাক হই না

কোনো লোকের বাতি নেভানোর

              --কৌশল দেখে!

আমি এখন অবাক হই না

ড্রেসিং-রুমে না গিয়েই

   রূপ পাল্টানোর দৃশ্য দেখে!

কারো হাতে উঠতে পারে ছুরি

তাতেও আমি অবাক হই না!

       অবাক হই না!

কচ্ছপের লড়াইয়ের ভেতর পড়ে গিয়ে

নাভিশ্বাসস্বপ্নচ্যুত হই--

    গহীন নদী জলহারা হয়

তাতেও আমি অবাক হই না!

ছদ্মনামে স্বরের প্রকাশ

খুশবু ছড়িয়ে--

   রাতের শিউলি হত্যা করা

অবাক হই না!

চূর্ণ হওয়ার ভয় থেকে যায়

একটা প্রান্ত খসার পরও

অন্য প্রান্ত খসে যায়--

   তাতে আমি অবাক হই না!

ভোজনবিলাসী পোশাকবিলাসী

পুষ্পরেণু গুঁড়া হওয়ার পরও

অবাক হই না-অবাক হই না!

বিরক্তিকর ধ্বনি শোনার পরও

  অবাক হই না--

নাভিদেশ থেকে ঊর্ধ্বমুখী শ্বাসের টান

       অবাক হই না!

 

আফরোজা অদিতি-র কবিতা

সখিনার দিনকাল

গভীর রাতে ওঠে চাঁদ মাঝ আকাশে
মুখে রঙ মাখে সখিনা, চোখে কাজল
ঠোঁটে গাঢ় সস্তা লিপিস্টিক!

স্বামীকে নিয়েছে তাঁর নব্বইয়ের
গণঅভ্যুত্থান।

রাত দুপুর ঘনায় অন্ধকার পথ হাঁটে
সখিনা; ধানক্ষেতে কখনও কখনও বা
পাটক্ষেতে মহাজনের করাল থাবা!

কাঁদে সমিরন, জমিরন, করিমন
অপেক্ষাতে থাকা পরিবার তাঁর; কখন
ফিরবে সখিনা; পাবে দুধ, পাবে ভাত
গরম ভাতের গন্ধ ছড়াবে বাতাসে!

মধ্য আকাশে ঝলকে ওঠে সূর্য
তপ্ত জিহ্বাতে ঝরে আগুন! কাঁদে রজনী,
কাঁদে সখিনা ঝুলেছে ফাঁসিতে বিয়ের কনে
সমিরন; দিতে পারেনি যৌতুক!

হেঁকে যায় মন পথে অচেনা
ফেরিওয়ালা! মন কেমন করা বাতাস
ঘুরছে বিশ্বজুড়ে! 

 

শ্রীদাম কুমার-এর কবিতা


 খানকয় বই,  শূণ্যতার তাকে

বইয়ের তাকে খানকয়   বই

   আছে সাজানো--পড়া হোক বা না হোক

    আমার অস্তিত্বের স্বপ্ন নিয়ে...... 

    চরাচরের শূন্য ভুবনে

     অস্তিত্বের কোন্- এক অদৃশ্য সূতোয়

    থাকবে জড়িয়ে-- জানা নেই..... 

 

   

   খাতা-কলম কিছু আঁকিবুকি--

   আকীর্ণ সমাহার, গুচ্ছগুচ্ছ ক্ষনিক রোমাঞ্চ

   প্রকীর্ণতা..... 

   কোথায় থাকবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে

   জানি না..... 

 

  কায়ার কলহে কোকনদ

  ওঠে ফুটে নিত্যদিন

  গন্ধবিধুরতা চারপাশে কেবলই.... 

 

 

   কী আর করা, শূণ্যতাকেই 

   আচমন করে গলাধঃকরণকরছি 

 

 

   বিম্বের প্রসারণে দিনদিন....

 

 

  দিনগত গ্লানি ধুয়ে যাওয়ার পালা এবার,   

   অপেক্ষা আর অপেক্ষা শুধু.... 


পলাশ গঙ্গোপাধ্যায়-এর কবিতা


 ওয়েভ

একটু লিখছি পারদ

একটু লিখছি মোম

দ্রুত লয়ে বারবার 

কেটে যায় সম


একটু সাঁতারে নদী

একটু সাঁতারে জল

তাতেই স্তব্ধ গান

জীবন ছলচ্ছল 


আর কি বাকি কিছু!

গহিন কথার নৌকো 

সময়ের ঝাঁপতালে 

ঢেউ গো​নে​, আতঙ্ক 

রাজীব চৌধুরী-র কবিতা


তৃষ্ণা

আগুনের ফুলকির মতো ওই যে চিলতে

 কাটা দাগ 

তোমার আমার ক্ষত, বিষণ্ণ গহ্বর

 

অবিরাম,অবিরত, অন্তক্ষরণে রত

ঘনবিষাদ

সুতো টেনে টেনে চলা, মৃত্যুর ফাঁদ

 

পাড় ভেঙে ভেঙে, পাড় ভেঙে ভেঙে

জেগে ওঠা ডাঙা, রোদ পোড়া কাম-রাঙা

সিঁদ কাটা চোর

 

উষ্ণতা, চুম্বন,শেকল ভাঙা দোর

যেন যক্ষের ধন

ঘন হয়ে আসা ছাওয়া,শিরায় শিরায় নিরন্তর

 

প্রতিটি অন্তে মিশে যাওয়া

যেমন জোছনা

মৃত ঠোঁট,যেমন গলে গলে পড়া,ভেজা সোহাগ


রোশনি ইসলাম-এর কবিতা


কমলালেবু-সকাল

স্মৃতিগুলো কত নিবিড় এলোমেলো।

সেই যে শীতের মরশুমে কমলালেবু-সকাল

উষ্ণতর সূর্যের আলোয় প্যানজি ডায়ান্থাস

                           ঘূর্ণায়মান নাগরদোলা

সোনালি বেগম-এর কবিতা


শুভদৃষ্টি, গভীরতা মাপে

জলের গভীরতা মাপে চোখ। আকাশে তখন

জ্বলজ্বল নক্ষত্র ব্রহ্মহৃদয়। আলোর ব্যতিচার,

কখনো শব্দতরঙ্গের ব্যতিচার ছুঁয়ে এই বেঁচে

থাকা। সময়ের সঙ্গে লিপিবদ্ধ চাপ মুক্ত করতে

আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠে। ব্যাসল্ট সেই প্রস্তরখন্ড

ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বিপ্রতীপ কোণে অবস্থান

বিদ্যুৎকোষ, তৎপর বিদ্যুৎ আধান পরিবাহী সংযোগে

শুভদৃষ্টি ঘটে।