মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা
বন্যা ব্যানার্জী-র কবিতা
পলাশ গঙ্গোপাধ্যায়-এর কবিতা
মহঃ মহসিন হাবিব-এর কবিতা
মেঘরাগ
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা
শবসাধনা
নিজের ভেতরে ভৈরবী আর মালকোষ
আগলে রেখেছো শিবরঞ্জনী ঝঞ্ঝা
উঠে এলো যত কড়ি ও কমলে সব দোষ
তোমার সঙ্গে মিল দিতে তবু মন যায়
তোমার সঙ্গে মিল দিতে তবু মন চায়
রাগ জীবনের সব চেয়ে বেশি জরুরি
আঘাতে আঘাতে রৌদ্রপাতের মহিমা
পারাপারহীন ভেসে থাকে জিন পরী
শুদ্ধ নি এর সঙ্গে মিশেছে কড়ি মা
এমন ই তো হয় শেকড় ছড়ায় মাটিতে
এমন ই তো হল তোমার আমার জীবনে
কত সহজেই দেয়া নেওয়া সারা
স্বপ্নের মায়া তছনছ সম্পর্কের হননে
পাথর তবে কি গড়িয়ে গেছিল জলে
শাখা নেই তবু আঁকড়ে ধরেছি পল্লব
ধ্রুপদ ধামারে এমন কথায় বলে
প্রতি মুহূর্তে খুঁড়ে খুঁড়ে দেখি সেই শব ...
আজ প্রতি মুহূর্তে খুঁড়ে খুঁড়ে দেখি সেই শব.......
হাবিবুর রহমান-এর কবিতা
মৃত্যু শোকের গান
বন্ধন পাল-এর কবিতা
সুস্মিত হালদার-এর কবিতা
বিয়ে
কথায় বলে না কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন।
অপরিমেয় দারিদ্র ও দুঃখে ভরা রামবিলাসের
জীবনে রাম বিলাসের ছিটেফোঁটা জোটে নি।
বিহার থেকে পেটের দায়ে কলকাতা এসে
কাপড় ইস্ত্রী করে পেট চলে। চালু রাখে
আরও কয়েকটি পেট।
একটা পেটের অন্ন-সংস্থান কমবে ভেবে
পনের বছরের মেয়ে মুন্নির বিয়ের তোড়জোড়
শুরু করেছে রামবিলাস।
পাত্র সারাদিন ধুলো মেখে মুটের কাজ করে যেটুকু
পয়সা পায়, তাতেই ভরাসা করে দরিয়ায় ভাসিয়ে
দিতে চায় মেয়েকে সেই পরমাত্মার সঙ্গে।
মেয়ে মৎস্যকন্যা হয়ে ডুব দেয় গভীর জলে।
শান্ত জলে মুন্নি দেখে বিরাট আলোকোজ্জ্বল
প্রাসাদ। তাকে সাজানোর জন্য ব্যস্ত প্রাসাদ-রমণীরা।
গহনা অলঙ্কারের শেষ নেই। প্রহরে প্রহরে নতুন অঙ্গবিলাস।
সন্ধে হতেই অগণিত অথিতির আনাগোনা। মার্ক জুকারবার্গ, বিল গেটস
এসেছেন বিদেশ থেকে। বলিঊদের তিন ‘খান’ উপস্থিত।
আছেন অমিতাভ বচ্চন, আরও বলিউড তারকারা।
আছেন দেশ বিদেশের বড় বড় বিজনেস টাইকুন।
বিদেশীদের কাছে কোলাবার বড়া পাও আর পনির বিরিয়ানি খুব ফেবারিট
হয়েছে। আর জামনগরের পেড়া।
সারাদিন পরে মুন্নি মৎস্যকন্যা জলের উপরে একবার ভেসে উঠতে চায়।
জলের উপরের বাতাস নেবে বলে।
কিন্তু সে উঠতে পারছে না।
তার সমস্ত দেহটা জালে পেঁচিয়ে গেছে এমনভাবে
যে বেরোনোর পথ নেই।
সুপম রায় (সবুজ বাসিন্দা)-এর কবিতা
তীর্থঙ্কর মৈত্র-এর কবিতা
যে নাবিককে ফিরিয়েছো
তোমার বন্দরে এসে জাহাজ ভিড়িয়েছিল
তরুণ নাবিক এক ;ফেলেছিল যে নোঙর;
তোমার উপেক্ষা বয়ে চলে যায় সে অন্য বন্দর!
তবু কোন দুঃখ নেই,নেই কোন অনুযোগ তার!
পৃথিবী দিয়েছে তাকে যেন আজ এই উপহার।
সামুদ্রিক পাখি এসে বসে দেখি জাহাজ মাস্তুলে;
নতুন রোদের ডানা এঁকে দেয় নীল নীল জলে;
সামুদ্রিক উপকথা;সেই নাবিকের জীবনে আবার
জয়ের আনন্দ আসে,পাতার মুকুটে নতুন পালক!
তুমি দূরবীনে রেখে নীল চোখ, দেখে হতবাক!
নাবিককে করে যাও মনে মনে আবার কামনা…
পাঠাও সংকেত চুপি;বলো— 'ফেরো হে নাবিক!'
সে আজ নির্ভীক, জয়ী!নীল জলের মতোন গতি!
এক দিন পেতে চেয়ে, কোমল তোমার সু-সম্মতি;
ফিরে গেছে অবহেলা শুধু অবহেলা পেয়ে বারবার
তোমার বন্দরে নামা,দিয়েছিলে তাকে অধিকার?
আজ মার্চের এগারো
ভবঘুরে কলোনীর সেই লাল মাদারের ফুল
হেলানো দুপুর রোদে আরো আরো যে উজ্জ্বল।
টালির বারান্দা নিচে মার্চ মাস এগারো তারিখ;
কচার বেড়ায় এসে দোয়েল কি ডেকেছিল ঠিক
মনে তো পড়ছেনা আজ!বটের পাতায় হাওয়া
টিয়ার মতো তারা,পাশে নার্সারির শিশু দল
খেলছে কি তারা সব? পি ডবলু ডি-র পাঁচিলে
নৈঃশব্দ, রোদ মিশে নীলাভ আকাশ, তপ্ত ঘাস
বাবলা ছায়ায় নিচে জুড়াচ্ছিল সবুজ শরীর—
তোমার কি মনে আছে?নাকি সব গেছো ভুলে?
আবার এসেছে মার্চ, এগারোকে নিয়ে সাথে;
অনেক বছর হলো,স্মৃতি সময়ের ফুটপাথে
হারালো কি? ভাবি, কয়েনের মতো পড়ে, ছেঁড়া
পাতলুনের রঙফেড পকেটের থেকে নাকি আজ?
নতুন শতাব্দী এলো,আমরাও নতুনের হাতে
আবার নতুন হই, হৃদয়ের ঝুল ঝেড়ে ফের!
পার্থ সারথি চক্রবর্তী-র কবিতা










