সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২

সন্তর্পণ ভৌমিক-এর কবিতা


প্রেক্ষাক্ষেত্রে  অপেক্ষা করো

রাত্রে বসে জোনাকির দল

তার সাথে প্রেতবংশ মিশে
অহেতুক শব্দ আসে
তোমাদের নিরন্তর নিরবধি ভেদে
বৃদ্ধি পায় শব্দগুলো জ্যামিতিক হারে

আমি ক্ষুদ্র এক প্রেক্ষাক্ষেত্রে বসি
নিজেকে আড়াল করি
সমূহ সম্যক যুদ্ধের আদি পূর্বাভাসে
যদিও শত্রু নেই কোনো
তবুও ক্ষিপ্রতার বিচ্ছিন্ন সংযোগে
গতিও প্রকারান্তরে শত্রু ভেবে জেগে উঠে
প্রলয়ের অমোঘ ইচ্ছায়

লৌহ বর্ম নেই, অতএব উপদ্রুত হ্রদে
একা জড় হয়ে অনধিক ধীর স্থির লয়ে
বকছি প্রলাপ কিন্তু দিবারাত্রি আশৈশব
(
বিবিধ তোমরা সব সহে গেছ আমার গোঙানি)

কেউ কি এসেছে আজ?
(
কথা হবে, দুঃখ হবে এমত ইচ্ছায়)
গলিত কূপের মধ্যে বসে আছি আমি রোজ
(
কার অপেক্ষায় হরিয়াল তুমি!)

কোন এক পচনশীল অস্থিরতায়
তুমি এসে ফিরে গেছো
মূক হয়ে আছো এক দুঃস্থ নীরবতায়।

গৌতম রায়-এর কবিতা

কলঙ্কের নিষ্কলঙ্ক মাখতে চাই

 

এক পশলা বৃষ্টি এলো কুমড়ো ফালির মতো লাজুক, নত দৃষ্টি 

আছে জল আছে শর্করা মিনারেল 

মেঘ ছাড়া তুমি কি আমার হবে?

আমি নদী হবো  

কলঙ্কের নিষ্কলঙ্ক মাখতে চাই।

 

গোবিন্দ ধর-এর কবিতা


জলজীবন

জলে জলে গুলে গেলো গোটা এক জীবন।

 

স্মৃতি মুছে ফেলতে জলের কোন ভূমিকা নাই।

জলের কাজ নিচের দিকে গড়িয়ে যাওয়া

আর তৃষ্ণা বালকের ক্লান্তিতে আরাম দেওয়া।

তবুও মন ভালো নেই হলে আমাদের একমাত্র 

গন্তব্য বলতে জল- শেষ আশ্রয়। 

জলের নিকট যাই জলখেলি।

জল ডুব ডুব নিজের সাথে একটু চলি।

 

সাগর আমাদের মনের গভীর থেকে ক্লান্তি শুষে নেয়। 

নদী শেখায় ভালোবাসা আর পাড় ভাঙার গাঙগাথা।

পুকুর সাঁতার শেখার যৌথ খুনসুটি শেখায়।

ধীরে ধীরে জমতে থাকা নানান রকম

পলি কেটে কেটে সামনে  ভোরের স্বপ্ন দেখা যাপন

আর অসংখ্য দেওয়ালপা পিছলে গেলে

খাবি খেতে খেতে পরিখায়ও ডুবে যায় স্বপ্নবিলাস।

 

অতিবৃষ্টি বন্যা ঝড় লকলকে জিভ ছুঁয়ে দিলে

গোটা জীবন থেকেই কেড়ে নিতে পারে : সুখপাখি।

অমিত কাশ‍্যপ-এর কবিতা

 

সুপ্রভাত

 

দূরে আছি বলে সরে আছি, ভেব না 

সুপ্রভাতে একজন ফুল দিয়ে লিখেছিল

হোয়াটসএ‍্যাপ কতকিছু কাছে করে 

কবিতা কোথা দিয়ে হাজির হল হঠাৎ 

 

সহকর্মী, না তো, আত্মার আত্মীয় 

পুরনো দিনগুলো ভাসিয়ে দিল, ছবির মতো

অজস্র মুখের সারির ভেতর ভেঙে পড়া কাহিনি 

দিনযাপনের আরেক নাম স্মৃতিভার

 

অনেক দিন পর পুরনো নামে কেউ ডেকে বসে 

যদি চিনতে পারিনি বলে, এড়িয়ে যাই

যদি ভেতরে ভেতরে ম্লায় হই, আর দুঃখ পাই

তুমি ভুল বুঝবে, বা বলবে কিপ ইট অন

শুদ্ধেন্দু চক্রবর্তী-র কবিতা


লাজবন্তী সরণীর মোড়

তৈজসপত্রে লেখা চিঠি

এতো শক্ত শব্দের পর

হঠাৎ অজেয় হলি তুই

চোখ ঠিকরে আগুন বের হল

আগুনের মতো সূর্যমুখী

 

ঘুরিয়ে চলেছি সংখ্যা গুলো

এক হাজার আটাত্তর বার

ধূমের আড়ালে সাহসিনী

ভয় নেই দোলাচল নেই তবু

লাজবন্তী বাড়ি ফিরল না

 

জাদুঘরে যত্নে সাজানো

সভ্যতার হাড় মজ্জা করোটি

করোটিতে রক্তনিশান

লাজবন্তী বাড়ি ফিরে আয়

তোর নামে সরণী লিখব ঠিক

 

যোগপট্ট পেল কী সন্ন্যাসী

সদিচ্ছাস্বরূপা হল বুঝি

উল্টে দেব হোমের আগুন

নিভে যাক পয়মন্ত জল

লাজবন্তী ফিরে আয় বাড়ি

 

তোর নামে শহরের মোড় ...

সমরেন্দ্র বিশ্বাস-এর কবিতা

 

দাবানলের হরফেরা 


জোছনার ব্যাগ ভরে যাচ্ছে

বহু বছর আগেকার ধোঁয়ায়!

ক্লান্ত রাতগুলো ভাঙছে দগ্ধ স্মৃতির লকার,

কেঁপে কেঁপে উঠছে নিঃসঙ্গ নক্ষত্রেরা

বুকের ভেতর টি টি ডাহুক পাখি,

দূরের নির্জনে কোথাও বাজছে সমাপ্তি সঙ্গীত

এই আয়ুস্মান রাতে আজ আকাশটা কেনই বা পাঠালো

দাবানলের হরফ -

ভুলে যাওয়া মহাশ্বেতা আলো?

কতদিন আগেই তো আমি

আগুনে জ্বালিয়ে ফেলেছি দাহ্য বর্ণমালা

বিসর্জন দিয়েছি আঁকাবাঁকা হরফগুলোকে

ধুয়ে ফেলেছি শিশিরের জলে লেখা প্রেম

উড়িয়ে দিয়েছি জিপসি মেয়েটার ব্যবিলন হাওয়া!

রাত্তিরের খোলা শরীরে এখন অবারিত বিভাজিকার কুহু,

জলস্রোতে স্মৃতিমাখা শীতকাল

শাড়ীতে জড়ানো ন্যাপথলিনের গন্ধ,

দাউ দাউ দাবানল 

হরফগুলো থেকে দগ্ধ ধোঁয়ারা এখনো উড়ছে!

রোশনি ইসলাম-এর কবিতা

মিশে যাই

 

জলপ্রপাতের জল অজানা শিহরণ নিয়ে

ভেসে যেতে থাকি। বরফ গলে গলে

জল। এই উপত্যকা সবুজ বন্যায়

রবীন্দ্রগান সম্বল। আশায় আশায়

অবিশ্রাম প্রহরী হয়ে আবর্তিত বার-বার।

খন্ডিত বেদনা হারিয়ে আনন্দধারায় মিশে যাই।

 

সোনালি বেগম-এর কবিতা

বৃত্ত-জাল

 

অ্যাম্নিওটিক ফ্লুইড ঘিরে স্বর্গধাম

জানালার ধার ঘেঁষে ঝর্না বয়ে যায়

তেজপাতার সুগন্ধ আকৃষ্ট নার্ভসেল –––

হাঁসের মতো পাখি অ্যাভোসেট

            তার সাদা-কালো মোহিনী রূপ নিয়ে জলের কিনারা।

ধানশীষ অক্ষ ঘিরে তোলপাড় ইঁদুর সাপের গর্ত

পরিবর্তনশীল শরীর নিয়ে এককোষী অ্যামিবার অবাক বিস্ময়।

অ্যামিউজ্মেন্ট পার্ক ঘিরে হুল্লোড় গলিপথ

দুটি হ্যান্ডেল ধরে গড়িয়ে পড়ছে জল তৃষ্ণার্ত বুক ভেজে।

অ্যানুয়াল রিং নিয়ে গর্বিত বৃক্ষ-বয়স

পিঁপড়ের অ্যানটেনায় কিছু চমকপ্রদ গন্ধ লেগে থাকে

পিঁপড়েভুক এগিয়ে আসে নিজস্ব খেয়ালে

আপাত দৃশ্যমান সূচ-সুতোয় অ্যাপ্লিক সজ্জিত টেবিলক্লথ

গৃহবধূর হাতে শিকারির তির ধনুক এসে পড়ে –––

কোনো প্রতিযোগিতা নয়, তো বেঁচে থাকার রঙিন বৃত্ত-জাল