সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২

প্রাণজি বসাক-এর কবিতা

সময়ের গান 


এখন আর তোমার গান শুনতে পাই না 

সমস্ত বেড়াজাল পেরিয়ে এ পাড় 

অকুস্থল কিনা বুঝি না 


কারো কোনো দোষ নয়

চলমান-চিত্রে সময় বড় বেশি টানে 

যে যার মতো আসে আর শুনে যায় গান


ক্লান্ত দৃষ্টিতে আসে চেনা অচেনা পরিজন মেলা 

চোখে পড়ে না আয়ুকাল মমতা

আষাঢ় শ্রাবণের বৃষ্টি মুখরতা 


দীর্ঘ সময়কাল পর এই অস্থির শহরে … 

এখন আর তোমার গান শুনতে পাই না 

 

অদিতি সেন চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা

মনখারাপের বৃষ্টি 


টুলটুলে-ফুল-মুখখানি মেয়ে 

হাত পেতে দেয় বৃষ্টিধারায়...

চোখের পাতায় জল ছুঁয়েছে,

ঝাপসা কাচে দৃষ্টি হারায়

কোন সুদূরে, কোন দুপুরে...

মায়ের আঁচল জল মুছে দেয়,

জল মুছে দেয়।  মন-খারাপে,

মন-খারাপে বৃষ্টিরা যায়

কোন সুদূরে? কোন দুপুরে? 

মায়ের কাছে?...


 

রিয়া চক্রবর্তী-র কবিতা


স্বপ্ন

স্বপ্নে আমার পাহাড়পুরে বাস

ছুটছে দেখো পাহাড়ি এক নদী

বিষাদ নিয়েই কাটতো বারোমাস

তোমার সাথে দেখা না হতো যদি

 

তোমার শ্বাসে রাখা আমার শ্বাস

দুঃখ সবই সরছে দূরে দূরে 

জীবনজুড়েই তোমাকে বিশ্বাস 

মায়ার কুসুম যাকনা উড়ে উড়ে

 

তোমায় নিয়েই অহংকারী আমি

তারায় তারায় তোমারই ছবি আঁকি

ভালোবাসা জানি সবার চেয়ে দামী

ইচ্ছে ভীষণ জড়িয়ে তোমায় থাকি

 

তোমার পরশ আমার শরীর পেলে

উঠবে বেজে সারেঙ্গি সাত সুর

আকাশ কুসুম স্বপ্নে সাগর এলে

দুঃখ যত যাকনা বিষাদপুর। 

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা

রোদ্দুরের কোলাহল


কি জিজ্ঞাসা করল নাইবা জানা গেল, হয়তো শোনাও যায়নি অথবা 

এমন জিজ্ঞাসা যার কোনো উত্তর হয়না বা নেইও।কিছুই যায় 

আসেনা। আকাশের নীচে তো কেউ ভাসেনা তাই জিজ্ঞাসা মানেই 

বাড়ির দিকে কেউ না কেউ আঙুল তুলেছে। প্রশ্ন শুনে বেশ 

কিছুটা হেঁটে গেলে আবার ফিরেও এলে কিছুক্ষণ পরে এসবের কিছুই

মানে নেই কিন্তু যাওয়া আসার পথে কিছুটা বৃষ্টি অনেককেই দরজা 

খুলিয়ে বাইরে আনিয়েছে। এসবেরও কোনো অর্থ খুঁজে পাওয়া যাবে না। 

তবে জিজ্ঞাসা, হেঁটে যাওয়া, বৃষ্টি —- এসব মাখামাখি হয়ে সেদিন 

না হলেও খুব তাড়াতাড়ি কোনো একদিন না ঘুমিয়ে জানলা খুলবে 

আর রোদ্দুরের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়া দুজন মানুষকে দেখে মনে 

হবে জানলার বাসিন্দাদের কাছে মেঘলা মানে বৃষ্টিদিনের অভ্যন্তরে রোদ্দুরের কোলাহল। 

 

সুবীর সরকার-এর কবিতা

গল্প


আমার কষ্টের গল্পে ঢেকিপাতার আড়াল

একটা দেওয়াল,দেওয়ালে দেওয়ালঘড়ি

পাখির নাম লেখা অজস্র বেলুন উড়ে যাচ্ছে

বালুতে গুঁজে রাখছি আমাদের অস্ত্রশস্ত্র

আড়াল ও আবডাল নিয়ে কথা হয়

দীর্ঘ একটা লিচুবাগানে খুব ছায়া খুঁজতে

                                                      থাকি

আসলে তো সেই টানা গদ্যে লেখা গল্প

পোষা বেড়ালের নিরাপদ আঁচড়

কোন আশ্রয়ই বস্তুত নিরাপদ নয়।

আমার কষ্টের গল্পে চিকন চিড়া,রুমালে জড়ানো

                                                        দই 

নীলাদ্রি দেব-এর কবিতা

সূত্র 

 

তাপসর্বস্ব একটি পদার্থবিদ্যা ক্লাস

হঠাৎই হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমিক

লাইমসোডায় ডুবে আছে

              আনসলভ্ড এমসিকিউ

সমস্যা নিয়ে বিস্তর আলোচনার পর 

সমাধান বিষয়ে ফুটনোট 

সবটা সূত্র মেনে নয়

 

আশিস গোপাল-এর কবিতা

প্রথম স্পর্শ 

রাতের ঘন কালো পর্দা ছিঁড়ে সে চলে গেছিল বহু বছর আগে।

আমি খুঁজেছি তাকে বহু বর্ষা ধরে,

তার ঠিকানা ছিল সবুজে ঢাকা--

আমি ফিরে গেছি বার বার!

 

বহু বর্ষা কেটে গেছে

ভিজিয়েছে অনেক রাত, ভুলিয়েছে অনেক স্মৃতি;

আমিও ভুলেছিলাম তোমায়--

তুমি ভুলেছো আমায়...

 

সে রাত আমি হেঁটে গেছিলাম তোমার প্রিয় রাস্তা ধরে।

দেখি, আজও আলো জ্বলেনা সন্ধ্যায়

যেন বিষণ্ণতার কালো মেঘ ঢেকে রেখেছে!

 

আমি ধাক্কা খেলাম হঠাৎ।

তাকিয়ে দেখি তুমি!

দেখে মনে হল যেন হাজার হাজার যুগ ধরে হেঁটে চলেছ--

ঠিকানা বিহীন পথে।

তোমার মলিন হয়ে যাওয়া কালো জামা তোমায় জড়িয়ে রেখেছে কেবল,

চোখ তোমার ধূসর কুয়াশার চেয়েও।

তোমার জীবন্ত লাল ঠোঁট আজ মৃত।

 

হয়তো সে কিছু বলবে বলে চোখে চোখ রেখেছিল

শুধু এক মৃদু হাসি হেসে সে চলে গেল; 

 

সাম্য ভট্টাচার্য-এর কবিতা

প্রবেশ পথ

                

পণ্যে আটকে থাকা জীবনকে সময়ের আদালতে                    

ঘড়ির কাঁটার যুক্তির সাহায্যে মাপছি এবং প্রশ্ন করছি               

আমার ভেতরে জমে থাকা অন্ধকারের বিচারকের                

বিচার-পদ্ধতির বিরুদ্ধে দানা বাঁধা                        

পরিচিত ভাষায় আক্রমণের প্রশ্নকে।

 

নীরবতাকে ভাষার গভীরে নিয়ে আসার পরে

আমি ভাষা অতিক্রম করে ভাষার অন্তহীন সভ্যতায়              

দস্তানার অপরমুখে চিহ্নকে লিপির দালানে,

যৌনতার দেহে সাজিয়ে রেখেছি ,  --                         

সেই পবিত্র মন্দিরে জোছনার আলো                      

সমুদ্র মন্থনের শেষে লক্ষ্মীর হাসিমুখে নেমে                 
গ্রাস করছে এখন প্রেমের রাহুর অসম্পূর্ণ ক্রোধ।