শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২

সুতনু হালদার-এর কবিতা

কারা যেন মৌনতা ভাঙত

   

কারা যেন বলেছিল তোলপাড় করে দেবে

কারা যেন মৌনতা ভাঙত?

সেসব কথাতেই ভুলেছিল জনগণ

রাতটাকে দিন বলে জানত!

 

রাত থেকে রাত হয় বাকি সব মাত হয়

ভয় পেয়ে সেই বুকে আশ্রয়

নিদান হাঁকলে যদি বুকটাই ভেঙে যায়

লাভ নেই করে মুঠো বন্ধ

 

তার থেকে হাত দু'টো জড়ো হোক সামনে

হাত জড়ো নয় কোনো অপমান;

এই করে যাক চলে দিনগুলো পরপর

রাত থেকে রাত হয় বরাবর

 

কারা যেন বলেছিল তোলপাড় করে দেবে

কারা যেন মৌনতা ভাঙত?

 

আগে সব দুর্দিনে বৃষ্টির ছাঁট ছিল

আগে ছিল দুঃখের শয্যা,

ওরা তাই এনে দেবে সুদিনের প্রান্তর

ঘুচে যাবে গরিবের লজ্জা

 

সোনার ছোঁয়ায় সেই বৃষ্টির ব্যবহার

সোনাতেই কেটে যাবে অনাহার

যোগ্যতা পরিমাপে মাপকাঠি সঠিকের

ভুল কিছু থাকবে না ক্ষমতার

 

কারা যেন বলেছিল তোলপাড় করে দেবে

কারা যেন মৌনতা ভাঙত?

 

কথা সব ঠিক ছিল, বেকার যুবক ছিল

প্রতিবাদী সুর ছিল অম্লান,

দামাল বিকেলগুলো হাহাকার- হাহুতাশে

ফিরে পেল বিবেকের ফরমান

 

ভিক্ষার ঝুলি হাতে এক ঠাঁই, মৌতাত

বাকিসব উড়ে গেছে--কর্পূর!

ঘুরপথে বৃষ্টিরা চাঁই হয় আগুনের

পথ হাঁটা হয়ে গেছে বহুদূর

 

কারা যেন বলেছিল তোলপাড় করে দেবে

কারা যেন মৌনতা ভাঙত?

 

সুবীর সরকার-এর কবিতা

জীবন

এসোরোদের ভেতর দুহাত মেলে দাঁড়িয়ে থাকি।

পলাশ বনে শুয়ে আছে 

                               ডেডবডি

কিছুতেই জোড়া লাগে না ভাঙা কাচ।

মনখারাপ গোছাতে গোছাতে আস্ত একটা জীবন

                                          ফুরিয়ে গেল

 

পাপড়ি গুহ নিয়োগী-র কবিতা

ডিজিটাল আর্কাইভ

ইদানিং দাম্পত্য বানান লিখতে পারি না 

অথচ কৃষ্ণগহ্বর হাতড়ে হাতড়ে সঙ্গম লিখি

 

সম্পর্কের তালিকায় এখন কল রেকর্ড 


ওয়াল

দূরত্বের হ্যাঙ্গারে ঝুলে আছো তুমি

রুমালের শরীর ভেজা

 

অন্ধকার নামছে আমাকে ঘিরে 


উচ্ছ্বাস 

ঘুমের ভেতর রাতের চিৎকার 

জিভ দাওগাছ হবো

কবির ঘরে মৃত্যু মানায়  

নীলাদ্রি দেব-এর কবিতা

পাণ্ডুলিপি 


একটি তীব্র খয়েরি বিষণ্নতা গিলে নিচ্ছিল পুরোটা নয় অর্ধেক চিবোনোর পর টুকরো 

অথচ টুকরো নয় এমন খাবারখণ্ডের মতো গিলে নেওয়া  উগলে দেবার মাঝামাঝি

একটি দীর্ঘ শুয়ে থাকা মাথার ভেতর ঢুকে যাচ্ছিল  পোকাদের গুনতে বসে ক্রমিকের এদিক ওদিক হারিয়ে 

যাচ্ছিল সংখ্যাসংখ্যাতীত সত্য তবে নির্বিকার চাউনি ছিল

ধূসর সম্পর্কের নাভিতে যতটা ওম পেলেআকস্মিক যোগবিয়োগের নাড়ি ড্রপ ড্রপ আহ্লাদের মতো চুঁইয়ে... 

বেগতিক স্পর্শকের দিকেএকটি পাণ্ডুলিপি থেকে সে পরিমাণ অক্ষর নিরুদ্দেশ হল

 

আশিস গোপাল-এর কবিতা

ছেঁড়া রাত

হেঁটে গেছি একা কালচে যত ছায়া পথ ধরে

হারিয়েছি নিজেকে--

লো-অন্ধকারে।

তবুও তো সে বহু দূর

ছায়ার তো পিছে ছুটি

 ধরতে না পাই,

দূরে চলে যায় বারবার!

শান্ত ভোক্লান্ত ব্যথা

 মুখো পরে নতুন করে। 

যদি দেখা হয় আবার

 অচেনা কোনো ভীড়ে মাঝে,

 দেখতে পেয়েও এড়িয়ে যাবে

 নতুন কোনো 'স্রোতেরটানে।

আবার এসেছে রাত--

ছেঁড়া তার বুকে নিয়ে;


অমিত কাশ‍্যপ-এর কবিতা

বর্ষাকাল


মেয়ের খাতায় সিনারি আঁকতে হবে, বর্ষাকাল

নানানভাবে মেঘ করা গেল, গ্রামের রাস্তা 

চালাঘর, গাছ, দূরে মন্দিরের চূড়া, ধ্বজা

ইত্যাদি প্রভৃতি দিয়েও ভরতি করা গেল না 

 

আমার সাতশো স্কোয়ারফিটের ফ্ল‍্যাটের মাথায় 

যে আকাশ দেখা যায়, তাকাই, নরম বিকেল

দূরে বাচ্চারা বল খেলে মাঠে, বয়স্করা পায়চারী

আরও দূরে সুউচ্চ আবাসন আকাশ ছোঁয়

 

আকাশ এখন ছোট্ট একটা নীল চাঁদোয়া

নিচে রাস্তা, দুপাশে গাড়ির সারি, শপিং মল

শহরের বর্ষাকাল রাস্তার জমা জল আর 

ব‍্যালকনি থেকে বাচ্চার হাতের কাগজের নৌকা 

 

রবীন বসু-র কবিতা

পুনরাধুনিক


কোথায় প্রেম রাখি বল? ডুবে যায় পদতল 

ঘোলাজলে মাছ ধরে কৃষ্ণবর্ণ ধীবর কন্যা

যমুনা মজেছে বহু আগে, নালা দিয়ে গড়ায় জল

পরিত্যক্ত ভাগাড়ের পাশে কালোধন পাতা খায়

ডেনড্রাইট চুষে নিল ষোলশো গোপিনী

রাত্রি নামে ধীরে, অর্থনীতি ঝুঁকে রাখে মাথা

এসকর্ট সার্ভিসে যায় কলেজনন্দিনী

সুবল সখা পৌঁছে গেল জি-থার্টি-ফাইভ টাওয়ারে 

জিগোলো সার্ভিস

এই সেই বৃন্দাবন, এই সেই গুলাল শহর

ভেসেছে প্রেমের জলে আকণ্ঠ মদ

জেগে ওঠে নিশিঠেক, ডিজের বাজনা

হুক্কার ধোঁয়ার সাথে পুনরাধুনিক কবিতা


এই তো বিচিত্রখোল বেজে ওঠে

                                 তা দেন্ না তে টে 

 

তমোজিৎ সাহা-র কবিতা

 

মনকলম


কলমেরও মন আছে

আগুনে পোড়া যন্ত্রণা

আছে তার আছে ভয়

ভাষাহীন স্তব্ধতায় 

নিজের সঙ্গে পরিচয়

 

ঝলসে যাওয়া মুখ আছে  

মুখোশের বীভৎসতা দেখে

ছিটকে আসা কালি লেপ্টে

থাকে ধবধবে ডায়েরির

তকতকে মেঝেতে


কলমেরও মন থাকে

অচেনা কুঠুরিতে।