শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০২২

বন্ধন পাল-এর কবিতা

শূন্যতা শুধু


সে অন্ধকার তোমার ওপর পড়েনি

সে আলোকণা তোমার ওপর পড়েনি

শুধুই শূন্যতা পড়েছিলবয়ে যাওয়া বাতাসের মতো।

পড়েছিল,পড়ে থাকেনি; বিস্তৃত 'তে 'তে

দীর্ঘদেহী এক স্রোতস্বতী

যেরকম স্রোতে ভেঙে গ্রাস করে ফেলে নির্জীবতা

তেমনই প্রবহমান তুমি।

চিত্রিত নানান রং বুকচাপা শূন্যতার তলদেশ থেকে 

বুদ্বুদে ছড়িয়ে গিয়েছিল,

মন যাকে নিরুদ্দিষ্ট দেখতেই ব্যগ্র হয়েছিল

হৃদয় সে শূন্যতাকে রেখেছিল আগলে দু'হাতে।

 

যেখানে আভাস আছে,আর কোন‌ওকিছু বেঁচে নেই

সেখানে হারিয়ে তবু সব নিয়ন্ত্রণ

বিস্তৃতির বন্যা আছে,আর আছে ভারাক্রান্ত বোধ

বয়ে যাওয়া বাতাসের স্রোতে।

 

থমথমে শোকাবহ নিশ্চুপ দিনের

রিক্ত কেন্দ্রবিন্দু থেকে তোমাকে তরঙ্গ টেনে আনে 

বালিকীর্ণ নির্দয় সৈকতে;যেন অস্থিরতা ঘেঁষা 

স্থিরতার বিষন্নতা

বিষাদের অস্থিরতা মেঘ হয়ে দূরে ভেসে গেছে

 

আর কোন‌ও অন্ধকার তোমার ভেতরে ঝরেনি

আর কোন‌ও আলোকণা তোমার ভেতরে ঝরেনি

 

শূন্যতা শুধু... শূন্যতা শুধু...  অকূলদিগন্ত ছেয়ে ছিল।

 

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়-এর কবিতা

বসন্ত বিলাপ


১.

পলাশের কাছে তোমার সাইকেল

বাতাসে বাউল 

পথ এখানে নিয়ে আছে চৈত্রের ঘাম

কিছুই হয় নি লেখা

তবুও রোদের গায়ে কার স্বরলিপি

কচি পাতায় 

কে লিখেছে তার প্রথম বসন্তের গান 

 

২.

চুপ শব্দটা নিয়ে খেলা চলছে

এই ব্যালকনি কবে চাঁদের দেশ 

টবে টবে আলো গাছ 

নজর লেগে যায় 

কড়ি আঙুল কামড়ে নিলে তুমি

মুখে ঠোঁটে স্পর্শ করে গেল আকাশপুরুষ

তোমাকে দেখতে দেখতে

রাত্রি চোখ নামিয়ে নেয় 

 

সুবীর ঘোষ-এর কবিতা

পলাশপ্রহরী


রং মেখে রং ঝেড়ে গুহার দিকে যাত্রা করল কুশীলব

নিশ্ছিদ্র প্রহরা ভেঙে আসেনি গণিকা-রাখাল-মহারাজ

বাউল অবশ্য ছিল সঙ্গে কিছু নকল সন্ন্যাসী

যারা বলল খাদ্যে কিছু ছলনা দেখেছে তারা হিতৈষী ছিল না?

দুই পথ তো মিলেছে কোথাও কিছু আগে অথবা দেরিতে

সেদিকেই সকলের আগ্রহ নজর সকলেই চায় স্বাদসুখ

বছর শিমুলের ঘ্রাণহীন বর্ণ নির্বাচন করে কোনো কী বার্তা পাঠালে?

ইতিউতি প্রেম হল বিনিয়োগ সম্ভাবনা হল ততোধিক

ফেসবুক পর্দা থেকে ভুইফোঁড় বন্ধু বশংবদ

গ্রহণ বর্জনে সব শর্তশপথ অনুচ্চার

তরলের প্রয়োজনে জগৎ পালটায় ঘর সংসার আতঙ্কে অস্থির

উৎসব ভালো যদি জটা থেকে নদী না পিছলোয়

 

নীলাব্জ চক্রবর্তী-র কবিতা

স্ট্রিমিং 

 

গাছের পাথর আর পাথরের গাছ

স্ট্রিমিং

স্ট্রিমিং

জড়িয়ে পড়তে পড়তে

বারবার

একটা ডিস্টার্বড লিরিক

এই পার হচ্ছে

শরীর

কে

একটা ব্যবহার ভাবছে

দৌড়তে দৌড়তে

পিক্সেলের পর পিক্সেল

খুঁত ধরছে

কাঁচ অবধি

এই ঋণ

এই ফুরিয়ে আসা...

 

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা

ডানার আগুন বুকে

(শ্রদ্ধাস্মরণ : কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক)

খুঁজে নেওয়া এক দীর্ঘযাত্রা
যাত্রা আর পরিযান কেমন মিশে যায়


গল্পটায় কত রক্তপাত তারপর দৃশ্যত কাঁটাতার ঘন হয়ে ওঠে
পাখি আর প্রজাপতি বাতাস বা মেঘ কোনো কাঁটাতার মানে না
কেবল মানুষ পোড়ে স্মৃতির আগুনে জড়িয়ে অজস্র বাধা
ঝরাপাতার মন্থর আগুন বড়ো আগ্রাসী চারিদিকে ঘিরে আসে
আধখোলা মুখে অঙ্গার ক্ষয় করে যা লেখো সেও তো স্মৃতিদাহ
জল বা সবুজ নদীর জীবন পলি,কাদা অথবা রূঢ়মাটি
গল্পগুলোর ফাঁকফোকর কমে আসে যত অপূর্ণতা
ভরে ওঠে সময়ের প্রলেপে,তবু থাক অলাত-অক্ষরে লেখা
জীবনের দিনলিপিগুলি দলিল হয়ে থাক আগুনের পাখি

    

 

আশিস গোপাল-এর কবিতা

একটি কথা

 

মনে পড়ে কত জন্ম আগে 

চিলেকোঠা ঘরের কোণে 

কত স্বপ্ন দেখেছি 

তুমি আর আমি মিলে

বিকেলের ক্লান্ত বকের সাথে।

সমস্ত স্বপ্নের গায়ে রক্ত মাখিয়ে 

মালা করে পরিয়ে দিলাম তোমায় 

তুমি খুশি হবে ভেবে।

আষাঢ়ের মৃদু হাওয়ায় ভেসে যাওয়া 

নৌকোর সাথে তুমি চলে গেলে

শীতের নির্জনতা রেখে।

আমি খুশি হলাম তুমি খুশি আছো শুনে।

 

দীপঙ্কর সরকার-এর কবিতা

আমার স্বপ্ন   

 

আমার স্বপ্ন যত ভেসে ফেরে সমুদ্রের ঢেউয়ে

ওড়ে ফুরফুরে বাতাসে পাল তোলা নৌকার

মতো  

 

আমার স্বপ্ন যত লেলিহান শিখায় পোড়ে অথচ

নষ্ট হয় না সবটা , ফিনিক্স পাখির মতো ডানা 

মেলে ফেরে

 

আকাশের নীল দিগন্তে মিশে যায় মহাশূন্যের

বুকে , ফলত আমার স্বপ্ন দ্যাখা শেষ হয় না

একেবারে

 

একটা স্বপ্ন বিলীন হতে না হতেই আর একটা স্বপ্ন

এসে ভিড় জমায় অদৃশ্য মনের গহনে ; স্বপ্নের শেষ

নেই কোনো

 

ফসিল হয়েও ঠিক ফিরে ফিরে আসে কড়া নাড়ে

বদ্ধ আগলে

 

গৌতম রায়-এর কবিতা

 

বাসন্তিক গীতবিতান বললে ক্ষতি কী

 

হোলিকা নাশের পর হ্লাদিনী তুমি কুড়োচ্ছিলে ঝিলের জল জলজ আর আবীর,

ঝিল তুমিও মেখে নিচ্ছিলে চিহ্নিত আগমনের রক্ত মাংস পোশাক রূপটান রেণু,

আমার দুহাত দুদিকে প্রসারিত করে কাপলিঙ্ক করলে

দেখলাম এগিয়ে আসছে চয়নিকা পলাশ

তার ভেতর বুনতে থাকা ভিয়েনে

ভ্রূণ আলোকপ্রাপ্ত হলে 

এই ছুটনের দৌড়ে বীজফলক হয় সুরবাহার,

এই মুহূর্তে ত্রিভুজে আঙুল ঘষলে কালকণ্ঠে পৃথিবীময় ওঠে ধুন 

পৃথিবী মিউজিয়ামে তাকে বাসন্তিক গীতবিতান বলতে ক্ষতি কী?