বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১

মৃণালেন্দু দাশ-এর কবিতা

তৃণের সংসার

এইখানে ঘুম , অবুঝ রাত্রির ডানা

মেঘের মিনার ছুঁয়ে উড়ে যায় উবুদশ পাখি

তার চোখে উঁকি মারে শিশিরের খুনসুটি কণা

তিল তিল সুখ


ঠোঁটে ঠোঁটে তৃণের সংসার ঠোকাঠুকি লেগে ভেঙে যায় আর

পড়ে থাকে মুহূর্তের শান্তি স্বস্ত্যয়ন


গোপনতা ভেঙে উঠে আসে উন্মুখ উরুর উট ভ্রুভঙ্গি

 

 

সুবীর সরকার-এর কবিতা


রাত্রিকথা
রাত্রিকথা শুরু না হতেই প্রস্তুতি শুরু

গিটারের দু পাশে জলের শব্দ

হেরে যাওয়া ম্যাচ জেতাবো আমি

ভ্রমণের গল্পে জুড়ে যাবে সুইমিংপুল

পাখি শিকারির ক্যামেরা চুরি করে 

তুমি চলে আসবে আমাদের শহরে

গিয়াস গালিব-এর কবিতা


যদ্দুর মনে পড়ে ততোদূর তুমি 

- আছো, - নাই 

থাকা না-থাকায় এই প্রত্যয় গড়ে, ভাঙে 

সমূহ-লীঢ়  

 

কতকিছু উজবুক 

কতকিছু লীন। 

 

প্রেমবতী গৌতম কী'সে!

যদ্দূর মনে পড়ে ততোদূর তুমি।

 

নিক্তিরাত, শহুরে কাঁপে হিমকর।

'তো 'তো মরু, 'তো 'তো হরিণের ভীড়

ভেসে ওঠে যেন 'মা ফাতেমা' গোর।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়-এর কবিতা


বিকেল গড়িয়ে গেলে

১.

বিকেলের গায়ে এক ঘরবাঁধা আফসোস থাকে

হাজার শালিকের জোকার পেরিয়ে

চোখ খুঁটে নেয় এক পাগলকে

ওখানে আকাশ সিঁদুর পরে হাততালি দেয় 

সূর্যাস্ত টুপ হয় অন্ধ মেয়ের কুলুঙ্গিতে

 

২.

নির্জনতা সন্ধ্যার প্রিয় নাম

সুরের আঙুল ছুঁয়ে মায়াবী প্রদীপ

কেঁদে আগুন লাগায় এক বেহালা

নেশা ধরে গেলে লেখার টেবিল

বিলের গভীর দেশে খোঁজে মাছের চোখ 

আর ক্রমশ আঁশগন্ধ উসকে

 ঝিঁঝিঁদের সহবাস শীৎকার

রাজীব চৌধুরী-র কবিতা


 অন্ধকার

অন্ধকার তুমি আমার শৈশব

চোখের কাজল

সজল নেত্রে করুণ, ডুকরে ডুকরে ওঠা

বুক ফাটা জল

 

 ক্ষীণ  আলো, মৃদু

জড়িয়ে ধরা আত্মছায়া

নিজেকে ভাঙলে যেটুকু

 দয়া আর মায়া, পড়ে থাকে

 

গড়তে গড়তে, ভেঙে ভেঙে পড়ে

তারাখসা,আর  ভাঙা যায় না

অন্ধকার, তুমি আমার নীরব

জেগে বসা

 

আজন্মকালের,সেই আড়াল

আগুন-সাধনা

 

রবীন বসু-র কবিতা


অমেয় বিষাদ

রাতের আকাশ থেকে ছায়া নামে ঘুম

গাঢ় শোক ঘিরে রাখে সমস্ত আঙিনা

মানব-মানবী ক্লান্ত মুহ্যমান দিশা

সবখানে পরিত্যক্ত সভ্যতার আঁশ

বেহদিশ রাস্তা শুধু চলেছে সম্মুখে

খনন পর্বের পর সঞ্চিত উত্তাপ

প্রবাহিত সহিষ্ণুতা অদেখা অক্ষর

শব্দচিত্র এঁকে রাখে স্থির সমাহিত।



এই যে নিঃশব্দ রাত নিষ্পলক তারা

রহস্যমাখানো গূঢ় সংকেত ভাসে,

অপার্থিব মায়া জাগে, চরাচর ঝুপ

এলিয়নসদৃশ কায়া ভীষণ সন্ত্রস্ত;

অমোঘ ভ্রান্তি নিয়েই অমেয় বিষাদ

আমাদের ঘিরে থাকে সব অবসাদ। 

তাপস কুমার চট্টরাজ-এর কবিতা


সংশয়

ঘামে ভেজা উপুড়চুপুড় শরীর

সে তো আমার ,ঘামের গন্ধ নিতে

কেন সংশয়? উদাসীন ইশারায়

নিকটও চলে যায় দূরে বহুদূরে

বুঝি এই সব মায়া ছলনা

ক্ষোভে দু:খে জাগে অভিমান

 

রাখো তার পিঠে প্রসারিত হাত

বাজুক,বেজে উঠুক ঠাকুরের গান।

তমোজিৎ সাহা-র কবিতা

 

কাললিপি --- ১১

ঘাম  রক্তের দাম সস্তা হয়
যতনিয়ম মেনে সুর চড়ে
উন্নয়নের গানেআর ভয়ে
প্রতিবাদের কণ্ঠ যায় থেমে।

রোশনি ইসলাম-এর কবিতা


ফটোগ্রাফি

বরফবৃষ্টির সকাল

স্বপ্নময় আকাশ।

ছুটন্ত ঘোড়ার পিঠে

             শিশু তরুণ তরুণী

ক্যামেরার শট্

              পাইন দেবদারু- জঙ্গলে

                           বাতাস বয়ে যায়।

সোনালি বেগম-এর কবিতা

 

মিঠাস্

 

ঠান্ডা আর কুয়াশায় ঘেরা রাত। সিমলায় লাগাতার

বরফপাত। সঙ্গে বৃষ্টিও। হাড়-কাঁপা ঠান্ডায় উত্তরাখণ্ডের

দেরাদুন হরিদ্বার উধমসিংহনগর... কঠিন ঠান্ডায়

অসংখ্য মৃত্যুও। গরম কম্বল মেলে দেয় উষ্ণ হাত।

দাউ দাউ আগুন। বরফচাদর-ঢাকা পর্বতশিখর।

এমন শীত গমক্ষেতের কৃষকের হাসি ছড়ায়। আর্দ্র বাতাস

অসহ্য ঠান্ডায় অধিক মিঠাস্মিশ্রিত শিশিরসিক্ত

রক্তিম আপেল। আবছা আলোকবিন্দু ধোঁয়ায় দোলে

কুমায়ুন গাড়োয়াল।