সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

ইউসুফ মোল্লা


মানুষ

 

আমি বিবেকানন্দের মতো সন্ন্যাসী হতে চেয়েছিলাম

আমি লালনের মতো ফকির হতে চেয়েছিলাম

আমি বুদ্ধের মতো সাধক হতে চেয়েছিলাম

কিন্তু আমি মানুষের মতো মানুষ হতে চাইনি। 

তাইতো সন্ন্যাসীর বেশেও সংসারের মায়া ত্যাগ করতে পারিনি। 

ফকিরের ঝোলা কখনো শূন্য হতে দিইনি। 

সাধক হয়েও এখনো ঈশ্বরকে খুশি করতে পারিনি। 

কারণ আমি আজও মানুষের মতো মানুষ হয়নি। 

 

আমার মাস্টার মশাই আমাকে বলেছিল

'বড়ো মানুষ হও বেটা!'

আমি আজও বড়ো মানুষ হয়ে উঠতে পারিনি

আমার মা- আমাকে প্রথম বলেছিল

'তোকে বড়ো কিছু হতে হবে না

তুই মানুষের মতো মানুষ হোস্!'

 

সত্যিই আমি আজও বড়ো মানুষ হতে পারিনি। 

 


 

প্রসেনজিৎ বাগানী


অভিভাবক

 

রাত পোহালেই বাবা হয়ে যাবো

সন্তানের হাতে তুলে দেবো দশটাকা বিশটাকা

সন্তানের পাঠাবো ইস্কুলে

 

নাইবা গেলাম প্রত্যাশাপূরণের ইউনিভার্সিটিতে

নাইবা খেলাম পুঁটিরামের দোকানে কোনোদিন

সন্তান বাবার পরজন্ম, ওকে

খাওয়ানো-পরানো দরকার

 

দরকারি কাজ বাবা রাখেননি একান্ত আপনার,

কৃষিজ মিছিলে উন্নত অগ্রসর,

ছেঁড়াজুতো পরে ফেরি করতে শিখে নেবো এবার

 

অনুরাধা, তুমিও পারতে

মা হতে


 

শম্পা ব্যানার্জি


আলো


আমি আলোর সন্ধানে চলেছি,

আর মাত্র তিনটে দিন,

ঘোর অমানিশায় সুদীর্ঘ বিভাবরী

অন্ধকার গহ্বরে সাজো সাজো রব

এতো লোক, কেউ ছুঁয়েছে মাটি,

কেউ  ছুঁয়েছে, আগুন।

ফেলে আসা কিছু উদ্বৃত্ত ফসলের ভান্ডারে,

প্রতিপালিত হবে, পৃথিবী। 

শূন্যতা দেখি আলোতে, শূন্যতা আছে কালোতে,

অতীত নতুন ; নতুনও সাজে অতীতে।

একদিকে সাজো সাজো রব,

ফাঁকা ঘরে কান্নার রোল

আলো আঁধারের মিশেলে

করুণ বিভাব আলম্বন 

একমুঠো আলো যেন একমুঠো ইতিহাস,

নতুন দেওয়াল দীর্ঘ হয়, দীর্ঘ তার উচ্চতা,

ওপারে এখন জন কোলাহল,

পরিচয় আর পরিচিতি খুঁজে নেওয়ার পালা।

রাত্রি শেষ যামে শুধু শূন্যতা, একমুঠো আলোয়

ঝলসে ওঠে উদ্বৃত্ত  কিছু সোনালি গম

আর সোনালি ধানের ডালা। 



 

রজতকান্তি সিংহচৌধুরী      


রাত আড়াইটে

 

রাত আড়াইটে ধলভূমগড় থমকে আছে ট্রেন

মাঠের মধ্যে বিন্দু বিন্দু আলো

মাথার ওপর উপুড়চুপুড় চাঁদটা দেখেছেন

আর সমস্ত কালো!                

 

স্বপ্নে যেমন তরতরিয়ে মানুষ পৌঁছে যায়

কোন্ সুদূরের একান্ত অতলে

তন্দ্রা ভেঙে গেলে কি আর সেই দেশকাল পায়

বাস্তবে তা বলে?

 

একখানি ট্রেন নিতান্ত নিথর

মনে হচ্ছে, চলচ্ছক্তিহীন

তীব্র চাঁদের ডানায় দেবে ভর

শিরশিরিয়ে তেপান্তরে লীন?   

 

বিশ্বজিৎ

 


সর্গ

দূরত্ব বাড়লে

ততোধিক সুগন্ধ ছড়ায়...

ভেতরভরতি হু হু উদযাপন।

লাল,নীল পাথরে

তুচ্ছ ঘসতে ঘসতে

বেনিয়ম হৃদয়।

বাঁকা হাসিও

কুয়াশা ঘিরে প্রণাম জানায়।



তুমি সব

তুমিই পৃথিবী।

তোমাতেই ভালোবাসা বিরাজ করে...

অদিতি সেন চট্টোপাধ্যায়




 যায় ছড়িয়ে সেই কবিতা 

 খুঁজতে থাকি লেখার মতো অনেক কিছু

স্বপ্নগুলো, আসছে যারা আমার পিছু

কিম্বা ধরো, ছোট্টোবেলার সেসব স্মৃতি,–

ঝাপসা সুদূর, আজ ক্ষয়াটে যে বিস্মৃতি!

নেই-অবয়ব ভাবনাগুলো পড়ছে ঝরে

বুকের মধ্যে, মাথার ভেতর, বিষম জোরে।

খাচ্ছে তারা দারুণ ঠোকর ওর সাথে,–

মিশছে আবেগ, বিক্রিয়াটাও ঘটছে তাতে।

বিক্রিয়াতে উঠলো ফুটে কয়েকটি ফুল

গন্ধ ছড়ায় তোমার পাড়ায়, পথ যে বেভুল!

ফুল নয়, সে আজ কবিতা, গন্ধ ছড়ায়

যায় ছড়িয়ে সেই কবিতাই আজ বেপাড়ায়।

সোনালি বেগম




 সিলেবাস

 জেগে উঠছে আগ্নেয়গিরি স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ

বক্তৃতা-গর্ভ ঝোপঝাড়ে গিরগিটি রং পালটায়

লাল হলুদ সাদা সন্ধ্যামণি ফুটে থাকে থরে থরে

মাঠজমির ইঁদুর ব্যস্ত রাতের অন্ধকারে

জ্বলজ্বল চোখ পেঁচার ডানার শিশির ঝরে পড়ে।

শেষযাত্রায় প্রার্থনার অপেক্ষায় স্তব্ধ কফিন হাসে।

সাহিত্যে এক্সপ্রেশনিজম জেমস জয়েস, ফ্রানজ কাফকা

দুটি হাতে ধরা থাকে গ্রন্থরাজি-সম্ভার।

উদ্বেগহীন মেলে ধরে শরীর মডেল-মডেল খেলা

এক্সপার্ট নীল শাড়ির আঁচলে স্বাধীনতার সিলেবাস

প্রতিবাদ-প্রতিরোধ মোমবাতি আর প্ল্যাকার্ড জমায়েত

রোশনি ইসলাম


আলোড়ন

 

স্কাইপ- ভিডিও চ্যাটে

বন্ধুর সরস কথা

হালকা বাতাসে পেঁজা-তুলো

গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ হেমন্ত শীত বসন্ত

                              ঋতু-পরিবর্তন

ফুল ফল পাতায় আলোড়ন

               পর্দা দুলে উঠছে বাতাসে –––