সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০

দুর্গাদাস মিদ্যা


শব্দ সন্ধানী

 

প্রকৃত শব্দ সরে যায় পায়ের শব্দ পেলে।

এসব জেনেও

আমি হা পিত্যেশ বসে থাকি,

রাত জাগি প্রতিদিন।

শব্দের তপস্যায় দিন কেটে যায়

তবু শব্দেরা অধরা থাকে

অচেনা রাত্রির মতো গাঢ় অন্ধকার।

ডানা ঝাপটিয়ে পাখি উড়ে যায় দূরে

সেই শব্দও শুনতে পাই না আমি

 কেমন মুর্খামি কে জানে

তবু আমি বসে আছি শব্দ-সন্ধানে।

মিতুল দত্ত


 

 ইউটোপিয়া

 

বেড়াতে যাওয়ার গল্পে মি নেইমি তো কবেই

তোমার হাঁয়ের মধ্যে ঢুকে গেছিভরসন্ধেবেলা

পাহাড় দেখাবে বলে নিয়ে গেলেজঙ্গল দেখাবে বলে,

যেখানে গাছের গন্ধপাতা মাড়ানোর সেই পায়ে

মি নেইমি তো সকল নিয়ে

বসে ছিসর্বনাশচতুরঙ্গে এসেছিলে যখনযেভাবে

তোমার খোলামকুচি দাঁতে টকে তোমার ত্রিফলা

জিভে বিঁধে রক্ত নাকি গর্ভস্রাব গড়িয়ে পড়ার দিনে

ঢকঢক গেলাচ্ছ জলজলের মন্দিরে বসে

হাওয়ার স্বপক্ষে তর্ক করছরবিবাসরের সেই

গনগনে মালসাভোগে মি নেইমি তো শনির

কুলকুণ্ডলিনী গায়ে জড়িয়ে ঘুমোতে চলে গেছি

মি তো স্বর্গের দিকে অনিবার্য তৃতীয় নরক

অদিতি সেন চট্টোপাধ্যায়


 

অমেরুদণ্ডী

 

বেশ কদিন ধরেই ওদের সংখ্যা বাড়ছে,

বাসেকলেজেইস্কুলে , রাস্তা-ঘাটে ...

হামাগুড়ি দিয়ে বেড়াচ্ছে

মানুষের মতো,বিশ্বাস করুন,

একদম মানুষের মতো দেখতে

কতগুলি মেরুদণ্ডহীন প্রাণী।

"আপনারা শঙ্খবাবুর কবিতা থেকে এসেছেন বুঝি!”

-প্রশ্ন করলে ওরা শূণ্য দৃষ্টিতে তাকায়.

"মেরুদণ্ডগুলো এখনও খুঁজে পাননি?”

এবার গর্বিত উত্তর আসে

-"বেচে দিয়েছি

অভিজিৎ দাসকর্মকার


 
নষ্টালজিক

 

মেয়েটিকে বিশ্লেষণ করা হলো
প্রবল মায়াবাদে।
স্ব-স্নেহের অসম্ভব শব্দ-শবে সম্মোহিত হচ্ছে সামনের নদীটি

এগিয়ে যাওয়া মোড়ে সরেস রিপু-কোষ গুলো শুকতারা হয়ে দাঁড়িয়ে।

শব্দটি বিশ্লেষিত হলো -- রেপড্ নামে

তারই নিঃশব্দ কালো ছায়া-ছবিতে মোম-আলো দেয়া
হলো।

আপাদমস্তক নস্টালজিক

আমার অসুখ, আর
তার অস্তিত্বে এখন ঝুনো-বরফের ভাষা। আমি কিন্তু দেখতে পাচ্ছি না।

বারবার দৃষ্টি এড়িয়ে চলেছে ছায়ারা, এবং
যতদূর দৌড় দেওয়া যায় রাস্তার ওপর ;
টুকরো টুকরো অভিশাপ চিৎ হয়ে শুয়ে থাকে।

তারই ঠান্ডা বুকের সংগোপনে, আমারই দ্রাব্য সোহাগ

নীলাদ্রি দেব




 
উড়াল

 নিভে আসা প্রদীপ

    আবার জ্বালিয়ে দিচ্ছে কেউ

বাতিল টিকিটের পাশে দূরাগত কান্নার ভিড়

আমাদের মধ্যেকার দূরত্ব বলতেসময়

বিরতিপর্ব ছুঁয়েই

যাবতীয় হিসেব সাজিয়ে নিচ্ছে ভবিষ্যত

যদিও রেসমাঠের ভেতরও অজস্ৰ রেসমাঠ থাকে

কথা বিক্ষিপ্ত হয়ে এলেই

  বাতাসের ঘনত্ব কমে যাবে,

                        এমন ভাববেন না

ঘুড়ি কেটে গেলেও

      থেকে যায় শ্বাসপাখির উড়াল