শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২

সন্তর্পণ ভৌমিক-এর কবিতা

ঊষর সময় আসে

 

আমি নিরাশার তীক্ষ্ণ হতাশায়

আজ যদি হই ধ্বংসপ্রায়

তোমাদের অভিপ্রায় যেমন, তাই কি

কোনো এক অবাধ্য, নিরুদ্ধ 

বিচারহীন নদীর প্রগলভ স্রোত

আমাদের মৃত্যুকূপ হয়ে

শেষ দেখা দিয়েছিল

যখন পূর্ণিমা রাত নেভেনি কখনো

 

আমি বিষমূখী যদি হই দ্রুত

জানি কেউ আসবে না কাছে

(নরনারী শ্বাপদ উড়গ)

তবু শুনি ফিসফাস কারো

টের পাই অবাস্তব উপস্থিতি

 

ইহারা আমার আজ অতিবন্ধুপ্রিয়

আমিও সমর্পিত, জন্মমৃত্যু অসহ

সারাদেহ খাক হয়ে গেলে

অনুর্বর খুলিটা তুমি- নিও।

 

সৌম্য ঘোষ-এর কবিতা

চিঠি


কখনো কখনো খাম খুলে কিছুই

পাওয়া যায় না,

না কোন চিঠিনা একটি শব্দ

না কোন সম্পর্ক!

না ভোরনা দীর্ঘ সন্ধ্যা

দিনভর লুকোনো বেদনার মতো

উড়ে বেড়ায়ঘুরে বেড়ায়... অথচ


কখনও কখনও একটি ছোট্ট শব্দও

আগুন ধরিয়ে দেয়।

 

দুরন্ত বিজলী-র কবিতা

জানালায় ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি


.
বৃষ্টি এলে দূরত্ব বোঝা যায়
জানালায় এলোচুল
আয়নায় আকাশ দেখা যায়


.
মেঘ সব সময় ছায়াঘন
যত সুখ আছে চাপা দেওয়া
দুঃখ মুখ তুলে উঁকি মেরে দেখে
জানালায় আলো ঢোকে


.
সুখ
চাপা দেওয়া বরফের চাঁই
দুঃখ
ডেকে আনে রোদ
জানালায় মুখ দেখতে পাই


8.
জানালায় কত কাল এপার ওপার
দেখা যায়
আঁধারে নক্ষত্র জ্বলে
ভেতরে হৃদয়


.
জানালা মানে
জ্যোৎস্নায় কিছু কথা
জানালা মানে
রোদে ফুটে ওঠে ব্যথা


.
কতদিন বন্ধ রাখবে
এবার জানালা খোল
বাতাস আসুক


.
জানালায় দূরে
যে গাছ এখনো দাঁড়িয়ে রয়েছে
তার কাছে গিয়ে জানতে ইচ্ছে করে
আমি কি রবিঠাকুরের মতো হতে পারি না


.
তেলের শিশি ভাঙবো বলে
আজও ভাঙিনি
আমি জানি প্রতিদিন জানালায়
অভিমানিনী

 

স্বপন শর্মা-র কবিতা

কলঙ্ক 

 

প্রকাশ্যে না ডাকলেও  

অরব কলঙ্ক এগিয়ে আসে দ্বিধাহীন

কুশল জানতে চায় এক প্রেমে পড়া প্রেতাত্মার

অনাঘ্রাত নয় জেনেও 

তার অন্তরের আলোয় স্নাত প্রেতাত্মা 

                             জীবন ফিরে পায়। 

কলঙ্ক  এক "শ্যাম বনানী সরসতা"

মৃত্যুকে ডুবিয়ে দিয়ে জীবনকে 

 তুলে আনতে পারে অবলীলায়।  

 

জীবন ভিক্ষা পেয়ে মৃত অতীত কলঙ্ককে বলে,

তুমি আমার মুক্তিস্নানের গঙ্গোত্রী

অবিরল বয়ে যাওয়া দেখতে চাইলে 

হামেশা তীরে থেকো দ্বিধাহীন। 

আমার মতো তুমিও পাবে মহানীলের ছোঁয়া। 

 

রুদ্রশংকর-এর কবিতা


 পরিবার 

চারদিকে চারটে দেওয়াল

ঠিক মাঝ বরাবর অনেকগুলো সম্পর্ক

যেন ছাদের ভিতরে মহাকাশমহাকাশের ভিতরে

নিজের নিজের বৃত্ত বানিয়ে ঘুরছি আমরা

 

মাঝে মধ্যে চেয়ার টেবিলগুলো হাঁটে

অতিথিরা আসেআনন্দ বিক্রি করে

আবার যে যার মতো চলে যায়

আমি তাদের হাত ধরে যত্ন শিখতে শিখতে

মহাকালের কাছে অসুখ বিক্রি করছি।