রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১

গৌতম কুমার গুপ্ত-র কবিতা

 

ভালো আছি ভাল থেকো 

 

ভালো আছি বলেই দিনমান পাতা উল্টে পড়েছি

তোমার রূপকাব্য যমক রূপক উৎপ্রেক্ষা

যে সাজেই সেজেছো অলংকারে

নির্নিমেষে দেখেছি আগুন 

 

ভালো আছি বলেই সকাল দেখেছি তোমার

রূপলাগি আকাশে একটি সূর্যওঠা ভোর 

তুমি গেয়ে ওঠো কাকলি সরগম

কৃষ্ণময় বাঁশিটি ডাকে উদাসী হাওয়ার পথে 

 

ভালো আছি বলেই তোমার বিকেল দেখেছি

সূর্যাস্তের পথে তুমি চেয়ে থাকো দিগন্তে

রাঙা আলোয় তুমি দীপ্যমান হলে

অপলকে মেখেছি সেই সূর্যশেষের ছায়া

 

ভালো আছি বলেই সন্ধ্যা দেখেছি তোমার

গোধূলি আলোয় তুমি জেগে আছো

জোনাকিরা শিস দিয়ে চলে যায় গুল্ম অরণ্যে

তোমার রূপকাব্যে জ্বলে ওঠে সাঁঝবাতি

ইউসুফ মোল্লা-র কবিতা


আত্মা

আমার গরম শরীরটা কেমন ঠান্ডা মনে হচ্ছে

কেউ একটু আগুন জ্বালিয়ে দাও

মাথার কাছে নয়; পায়ের দিকে দাও

আজও কেউ আমার কথা শুনলো না

তাই, নিজেকে পুড়িয়েও অর্ধেক দুনিয়া আলো হলো। 

 

আমি বিয়ের দিন ওই একবার চন্দন মেখেছিলাম

আজও সমস্ত শরীর জুড়ে চন্দনের খেলা

আমি বিয়ের প্রথম রাতে যে সুবাস পেয়েছিলাম

আজও সমস্ত দালান ভরেছে সেই ধূপের গন্ধ

শুধু বাজনাটা একটু অন্য সুরে বাজছে। 

 

প্রতিটি স্বপ্ন এভাবেই এক এক করে ঝরতে থাকে

যেভাবে প্রতিটি প্রাণ হারায় তার আত্মার কাছে।

  

নীলাদ্রি দেব-এর কবিতা


ক্লাইমেট চেঞ্জ

 গাছের ছায়াগুলো মিশে 

           অস্পষ্ট কোন গাছের আকার 

সমস্ত এক্স, ওয়াই এলোমেলো 

       আলফা, গামার দিকে ছুটে যায় 

সমীকরণ নির্দিষ্ট নিয়তি 

তবু আবহাওয়ার এই বদলে যাওয়া 

           থুনবার্গএর চোখে দেখতে পারিনি 

নয়তো অন্ধকারে আলকাতরা ছুড়ে দিই

সামিটে পতাকার রং ক্ষয়ে যাচ্ছে 

একটা পেরেক উলম্ব নেমে আসছে 

                       কুয়াশার মাঝ-বুক থেকে

আশরাফুল মণ্ডল-এর কবিতা


কথা

কিছু মানুষ কথা বলে, অনর্গল। নানারকম কথা। হাসির কথা, দুঃখের কথা, ভাগ বাঁটোয়ারার কথা, রোগের কথা, ওষুধের কথা। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত ভাইয়ের সঙ্গে- মায়ের সঙ্গে- তোমাদের সঙ্গে আমিও সেই সব কথা বলেছি। এখন বলি না আর। আলমারির বইগুলো আমার কাছে কথা বলতে চায়। বেড়ার পাশে পড়ে থাকা ভাঙা চেয়ারটিও কথা বলতে চায়। ওদের কথা রোগের নয়, শোকের নয়, কথা বলার জন্যই কথা বলা নয়। বহু শতাব্দীর গন্ডি পেরিয়ে যাবার আগের ঘটনাসমূহ কথা হয়ে ঘুরছে আমার ঘরের চারপাশে। জানো, ওদের কথা এখন আমি বুঝতে পারি না। আমার চোখে এখন নাড়ী ছেঁড়া বিষণ্ণতা। কল খুলে জল ভরছে চৌবাচ্চা। আমি জলের কথা শুনব শুধু। টলটলে জল হয়ে এবার শুধু কলবলিয়ে.....