সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

দুর্গাদাস মিদ্যা

 


ভবিতব্য 

জাগতিক দুঃখ যত জগদ্দল পাথরের মতো

বুকে চেপে বসে আছে

বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয়

ভারবাহী পশুর মতো। 

দিনগত কাজ আর অকাজ যত চাপ দেয়

খুবলে খুবলে তুলে নেয় জীবন-জৌলুস। 

আফসোস বাড়ে বোঝা যায়

তবু নিরূপায়। তারপর একদিন

নির্জীব নিস্তেজ হয়ে

চলে যেতে হয় শেষ ঠিকানায়। 

কৌশিক সেন

 


রাত কি রানী

 

জ্যোৎস্নায় মুখ ধুয়ে বাড়ি ফেরে মেয়েটা,

দরজায় টোকা দিতেই

লন্ঠন উস্কে দেয়

পাড়ার কাকিমা-জেঠিমারা।

 

সাইড পার্সে মধ্যরাত্রি মুড়ে

বাড়ি ফেরে মেয়েটা,

ঘরে এসে মোড়ক খুলে ঢেলে দেয়

খালি কেরোসিন কুপিতে

বিবর্ণতা জ্বলে ওঠে।

 

ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক মাথায় নিয়ে

ঘরে ফেরে মেয়েটা,

রান্নাঘরের ঝাপ খুলতেই

ঘুম থেকে জেগে ওঠে

ঢেকে রাখা পান্তাভাতের আমানি।

 

জোনাকির আলো বুকে চেপে

ঘরে ফেরে মেয়েটা,

খাওয়ার পর

বুকের ভাঁজ থেকে বের করে

রাতের প্রসাধন সেরে নেয়

ভোর হবার আগেই।।

অভিজিৎ দাসকর্মকার

 


৩টি শব্দের কবিতা


দুপুরের ভিতরে____

------------------------------------

 

কোথাও শান্তি নেই, অথচ আমি বীজগণিত বপন করছি। 

এতে আর কিছু না হোক, দুপুরের ভিতরের জ্যোষ্ঠিমঙ্গলে ডালা সাজিয়ে রয়েছে একটি সুশরীরী গাছ, এবং 

গাছের ভিতর থেকে প্রাণবায়ু আপ্রাণভবে সেনসেক্স হয়ে পড়ছে

   পড়ছে বিনির্মাণ 

পড়ছে সুফি স্বরলিপিতে শিহরিত কুন্তলরাশি

 

আর তর্কবাগীশ একাকিত্বগুলোর খোয়াইশ আমাকে তাচ্ছিল্যের নন্দনে দেখছে। 

 

backback করছে____

-----------------------------------

 

এখন আমার হাসি এলেই, তার ছকবাজিগুলো মুড়ে ছিঁড়ে ফেলে দিচ্ছি।

রোজ রোদ্দুর এবং মেঘলার মধ্যিখানে backback করছে টাইপ করা হাত

সেই হাতের রেখা ক্রমশ অ্যায় দিলে নাদান হয়ে, রাতে এবং 

রাতের ভিতর মহলে অবাঞ্ছনীত পর্দা

নাগরিক থাম্পসআপকে -ফর্মায় মলাটবদ্ধ করেছে। 

 

নাস্তিক ক্ষতচিহ্ন____

--------------------------------------------------

 

এসব সত্ত্বেও আমাকে ধস্তাধস্তি করছে নাস্তিক ক্ষতচিহ্ন আর নির্বাচিত ঈশ্বরের সর্বনাম 

কী সুন্দর সামাজিক প্রাণী! মেলোড্রামা মেলে ধরেছে তবুও  শর্টকাট কানাঘুষো আর ধুনুচির স্বাদে পাছাদোলানো, কুড়মুড়িয়ে চলছে বিকেল পোহাতে ___

 

  অসংখ্য প্রোটিন, ক্যালোরি পুড়তে পুড়তে ফল্গু হয়ে চলেছে স্পষ্ট সকালের নক্সায় নক্সায়____

আর কবি

 নদীর যুবতী হয়ে ওঠা পশ্চিম পাড় ধরে ওগো কাজল নয়না হরিণীর তালে তালে যুধিষ্ঠির যাত্রায় চলেছে_____

পাপড়ি গুহ নিয়োগী

 


 গন্ধ 


মুখোশের দেশে মুখহীন  বেকার আমরা

দীর্ঘদিন  কুকুরের মতো পড়ে  আছি  

 

নিজেকে হত্যা করেছি বহুবার

এখন আর লজ্জা করে না

 

একদল  ঘুষখোর সাইকো

মিছিলের আসল চেহারা দেখায়  

 

সিগনালে গন্ধ শুঁকি স্মৃতির

এখন  লজ্জা পায় গিরগিটিও 

 

ওরা জানে না

নদীর  দীর্ঘশ্বাস মরুভূমির আয়োজন করে