বোয়েমের ভিতর রাত্রি
তেতলার পশ্চিমের বারান্দায়
ওয়াইন ভর্তি বোয়েমে জারিয়ে রেখেছি দুঃখ —
এক অদ্ভুত গন্ধ,
যা কেবল রাতের শিরায় ঢোকে।
ডুবে যাওয়ার পরেও
আলোরা লুটোপুটি খায়
জাফরানী কাঠের ইজি চেয়ারের ছায়ার নিচে,
যেন আলোও জানে
অন্ধকারের খেলার নিয়ম।
বোয়েমের ভিতর ভুড়ভুড়ি কাটে বুদবুদ,
বুদবুদের ভিতর ঘুমায় নিশ্চিন্ত রং —
কিংবা গোল্লাছুট খেলে
রামধনুর অবশিষ্ট টুকরোগুলো।
যখনই ফেটে যায়,
হলদে-সবুজ দুঃখ ছড়িয়ে পড়ে
বারান্দার মেঝেতে।
তোমার কবুতর আঁকা চোখ,
ভাঙা চোয়ালের বাঁকা প্রতিচ্ছবি
দ্রাক্ষারসে ডুবতে থাকা সূর্যের কাছে
এখন বড়ো অচেনা।
ক্লান্তিহীন নদী
থমকে দাঁড়াতে গিয়েও
পরিবর্তন করে তার গতিপথ —
ঠিক যেমন রাত্রির সব আলো মিলে
পুবের জানালা খুলে দিলে
চমকে ওঠে চামড়া।
আলোর পরিবর্তিত গতিপথে
ধরা পড়ে বিধ্বস্ত রাত্রির
গুমরে ওঠা কান্না।
খাটের এক কোণায়
চাঁদ আঁকা চাদরের ওপর
ছড়ানো থাকে —
তাজা হৃৎপিণ্ড, লিভার, কিডনি
আর খোলা চোখ —
যেন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও
রাত্রিকে দেখে কেঁদে উঠতে চায়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন