শঙ্খ ঘোষ : তবু কিছু দাগ কেটে যায়
কবিদের কবি শঙ্খ ঘোষের মেধা ও মননের সিগনেচার হয়ে ধরা দিয়েছে সমকালীন বাংলা কবিতার ধারা ।সমসাময়িক কালে তিনি যে একজন বিরল প্রতিভা সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
বিশেষতঃ মিথ ব্যবহার ও সমাজবাস্তবতার
চেতনা তার কবিতাকে ভিন্নরকম মাত্রায় উন্নীত করেছেন ।নির্জনতাপ্রিয় এই কবির অন্ধকার থেকে আলোর দিকে সতত যাত্রা বহুকাল ধরে মুগ্ধ করে আসছে বাঙালি পাঠককে।
তিনি নিজেই নিজের উপমা।তিনি কবিতায়
আত্মগত,স্বগতোক্তির গাম্ভীর্যে অভিসৃত।
নিজ বৈশিষ্ঠে তিনি সমুজ্জল ।
প্রজ্ঞা ও প্রেরণা শঙ্খ ঘোষের লেখার এক অনিবার্য
ইউ এস পি ।সেই সঙ্গে অনন্তকালের বুক ছাপিয়ে
নাটকীয় চিত্রকল্পের বিভাস অনির্বচনীয় ।কবির যে কোনও কবিতা তার অন্তরাত্মার ছায়াকে প্রস্ফুটিত করে বলেই পাঠকের এত আগ্রহ, এত অনুভৱ ।
এই কবির কোনও ঘুরপাক নেই, ঘুরপথ নেই ।
তিনি নিজেই একাধারে মিস্টিক কবি
অন্যত্র যোগী।শব্দে রূপকল্পে, চিত্রকল্পের বিভায়
তিনি সমুজ্জল, চিরকাল অন ন্য ,অসাধারণ ।
সেল্ফ আ্যকচুয়েলাইজেশনের আড়ালে সত্যকে আবিষ্কাৰ করা কবির যেন দ্বায়িত্ব ।
নিজের গভীরে প্রতিবাদ ও ভালবাসায় মেলানো তার সমস্ত কবিতা ।আসলে এ সব ই প্রেমের কবিতা ।
মানুষ তবু ও কিছু প্রতিবাদ করে ,করে যায় ...
একসময় লিখেছিলেন তিনি. ..ধূম লেগেছে হৃৎকমলে.... ব ইতে।
..তিনিই বলতে পারেন নির্দ্বিধায়:
...তিন রাউন্ড গুলি খেলে তেইশজন মরে যায় লোকে এত বজ্জাত হয়েছে /স্কুলের যে ছেলেগুলি চৌকাঠেই ধ্বসে গেল অবশ্যই তারা ছিল সমাজবিরোধী /ওদিকে তাকিয়ে দ্যাখো ধোয়া তুলসীপাতা /উল্টেও পারেনা খেতে ভাজা মাছটি এত অসহায় /আত্মরক্ষা
ছাড়া আর কিছুই জানেনা বুলেটেরা / দার্শনিক চোখ শুধু আকাশের তারা বটে দ্যাখে মাঝে মাঝে /..../
পুলিশ কখনো কোনো অন্যায় করে না তারা যতক্ষণ আমার পুলিশ ।.....
এই কবিতার নাম ,ন্যায় অন্যায় জানিনে ।
১৯৯৩ সালে লেখা।একেবারে সরাসরি আক্রমণ ।ভাষা অতীব স্পষ্ট, অনুভব তীক্ষ্ণ আড়াল নেই কোথাও ।
এই ক্ষমতার আর এক অন্যরূপ ।লাইনেই ছিলাম বাবা কাব্যগ্রন্থের একটিকবিতায় দেখছি।
...ধরো কেউ নিজে থেকে দিতে চায় সব তা বলে কি
/বসে থাকা সাজে ?তাঁর টুঁটি ছিড়ে নিয়ে এসো কাছে /আমাকেই বলতে পারো ঈশ্বরের প্রথম শরিক /করতে পারি সব যদি সঙ্গে থাকে সপ্রেম বুলেট /ক্ষমতার উৎস থেকে ক্ষমতার মোহনায় _যা বলো/সে কেবল ক্ষমতাকে দাপিয়ে বেড়ানো ক্ষমতায় /
এত ছোট খাটো কান্ডে কেঁদে কেটে মাথা হবে হেঁট/
চরিত্র ই নেই যার তার আবার ধর্ষণ কোথায় ?
আসলে সমাজের এই ঔদ্ধতার মুখ যেন আমরা দেখতে পাই।ক্ষমতাকে দাপিয়ে বেড়ায় ক্ষমতায় ।
খবরের কাগজের লাইন থেকে উঠে এসেছিল এই কবিতা বিরাটিতে ঘটেছিল এই ঘটনা ।ধর্ষিত হয়েছিল ঐ মেয়েটি ।কিন্তু সমাজ কি পাল্টেছে ?পার্কস্ট্রিট থেকে কামদুনি হয়ে গাইঘাটা কাটোয়া ধূপগুড়ি কৃষ্ণনগর সব ই তো এক ই রকম চিত্র ।ক্ষমতার কোথাও কোনো রদবদল ঘটেনি।পীড়ন দমন চালোনোর মেশিনে পরিণত হয়ে।ক্ষমতা দেখিয়ে শৌর্য বোধ করে আনন্দ ও উল্লাসে ফেটে পড়ে।
এবং অদ্ভুত ব্যাপার এটাই যে তারা কেন ভুলে যায় এটা চরম কাপুরুষতা ।
যেমন অন্য একটি কবিতায় :
....হাতে যে মুগুর দেখছ, এর গায়ে তেল মাখা আছে / মারলে লাগে না বেশি,মরে যেতে পারো সেটা ঠিক /কিন্তু সে তো স্বাভাবিক, মারবার জন্যেই মারে লোকে! /শুধু এই !এর ই জন্য , মিথ্যে ওরকম ভয় পেলে /আমার কাছে না এলে, আমার কথা না শুনলে আজ/ আমি তো বুঝিনা তুমি কীভাবে বা হবে জনগণ!....
জনগণ শব্দটিতে এসে শ্বাস রূদ্ধ হয়ে আসে।
সহজবোধ্যতা থেকে এক দার্শনিক ইশারা ও সংকেত শঙ্খ ঘোষের কবিতায় নিরন্তর যা কখনোই বাস্তবকে উপেক্ষা করে নয় ।
বিভিন্ন সময়ে বাংলা কবিতার শরীরের উপর দিয়ে
হাংরি শ্রুতি নিম শাস্ত্রবিরোধী ইত্যাদি ইত্যাদি আন্দোলন হলেও মূলত কবিতার যে আবহমানকালের সুর তার কবিতায় উঠে এসেছে বারবার ।ছন্দ তার হাতের মুঠোয় ।যেন কথা কয় ।ছন্দকে মান্যতা দিয়ে তিনি ছন্দ ভেঙেছেন।মিথের ব্যবহারে তিনি সিদ্ধ হস্ত।উৎপ্রেক্ষা এবং চিত্রকল্পের সঠিক ব্যবহারের জন্য অনেক বিদগ্ধজনের কথায় তিনি আসলেই কবিদের কবি ।এক ই সঙ্গে তার কবিতা সমস্ত আড়াল ত্যাগ করবার একটা মস্ত উদাহরণ হয়ে ওঠে।রবীন্দ্রনাথ একবার বলেছিলেন
আমার এ গান ছেড়েছে তার সকল অলংকার ।
কবির একটি অসাধারণ অতুলনীয় কাব্যগ্রন্থের নাম,আদিম লতাগুল্মময় ।সেই কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতা মালা ও পুনম।
...তোমার স্বাচ্ছন্দ্য দেখি ,দূর থেকে।
রঞ্জনেরা খুন হলে তুমি বলো ,মরেনি ও,মরেনি আমার ভিতরে বেঁচে আছে কাজের ভিতরে আছে, ধুলোর ভিতরে পায়ে পায়ে ...
লোকে বলে এ শুধু প্রতীক, জীবন জানেনি যারা ,তারা বলে ।
কখনো দেখেনি তারা মালা বা পুনম ?
তোমাকে দেখেনি কেউ ? সেদিন বিকেলে
মাথা ধরেছিল বলে পৃথিবী অসার মনে হয়েছিলো ?
দেখেনি কি সমস্ত ভারত আজ রক্তকরবীর ফুলে ভরে দেয় মালা বা পুনম ?
তোমার স্বাচ্ছন্দ্য দেখি দূর থেকে
তোমার দর্প ও দেখি দূর থেকে
যে জল তোমার চোখে ছিল না কখনো
আমি সেই জল ভরে রাখি ঘটে ।
এইসব কবিতায় চলমান সময় থেকে চিরসময়ের দিকে এক যাত্রা অব্যাহত থাকে ।তাই এই কবিতার
মধ্যে রক্তকরবীর অনুষঙ্গই প্রধান হয়ে ধরা দিয়েছে।
কবিতা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ শিল্প ।কবিতা কি,কবিতা কেন,কবিতার কি কোনো মানে আছে পৃথিবীতে।
ছন্দের অপর নাম বিন্যাস।ভাষার একটা কেন্দ্রাতিগ শক্তি আছে।আছে বহুত্বরূপ ,ও বিদিশাময়তার ধ্রুপদী ধ্বনিসুষমা ।অন্যক্ষেত্রে কেন্দ্রিভূত অবস্থা থেকে বেরিয়ে নৈর্ব্যক্তিক হয়ে ওঠা।অনেক সময় ব্যক্তি কেন্দ্রিক ইগো সেন্ট্রিসিটির প্যারাডাইম শিফ্ট ঘটে কবিতায়।কবিতায় সত্যি সত্যিই কি কোনো মানে থাকে না ।
এই কবিই তার এক বিশ্বশ্রুত কবিতায় লিখছেন ;
...কোনো যে মানে নেই সেটাই মানে
বন্যশূকরী কি নিজেকে জানে
বাঁচার চেয়ে বেশি বাঁচে না প্রাণে ?
শকুন এসেছিস কী সন্ধানে
এই নে বুক মুখ ,হাত নে পা নে
ভাবিস পাবি তবু আমার মানে
অন্ধ চোখ থেকে বধির কানে
ছোটে যে বিদ্যুৎ সেটাই মানে
থাকার চেয়ে বেশি থাকে না প্রাণে
ছুটেছে উন্মাদ ,এখনো ত্রাণে
রেখেছে নির্ভর, সহজযানে
ভাবে সে পেয়ে যাবে জীবনে মানে
বিভোর মাথা কেউ খুঁড়েছে শানে
কিছু বা ভীরু হাত আফিম আনে
জানে না বাঁচে কোন বীজানু পানে
কোনো যে মানে নেই সেটাই মানে
কোনো যে মানে নেই সেটাই মানে
মানে / শঙ্খ ঘোষ
সরল একরৈখিক যে মানে হয় না সেটাই বলা হয়েছে এইসব কবিতায় ।
বিশেষতঃ মিথ ব্যবহার ও সমাজবাস্তবতার
চেতনা তার কবিতাকে ভিন্নরকম মাত্রায় উন্নীত করেছেন ।নির্জনতাপ্রিয় এই কবির অন্ধকার থেকে আলোর দিকে সতত যাত্রা বহুকাল ধরে মুগ্ধ করে আসছে বাঙালি পাঠককে।
তিনি নিজেই নিজের উপমা।তিনি কবিতায়
আত্মগত,স্বগতোক্তির গাম্ভীর্যে অভিসৃত।
নিজ বৈশিষ্ঠে তিনি সমুজ্জল ।
প্রজ্ঞা ও প্রেরণা শঙ্খ ঘোষের লেখার এক অনিবার্য
ইউ এস পি ।সেই সঙ্গে অনন্তকালের বুক ছাপিয়ে
নাটকীয় চিত্রকল্পের বিভাস অনির্বচনীয় ।কবির যে কোনও কবিতা তার অন্তরাত্মার ছায়াকে প্রস্ফুটিত করে বলেই পাঠকের এত আগ্রহ, এত অনুভৱ ।
এই কবির কোনও ঘুরপাক নেই, ঘুরপথ নেই ।
তিনি নিজেই একাধারে মিস্টিক কবি
অন্যত্র যোগী।শব্দে রূপকল্পে, চিত্রকল্পের বিভায়
তিনি সমুজ্জল, চিরকাল অন ন্য ,অসাধারণ ।
সেল্ফ আ্যকচুয়েলাইজেশনের আড়ালে সত্যকে আবিষ্কাৰ করা কবির যেন দ্বায়িত্ব ।
নিজের গভীরে প্রতিবাদ ও ভালবাসায় মেলানো তার সমস্ত কবিতা ।আসলে এ সব ই প্রেমের কবিতা ।
মানুষ তবু ও কিছু প্রতিবাদ করে ,করে যায় ...
একসময় লিখেছিলেন তিনি. ..ধূম লেগেছে হৃৎকমলে.... ব ইতে।
..তিনিই বলতে পারেন নির্দ্বিধায়:
...তিন রাউন্ড গুলি খেলে তেইশজন মরে যায় লোকে এত বজ্জাত হয়েছে /স্কুলের যে ছেলেগুলি চৌকাঠেই ধ্বসে গেল অবশ্যই তারা ছিল সমাজবিরোধী /ওদিকে তাকিয়ে দ্যাখো ধোয়া তুলসীপাতা /উল্টেও পারেনা খেতে ভাজা মাছটি এত অসহায় /আত্মরক্ষা
ছাড়া আর কিছুই জানেনা বুলেটেরা / দার্শনিক চোখ শুধু আকাশের তারা বটে দ্যাখে মাঝে মাঝে /..../
পুলিশ কখনো কোনো অন্যায় করে না তারা যতক্ষণ আমার পুলিশ ।.....
এই কবিতার নাম ,ন্যায় অন্যায় জানিনে ।
১৯৯৩ সালে লেখা।একেবারে সরাসরি আক্রমণ ।ভাষা অতীব স্পষ্ট, অনুভব তীক্ষ্ণ আড়াল নেই কোথাও ।
এই ক্ষমতার আর এক অন্যরূপ ।লাইনেই ছিলাম বাবা কাব্যগ্রন্থের একটিকবিতায় দেখছি।
...ধরো কেউ নিজে থেকে দিতে চায় সব তা বলে কি
/বসে থাকা সাজে ?তাঁর টুঁটি ছিড়ে নিয়ে এসো কাছে /আমাকেই বলতে পারো ঈশ্বরের প্রথম শরিক /করতে পারি সব যদি সঙ্গে থাকে সপ্রেম বুলেট /ক্ষমতার উৎস থেকে ক্ষমতার মোহনায় _যা বলো/সে কেবল ক্ষমতাকে দাপিয়ে বেড়ানো ক্ষমতায় /
এত ছোট খাটো কান্ডে কেঁদে কেটে মাথা হবে হেঁট/
চরিত্র ই নেই যার তার আবার ধর্ষণ কোথায় ?
আসলে সমাজের এই ঔদ্ধতার মুখ যেন আমরা দেখতে পাই।ক্ষমতাকে দাপিয়ে বেড়ায় ক্ষমতায় ।
খবরের কাগজের লাইন থেকে উঠে এসেছিল এই কবিতা বিরাটিতে ঘটেছিল এই ঘটনা ।ধর্ষিত হয়েছিল ঐ মেয়েটি ।কিন্তু সমাজ কি পাল্টেছে ?পার্কস্ট্রিট থেকে কামদুনি হয়ে গাইঘাটা কাটোয়া ধূপগুড়ি কৃষ্ণনগর সব ই তো এক ই রকম চিত্র ।ক্ষমতার কোথাও কোনো রদবদল ঘটেনি।পীড়ন দমন চালোনোর মেশিনে পরিণত হয়ে।ক্ষমতা দেখিয়ে শৌর্য বোধ করে আনন্দ ও উল্লাসে ফেটে পড়ে।
এবং অদ্ভুত ব্যাপার এটাই যে তারা কেন ভুলে যায় এটা চরম কাপুরুষতা ।
যেমন অন্য একটি কবিতায় :
....হাতে যে মুগুর দেখছ, এর গায়ে তেল মাখা আছে / মারলে লাগে না বেশি,মরে যেতে পারো সেটা ঠিক /কিন্তু সে তো স্বাভাবিক, মারবার জন্যেই মারে লোকে! /শুধু এই !এর ই জন্য , মিথ্যে ওরকম ভয় পেলে /আমার কাছে না এলে, আমার কথা না শুনলে আজ/ আমি তো বুঝিনা তুমি কীভাবে বা হবে জনগণ!....
জনগণ শব্দটিতে এসে শ্বাস রূদ্ধ হয়ে আসে।
সহজবোধ্যতা থেকে এক দার্শনিক ইশারা ও সংকেত শঙ্খ ঘোষের কবিতায় নিরন্তর যা কখনোই বাস্তবকে উপেক্ষা করে নয় ।
বিভিন্ন সময়ে বাংলা কবিতার শরীরের উপর দিয়ে
হাংরি শ্রুতি নিম শাস্ত্রবিরোধী ইত্যাদি ইত্যাদি আন্দোলন হলেও মূলত কবিতার যে আবহমানকালের সুর তার কবিতায় উঠে এসেছে বারবার ।ছন্দ তার হাতের মুঠোয় ।যেন কথা কয় ।ছন্দকে মান্যতা দিয়ে তিনি ছন্দ ভেঙেছেন।মিথের ব্যবহারে তিনি সিদ্ধ হস্ত।উৎপ্রেক্ষা এবং চিত্রকল্পের সঠিক ব্যবহারের জন্য অনেক বিদগ্ধজনের কথায় তিনি আসলেই কবিদের কবি ।এক ই সঙ্গে তার কবিতা সমস্ত আড়াল ত্যাগ করবার একটা মস্ত উদাহরণ হয়ে ওঠে।রবীন্দ্রনাথ একবার বলেছিলেন
আমার এ গান ছেড়েছে তার সকল অলংকার ।
কবির একটি অসাধারণ অতুলনীয় কাব্যগ্রন্থের নাম,আদিম লতাগুল্মময় ।সেই কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতা মালা ও পুনম।
...তোমার স্বাচ্ছন্দ্য দেখি ,দূর থেকে।
রঞ্জনেরা খুন হলে তুমি বলো ,মরেনি ও,মরেনি আমার ভিতরে বেঁচে আছে কাজের ভিতরে আছে, ধুলোর ভিতরে পায়ে পায়ে ...
লোকে বলে এ শুধু প্রতীক, জীবন জানেনি যারা ,তারা বলে ।
কখনো দেখেনি তারা মালা বা পুনম ?
তোমাকে দেখেনি কেউ ? সেদিন বিকেলে
মাথা ধরেছিল বলে পৃথিবী অসার মনে হয়েছিলো ?
দেখেনি কি সমস্ত ভারত আজ রক্তকরবীর ফুলে ভরে দেয় মালা বা পুনম ?
তোমার স্বাচ্ছন্দ্য দেখি দূর থেকে
তোমার দর্প ও দেখি দূর থেকে
যে জল তোমার চোখে ছিল না কখনো
আমি সেই জল ভরে রাখি ঘটে ।
এইসব কবিতায় চলমান সময় থেকে চিরসময়ের দিকে এক যাত্রা অব্যাহত থাকে ।তাই এই কবিতার
মধ্যে রক্তকরবীর অনুষঙ্গই প্রধান হয়ে ধরা দিয়েছে।
কবিতা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ শিল্প ।কবিতা কি,কবিতা কেন,কবিতার কি কোনো মানে আছে পৃথিবীতে।
ছন্দের অপর নাম বিন্যাস।ভাষার একটা কেন্দ্রাতিগ শক্তি আছে।আছে বহুত্বরূপ ,ও বিদিশাময়তার ধ্রুপদী ধ্বনিসুষমা ।অন্যক্ষেত্রে কেন্দ্রিভূত অবস্থা থেকে বেরিয়ে নৈর্ব্যক্তিক হয়ে ওঠা।অনেক সময় ব্যক্তি কেন্দ্রিক ইগো সেন্ট্রিসিটির প্যারাডাইম শিফ্ট ঘটে কবিতায়।কবিতায় সত্যি সত্যিই কি কোনো মানে থাকে না ।
এই কবিই তার এক বিশ্বশ্রুত কবিতায় লিখছেন ;
...কোনো যে মানে নেই সেটাই মানে
বন্যশূকরী কি নিজেকে জানে
বাঁচার চেয়ে বেশি বাঁচে না প্রাণে ?
শকুন এসেছিস কী সন্ধানে
এই নে বুক মুখ ,হাত নে পা নে
ভাবিস পাবি তবু আমার মানে
অন্ধ চোখ থেকে বধির কানে
ছোটে যে বিদ্যুৎ সেটাই মানে
থাকার চেয়ে বেশি থাকে না প্রাণে
ছুটেছে উন্মাদ ,এখনো ত্রাণে
রেখেছে নির্ভর, সহজযানে
ভাবে সে পেয়ে যাবে জীবনে মানে
বিভোর মাথা কেউ খুঁড়েছে শানে
কিছু বা ভীরু হাত আফিম আনে
জানে না বাঁচে কোন বীজানু পানে
কোনো যে মানে নেই সেটাই মানে
কোনো যে মানে নেই সেটাই মানে
মানে / শঙ্খ ঘোষ
সরল একরৈখিক যে মানে হয় না সেটাই বলা হয়েছে এইসব কবিতায় ।
জীবন সহস্ৰ মুখে বয়ে চলেছে ।
কবিতাও তাই।
নিঃসঙ্গ মানুষের অনন্তকালের জিজ্ঞাসাই হল কবিতা।Endless quiery of a lonely fello.
কবি শঙ্খ ঘোষের প্রতিটি কবিতায় আছে বীক্ষণ ।একবার পড়ে তার বোধগম্যতার নাগাল পাওয়া যাবে না।বারবার পড়তে পড়তে হবে ।কিন্তু একবার যে শেষ পর্যন্ত রস পেয়েছে সে আর কোনো দিকে চোখ ফেরাতে পারবেনা ।এটাই তার কবিতার বিশেষত্ব ।এটাই তার কবিতার ইউ এস পি।
যারা তার কবিতার সঙ্গে সুপরিচিতি তারা জানেন এই অল্প পরিসরে তাকে ও তার রচনাকে ধরা কতটা জটিল ।নিশ্চয় বড়ো ফর্মে তাকে ও তার কবিতার মর্ম গাথা আলোচনা করার একদিন সুযোগ পাবো ।ততোক্ষণে আমরা মুগ্ধতার এই ধারাভাষ্য বন্ধ রাখি।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন