রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

অলক্তিকা চক্রবর্তী-র কবিতা


আমার সকাল 

হাওয়া হাওয়া মেঘের পালক। কোথায় মৃদু রোশনচৌকির রোশনাই। ভৈরবী বাতাস খানিক উদাসীনতা বয়ে আনে। ঝরে ঝরে পড়তে থাকে একটা গোটা সকাল লাল আরো লাল হয়ে তোমার চলার পথে।


 তোমার আসার দিকে  তাকাই,পায়ে পায়ে ভেজা পাতা, তিরতিরে শিশির, লুণ্ঠিত হওয়া ঘাসের বাঁধন পেরিয়ে নীল আকাশের নিচে বনস্পতির ডালপালা সরিয়ে ওই দূরে বাড়িঘরপাখপাখালির দিকচক্রবাল সবকিছু অতিক্রম করে কোন অনন্তকে বয়ে এগিয়ে আসছো। এবার উত্তরায়নের দিকে ধীরে ধীরে শুরু  আমাদের পায়ে চলা।


কিছু ব্যর্থ আত্মরতির খেয়াল, দিনানুদিনের ক্ষয়- অক্ষয় বোধ, নতুন করে রঙ ছড়ানো যাপন, আর সেই সবকিছু নিয়ে ওই দিকে যেন মিলিয়ে যাওয়া ধূলিধূসর অবগাহনের রেশ...

মাড়িয়ে যাওয়া চরৈবেতির ফাঁকে ফুটে ওঠা অজস্র নাম না জানা বুনো ফুল, কিছু গাছগাছালি পাখপাখালি মুগ্ধতায় যোগ্য সঙ্গত যেন। সেই কোলাহল আর সংগীত বেয়ে উঠে আসে ধ্যান। মনের দরজায় কার যেন হাত। ইশারা ইঙ্গিত সামলে ওঠাই দায়। সম্মুখে খেলা করে অনন্ত নীল জল। পুকুরের ঢালে ঘাই মারে দাম শ্যাওলা জলজ হাতছানি। পূর্বাপর কিছু সঞ্চয় আর ভাবাবেগ মিলেমিশে কেমন চেনা অচেনায় দিনের আলো।গানের অন্তরা থেকে ধীরে ধীরে খুলে পড়তে থাকে মীড়ের জোৎস্না, এমনই কোন সকালকে আরো বেশি মনোরম করে তুলবে বলে।


 চেতনায় সরল সবুজ দুরন্ত ডাক। ওই... ওই বুঝি ডুব দেওয়া গহন। ভেসে যাওয়া, ডুবে থাকার অন্তরীণ ভাববিলাস দেহতত্ত্বের বাগানে ফুল সাজায়। বলা বাহুল্য ফুল্ল কুসুমিত হাট বসে যায় যেন। কাঁপতে থাকে ভাবনার রাজ্যে প্রসারিত জগত। সেই যথাসর্বস্ব এলোমেলো মণিকোঠায় তুলে রেখে দিই পরের সকালের জন্য।

                                 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন