রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

সুধাংশুরঞ্জন সাহা-র কবিতা

 


কোলাজ

(এক)
কবিতায় যে আগুন থাকে
বিস্ফোরক থাকে 
কিংবা যে অভিমান লুকিয়ে থাকে 
সব কি নির্বীজ হয়ে গেল,
ভোঁতা হয়ে গেল?
নাকি বাবুমশায়রা সব 
লেপ মুড়ি দিয়ে দীর্ঘ ঘুমে মগ্ন!
এইসব প্রশ্ন মাথার ভিতর ঘুরপাক খায়।

(দুই)
সেইসব গান কোথায় হারিয়ে গেল?
যে গানের সুর ও কথায় 
পাতারা ঘুমিয়ে কাদা হয়ে যেতো 
অথবা জেগে উঠতো হাসিখুশি!

(তিন)
কত ঋণ রয়ে গেল সময়ের কাছে!
সময়ের দাহ ও সংরাগ নিয়ে 
ফেরার কথা ছিল যেখানে 
অকাল ঝড় বৃষ্টিতে সব পথ আজ বিপর্যস্ত!

(চার)
মানুষকে মনের সঙ্গে সেলাই করতে ছুঁচ সুতো লাগে না,
লাগে কেবল একটুখানি ভালোবাসা।

(পাঁচ)
আমি এক ক্ষুদ্র মানুষ, একা মানুষ, একা।
সারাক্ষণই নিজের ছায়া নিজেই আড়াল করে রাখি।

(ছয়)
আমরা নির্বিচারে গাছের পর গাছ কেটে ফেলি,
আবার আমরাই বনসাই দিয়ে ঘর সাজাই।

(সাত)
সারারাত জলের শব্দ। এটাই নাকি নদী!
নীরবে সেই সঙ্গীত ধাক্কা মারে 
রঙবেরঙ পাথরে, তার নাম কি হৃদয়!

(আট)
সব সম্পর্কের ভিতরেই থাকে আলোছায়াময় দুর্ভেদ্য এক বাগান,
থাকে নির্জনতা আর অলীক এক শূন্যতা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন