রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

সুবীর সরকার-এর কবিতা


ধারাবিবরণী
 

মনে পড়বার কথা নয় তবুও তোমাকে মনে 

                                                    পড়ে।

জাহাজের বাঁশি বেজে উঠলো আর আবডাল থেকে

                                                 বেড়ালের ডাক

টানা বৃষ্টি ও জিপগাড়ি।

কেদারায় শুয়ে আরাম করি বলেই তো 

                                                  আরামকেদারা 

মায়া ও ছায়ার এই দুপুর।

খসে পড়া গাছের পাতা নির্জনতার জন্ম

                                                        দেয়

কলাগাছের ভেলায় ভেসে আসে মাটির 

                                                      পুতুল

পুতুল সাজিয়ে রাখি।

পুতুলের ঠোঁটে নীল রং।

পুতুলের পৃথিবীতে অকারণ বেলুন

                                               ওড়ে।

গঞ্জদেশের বিকেল।

নদীতে মাছরাঙা,হলদিয়া কত পাখি।

গামছা মাথায় হেঁটে যেতে থাকে অচেনা কোন

                                                       কথোয়াল 

আস্ত একটা জীবন কেবল কান্না লিখলাম।

পাখির ডিম নিয়ে দৌড়ে পালানো ইঁদুরের দৌড়

                                                        লিখলাম।

সম্পর্কের গল্প।

সার্কাসের তাঁবুর পাশে শুন্যতা।

শূন্যতাকে ঘিরে রাখা যে আলো তাকে নিয়ে ইজেলে

                                                  নদীবন্দর আঁকি 

যতদূর চোখ যায় ততদূর ঝোপঝঙ্গল।

ফকিরের জিন কুপির আলোয় নিজেকে

                                                       লুকোয়।

আসা ও যাওয়ার এই নদীঘাট।

মাঝি ও নৌকোর এই নদীঘাট।

আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে ডিমের 

                                               খোসা।

মৃত পাখির পালক দিয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে

                                             প্রবেশ ও প্রস্থানপথ

আচ্ছা,ভাঙা নখের বিবরণী শুনে কি করবো!

শিরোনাম বদলে দিয়ে ভুল বানানের এই শহরে

                                               একা একা ঘুরি 

আঙুলে বিবাহের আংটি।

গানের ভেতর ইদানিং বিরহের বাতাস।

ঘাসবনের মধ্যে নিঃসঙ্গ খরগোশ।

শরীরে পতাকার ছায়া।

জলাভূমির পাশে মহিষের ম্যাজিক।

পুরোন গল্পের গ্রামে বৃষ্টি নামে

চিরাগ আর চিরুনি দিয়ে লিখতে শুরু করি নুতন এক

                                                      ধারাবিবরণী


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন