বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১

ওবায়েদ আকাশ-এর কবিতা


 ডানার ওপারে

এখন গভীর তিমিরে থাকি?

অথবা তিমির গভীর বাঁকে!

একদিন বাবার দেয়া নামধাম স্নেহ-উপেক্ষা পরিত্যাগ করে
এখন পঙক্তিতে ঘুমাই, টানাগদ্যে হাঁটি, মুক্তকে বাঁচি

এখন লুইপা, কাহ্নপাদ, চন্দ্রাবতী শরীরে বাঁচিয়ে রাখি

এখন ধানক্ষেতের ভিতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পাড়ি দেই
মুঘল বাদশাহী, পাল রাজার শেষ বংশধর

যখন হোমার-প্রলুব্ধ হয়ে কখনো সাফো কখনো লাওৎ সু শেষে
বাশোকে জানিয়ে রেখেছি দীর্ঘ অবকাশ ভ্রমণের কথা--
নোম্যানসল্যান্ডে দাঁড়িয়ে কিছু উলঙ্গ পঙক্তি, যারা
এতকাল ধরে যতিচিহ্নহীন প্রমত্ত সমুদ্র হেঁটেছে
তারাও দেখি বস্ত্রের সন্ধানে -কূলে -কূলে ভিড়ে
বিনীত প্রার্থনা করে--

যখন এ্যাংলো-স্যাক্সনে বসে হৃদয়ে বাল্মীকি, দুঠোঁটে কালীদাস পুষি
যক্ষ প্রিয়াকে ডেকে কেউ বলে-- অমন বিরহ নাকি
পৃথিবীতে ফেলে গেছে বর্ষণের গভীর নিয়তি--
ভালোবাসি তাই বর্ষণের মুখর প্রতীতি

প্রতিকথা বলতে বলতে আজও যখন কথার প্রতি
পাখিরা গায়নি, মেঘেরা ওড়েনি
তখন বালুকাবেলায় স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে বলি
                     
আমাকে গ্রহণ করো প্রতিস্রোত

যখন সিদ্ধার্থকে বলি-- বড় অসময়ে এই নির্বাণ আমি

গ্রহণ করিনি--

হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে দীর্ঘ প্রান্তরে পায়রার ওড়াউড়ি দেখে

অঙ্গুলি তুলে বলেছিলো কেউ
তুমি ডানা মেলেছিলে সময়েরও আগে

ছায়া মেপে দেখো-- কতোদূর তুমি বসে আছো ডানার ওপারে!

 

হাইকেল হাশমী-র কবিতা

 

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

 

স্বপ্ন নিবে, স্বপ্ন

বিনা মূল্যে দিচ্ছি স্বপ্ন

স্বপ্ন নিয়ে এসেছি তোমার দ্বারে

তোমার মনের গৃহে

তোমার চোখের উঠোনে

তোমার হৃদয়ের পথে

তোমার ইচ্ছার ঘাটে।

আছে সব রঙিন স্বপ্ন

সুখের গোলাপি স্বপ্ন

শান্তির সাদা স্বপ্ন

দুঃখের লাল স্বপ্ন

ব্যথার নীল স্বপ্ন

আশার সবুজ স্বপ্ন

নিরাশার হলুদ স্বপ্ন

যন্ত্রণার ধূসর স্বপ্ন

শঙ্কার কালো স্বপ্ন।

রকমারি স্বপ্নের পশরা সাজিয়ে

আছি আমি বসে

বিনামূল্যে দিচ্ছি তোমাকে

কোনটা নিবে জলদি বলো

শর্ত শুধু একটা, রাখতে হবে যত্ন করে

খুবই কোমল আমার স্বপ্ন

রাখতে হবে চোখের মণিতে

চোখ খুললে বাস্তবতার কঠিন পাথরে

চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে স্বপ্নগুলো।

 


বিশ্বজিৎ রায়-এর কবিতা


 গল্প

তুমি যে রাস্তা খুলে দিলে

তার চারপাশে হাত বাড়িয়ে দিল অনেক উদ্ভিদ অক্সিজেন,

সেই রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে দেখলাম

বিজ্ঞাপনে আঁকা নানান সুখের গল্পমায়া-অহিফেন.....

 

সেই গল্পগুলি স্বপ্ন হয়ে জড়িয়ে ধরলো আমাকে,

আমলকি বনে গা এলিয়ে পড়ে থাকল তারা 

সারা ঋতু জুড়ে ---

গল্পের বুনোটে খাবি খেতে খেতে 

অজানা শঙ্কায় আমি

নিজের ছায়াকে  খুঁজতে থাকলাম ঈশ্বরের পদতলে....

 

প্রতিটা চৌমাথায় এসে দিক বদল করে

ঢুকে পড়লাম অন্য রাস্তায়,

প্রাচীন বট, নাটমঞ্চ, সবুজ ধানক্ষেতসবাই

অবাক হয়ে দেখতে থাকল  আমাকে---

মনে হল, চিনেও যেন ঠিক চিনতে পারলনা কেউ ...

 

একপা, দুপা করে আমি আবার  

ফিরে আসতে থাকলাম নিজের ভেতর....