রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

রন্তিদেব সরকার-এর ধারাবাহিক ভ্রমণ কাহিনী "ঢাকার ডায়েরি"

 

ঢাকার ডায়েরি

--ট্রেনের গতি সেই একই রকম আছে। মদালসা। দ্বিপ্রহর অতিক্রান্ত। আরিফ ভাই আমাদের কেবিনে থিতু হবার পর আমাদের সময়টা আরেকটু ভাল কাটছে। কত গল্প শুনছি তার কাছে। এত সরল তার বর্ণনা আর তার বাচনে পূর্ববঙ্গীয় মিষ্টি টান। তার কাছে ঢাকা শহরের, বাংলাদেশের কত অজানা কথা শুনতে পেলাম, যা আগে শুনিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার এবং তার পরিবারের কথা, দুঃখদুর্দশার বর্ণনা, সব অকপটে শোনাল আমাদের। ঢাকার কোন কোন জায়গা আমরা দেখতে যাব তার একটা ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে নেওয়া গেল আরিফ ভাইয়ের পরামর্শ মত। মূলতঃ এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই, অর্থাৎ আজকে রাত্রের মধ্যেই, আমাদের ঠিক করে নিতে হবে কারণ এই একটি দিনই হাতে১৪ই জুলাই, শণিবার। প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে কোথায় কোথায় যাব এবং কেমনভাবে যাব। সেই মোদ্দা হিসেবে সকাল ৯টা থেকে বেরিয়েবিকাল -৫টার মধ্যে কোন কোন দ্রষ্টব্য জায়গাগুলো আমরা ঘুরে নিতে পারব। ঠিক হলোএকটা গাড়ি সারাদিনের কড়ারে ভাড়া নিতে হবে। মাঝখানে লাঞ্চ কোথায় করব সেটাও আরিফভাই দু-দুটো রেস্তোরাঁর নাম বলে দিল। একটা  ‘স্টার’ হোটেল আরেকটা ‘ধানসিঁড়ি ‘ধানসিঁড়ি’-তে অথেনটিক বাঙালি খাবার-টা নাকি পাওয়া যাবে।  যেহেতু আমাদের ধানমন্ডি যাবার পরিকল্পনা রয়েছে বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের বাসস্থান দেখতে। সেটা এখন ‘মিউজিয়াম’ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষজন যাতে সেখানে গিয়ে সেই ঐতিহাসিক বাড়ি-টি দর্শন করতে পারে। দেখা হয়ে গেলে আমরা ওখানে লাঞ্চ সেরে নিতে পারব ‘ধানিসিঁড়ি’-তে। আরিফভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানালাম। ঘড়িতে তখন বেলা ৪টা।

 

        ঠিক সোয়া-চারটায় ‘মৈত্রীএক্সপ্রেস’ ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। আবারপ্ল্যা টফর্মে বেরোবার লাইন পড়ে গেল। তাড়াতাড়ি ট্রেন থেকে বমাল নেমে দাঁড়িয়ে গেলাম। অবশ্য কলকাতা স্টেশনের অভিজ্ঞতা থেকে কাজল-দাকে ঠেলে পাঠিয়ে দিলাম আমাদের লাইন-টা দিয়ে রাখার জন্য। আমরা সব লাগেজ দুটী ট্রলিতে তুলে কাজল-দার পিছু পিছু এসে নিজেরা আস্তে আস্তে নিজেদেরকে লাইনে গুঁজে নিলাম। একজন লাইনে থাকলেই হলো। একসাথেই চলতে চলতে সেটা ম্যানেজ হয়ে গেলো। কারণ আমরা চারজনের তো একটাই টিকিট। তাই আমাদের এই চারমূর্তিকে আর রোখে কে ? আমাদের সবার দুটো করে তল্পিশুধু পলুর একটা। তাই আরিফভাই-এর একটা কি নতুন প্যাকেট ছিল সেটা নিল পলু। তারপর শুধু সময়ের অপেক্ষা। আমাদের হোটেলের তরফে স্টেশনে একটি গাড়ি আমাদের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে। ফোন করে বুয়া জানিয়ে দিয়েছিল সেটা এবং ড্রাইভার স্টেশনের বেরোবার মুখে ‘মিথিলেশ চক্রবর্তী’ নামাঙ্কিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে আমাদের রিসিভ করার জন্য। এদিকে আবার সেই ইমিগ্রেসন ফর্ম ফিল-আপ করে জমা দিতে হবে।একজন রেলকর্মী একটি ফর্ম আমাদের সবার হাতে গুঁজে দিয়ে গেলো। সেখানে নাম, বাংলাদেশের কোন ঠিকানা লিখতে হবে। আমাদের ঠিকানা বলতে হোটেল-এর নামঠিকানা ফোননাম্বার ফর্মে লিখতে হলো। তারপর তা জমা দিয়ে বাইরে বেরোতেই সেই আকাঙ্ক্ষিত প্ল্যাকার্ড হাতে একটি যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। আরিফ ভাইকে বিদায় জানিয়ে আমরা হোটেল-প্রেরিত বড় একটা এসি ভ্যান গাড়িতে উঠে বসলাম। কি দারুণ একটা অনুভূতি হচ্ছে। এই আজ সকালেই তো কলকাতায় ছিলাম আর এখন বাংলাদেশ !  পিছনের বুটিতে সব লাগেজ লোড করে ঢাকা ভ্রমণ শুরু হলো। ব্যস্, বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাঙ্ক্ষিত ভূমিতে পৌঁছে গেলাম। রাস্তার দুইধারে বড় বড় হোটেল, ব্যাঙ্ক আর অফিসের সারি, আর পাঁচটা বড় রাজধানী শহরের মতই।  আমি তো ক্যামেরা হাতে ড্রাইভারের পাশের সিঙ্গল সিটে বসে গেলাম। দুদিকে তখন যাই দেখছি, ক্যামেরাবন্দি করে নিচ্ছি। এমনকি বাসের পিছনে বাংলায় লেখা সমস্ত লেখাগুলোই লেন্সবন্দি করে নিলাম-বাংলায় লেখা নাম্বার-প্লেট। রাস্তায় যে ভয়ঙ্কর ট্রাফিক-জ্যাম হয় এই শহরে, তার কিছু নমুনা দেখতে পেলাম। তবু শুক্র-শণি ওখানে সাপ্তাহিক ছুটীর দিন। তাহলেই বোঝা যাচ্ছিল, উইক-ডেজ  কি দশা হয়। দু-একটি জায়গা ছাড়া ট্র্যাফিক সিগন্যাল চোখেই পড়ল না, ট্র্যাফিক পুলিশও না। কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম ‘কাওরান বাজারে’ আমাদের দ্বাদশতল হোটেলের  প্রবেশমুখে। হোটেলের কর্মীরা আমাদের লাগেজ গাড়ির বুটি থেকে বের করে হোটেল রিসেপশনের লাউঞ্জে গিয়ে রাখল। হোটেল ম্যানেজার, ডেস্ক ম্যানেজার আমাদের সবাইকে শীতল এবং ফ্রেশ আমের রিসেপশন ড্রিংক দিয়ে  উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন।  হোটেলের অষ্টমতলে আমাদের দুটি রুম দেওয়া হয়েছে ৭০৩ এবং ৭০৬। আমরা লিফট-বাহিত হয়ে পৌঁছে গেলাম নিজ নিজ রুমে। পলু আর আমি ৭০৩ এবং মিথিলেশ কাজল ৭০৬। হোটেল কর্মীরা লাগেজ পৌঁছে দিয়ে গেল রুমে। আঃ ! পরিপাটী করে বিছানো বিছানা। এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে দুগ্ধ-ফেননিভ শয্যায় নিজেদের সমর্পণ করলাম। সেই কাকভোরে ঘর থেকে বেরিয়ে সারাদিন জার্নির ধকল নেবার পর এই রকম সুসজ্জিত বিছানা দেখে, এছাড়া  জাস্ট কোন ভাবার উপায় ছিল না। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর কবোষ্ণ জলে স্নানের পর ফ্রেশ হয়ে পোষাক বদলে সামনেই একটু ঘুরে আসা যেতে পারে। ফেরার সময় ডিনার সেরেই ফিরতে হবে।

                               

 

বাথটাবের কবোষ্ণ জলে অনেকক্ষণ ডুবে থেকে শরীরের সব ক্লান্তি যেন নিমেষে দূর হয়ে গেল। দুজনেই স্নানান্তে পোষাক বদলে নিলাম। হোটেলের দেওয়া টেবলে চা-এর কমপ্লিমেন্টারি সরঞ্জাম মজুদ। ইলেকট্রিক কেটলিতে দু-কাপ চা বানিয়ে ফেললাম টি-ব্যাগ দিয়ে।  বিশ্বের চা-এর বাজারে বাংলাদেশেও ভাল চা উৎপাদনকারী একটি দেশ এবং তা রপ্তানী করে বাৎসরিক ২০ কোটী বাংলাদেশী টাকা উপার্জন করে ! চা-এর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চা উৎপাদন % বেশ মৌজ করে চা-বিস্কিট খেতে খেতেই দরজায় টোকা। দরজা খুলতেই ক্যাপ্টেন মিথিলেশ-এর সহাস্য মুখ।কি  রেডি ?’ ‘ইয়েস  রেডি আমরা দুজনেই বলতে বলতেই কাজল এসে হাজির। আবার একজোট হয়ে বেরিয়ে পড়লাম, ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা সাত-টা। রিসেপশন ডেস্ক- চাবি দিয়ে পরের দিন সকালে শহর ঘোরার জন্য সারাদিনের জন্য গাড়ির কথা বললাম। ডেস্ক-এর দায়িত্বে থাকা সুদর্শন এবং সপ্রতিভ এক্সিকিউটিভ যুবকটি অতি বিনয়ের সঙ্গে জানাল-‘এইট্টি-ফাইভ ডলার স্যর, আই মিন, বলে কনভার্সন রেট বের করে জানাল, সাত হাজার টাকা পড়বে, স্যর মিথিলেশদা, এই শক্তিশেল-এর ধাক্কা সামলে জানালো-‘ঠিক আছে ভাই, জানা রইল। আমরা একটু আলোচনা করে আজ রাত্রের মধ্যেই জানিয়ে দিচ্ছি (পড়ুন,-‘ছ্যামড়া, মামার বাড়ির আবদার পাইসো নাকি। হালা, আমাদের কি বুদ্দু ঠাওরাইসো ?  সাত হাজার টাকা দিয়া, তদের গাড়ি নিব কোন দুঃখে শুনি ? যা মন তাই কইয়া দিলেই হইল ?) (এই অনুবাদ-টা আমার আনুমানিক হলেও, যদ্দুর আমি মিথিলেশকে চিনি, আমার ভার্সন থেকে মিথিলেশ-এর অরিজিনাল ভার্সন ৯০% মিলে যাবার প্রবল সম্ভাবনা, আমি বেট রাখতে পারি) যাই হোকহোটেলের বাইরে পা-রেখেই মিথিলেশ পুরো গরম হয়ে বুয়াকে ফোন করে গাড়ির ইতিবৃত্ত জানিয়ে দিল। বুয়া শুনে যে খুব প্রসন্নচিত হয়ে উঠেছিল তেমন বলতে পারছিনা।  ফোনে পিতা-পুত্রর ডায়ালগ শুনে যতটা অনুমান করা গেল। ঠিক তাই, মিনিট পাঁচেক পর বুয়ার আরেকটি ফোন এলো। মিথিলেশ কানে ফোন লাগাতেই মুখমন্ডল উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ছোট্ট ফোনান্তে মিথিলেশ জানালো- ‘সাড়ে তিন। কাল সকাল ৯টায় একটি টয়েটো গাড়ি আসবে এবং সারাদিন সে আমাদের ঢাকা শহর ঘুরাবে।ব্যাটাচ্ছেলে বলে কি নাএইট্টি-ফাইভ ডলার স্যর হোটেল তো নয় ডাকাতের আড়ত। বুয়া যে কি ছাতার হোটেল ঠিক করল। একেই তো এমন লাগাম-ছাড়া ভাড়া, তার উপর, সুযোগ পেলেই হলো, যত্তোসব।কাজল আবার  গিয়ে মিথিলেশ-এর রাগ কমানোর জন্য বলল-‘আরে মশাই, ছাড়ুন তো, ওরা তো ধান্দাতেই থাকে।

 

        আমরা চারমূর্তি কাওরান বাজার এলাকায় গুটি গুটি এগোতে থাকলাম। ব্যস্ত বাজার বলতে যা বোঝায়। অনেকটা বড়বাজারের সঙ্গে মিল। পিছনদিকে গিয়ে দেখি খুব ঘিঞ্জি এলাকা। সামনেই অনেকটা এরিয়া জুড়ে একটি বাজার শেড। স্থায়ী বড়সড় গুদাম-টাইপ। সামনেই রকামারি মাংসের দোকান। বড়-মাঝারি-ছোট সব সাইজের মাংসের দোকান পাশাপাশি। অজস্র ঠেলাগাড়ির ভীড় পেরিয়ে মূল শেড- ঢুকে পড়লাম। মাংসের দোকানের পিছন দিকটাতে চালের আড়ত। সার সার দিয়ে। কত কত চালের প্লাস্টিকের বস্তা যে থরে থরে সাজানো রয়েছে। আমি তো এরকম চালের আড়ত কোথাও দেখিনি। থরে থরে চালের বস্তা যে দুই স্তরে সাজানো রয়েছে, তা এক দ্বিতল বাড়ির সমান তো হবেই। তার পিছন দিকটায় বিশাল মাছের বাজার। পরে শুনলাম যে এই কাওরান মাছের বাজার এই ঢাকা অঞ্চলে বৃহত্তম। পাইকারি বাজারের সব মাছ আগে কাওরান বাজারে এসে জমা হয়, তারপর নীলাম করে বিক্রি হয় সেই ভোরের বেলা।  এই বাজার নাকি রাত তিনটের সময় থেকে এইসব কারবার চলে। আমরা তো তাজ্জব। এই প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে  অর্থাৎ নদী-নালা-খাল-বিল-হাওড় বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে চীন ভারতের পর তৃতীয়  স্থানে রয়েছে। গত সালে বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন ছিল সাড়ে দশ লাখ টন। এই চোট্ট এক চিলতে রাষ্ট্রের পক্ষে, এই উৎপাদন, বিশেষ করে ইলিশদেশের অর্থনীতিতে খুব তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। অন্যদিকে চাষ করা মাছের উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে পঞ্চম স্থানে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ প্রচুর কিন্তু তার জন্য পরিকাঠামোর মান এবং পেশাদারি দক্ষতায় তা পরিচালনা করার জন্য প্রযুক্তিগত  মানের দিক থেকে বাংলাদেশ বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। এইসব দিক দিয়ে উন্নতি করতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেক স্বাবলম্বী হতে পারবে। 

 

        কাওরান বাজার থেকে ফেরার পথে আমাদের সন্ধানী চোখ ঘুরছেস্টাররেস্তোঁরার খোঁজে। এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই খুঁজে পেয়ে মনে হল যে একদম তো পায়ে হাঁটা পথ, একটু ঢুঁ মেরে যাওয়াই শ্রেয়। এবং সেটাই করলাম। রাস্তা পেরিয়ে, সোজা দোতলায় উঠে বাতানুকূল সে রেস্তোঁরায় চারমূর্তি গিয়ে ঢুকলাম এবং কি কি খাবার পাওয়া যেতে পারে খোঁজ নিতেই জানা গেল, বাঙালি ব্যঞ্জন এখানে পাওয়া যাবে। তখন রাত্রি আটটা বাজে। তখন সবাই মিলে এটাই ভাবলাম, একেবারে ডিনার করেই হোটেলে যাওয়াই ভাল। একে পথশ্রান্ত পথিক আমরা। আটতলায় উঠে গিয়ে আবার নেমে আসার থেকে ভাল। এবং তাই হলো কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, ইলিশ মাত্র এক পিস আছে বেঁচে। সুতরাং ডাল-ভাত-তরকারির সঙ্গে রুই মাছের কালিয়ার অর্ডার হলো। একটি আলাদা প্লেটে রুইমাছের প্লেটটি মশলার আড়ালে অবগুন্ঠিত। লম্বাটে আকারের পিস। দেখে মনে হল, একটি রুই-চারাকে মশলা দিয়ে ঢেকে সার্ভ করা হয়েছে। কিন্তু মশলার অবগুন্ঠন চামচ দিয়ে সরাতেই বেরিয়ে পড়ল একটি বিশাল গোলাকার রুই মাছের পিসকে দ্বিখন্ডিত করা হয়েছে। মোটামুটি আন্দাজ করে দেখলাম ১৫০ গ্রামের পিস তো হবেই আর ওজনে পাঁচকিলো তো ছিলই। আমি রকম সাইজের মাছ খেতে পছন্দ করলেও পুরো মাছের পিস-টা খেতে পারলাম না। ভরপেট খেয়ে সোজা হোটেলের লাউঞ্জে। কিছুক্ষণ আড্ডা মারার উদ্দেশে। 


ক্রমশ...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন