রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০২৪

গোলাম রসুল-এর কবিতা

ছায়া

আকাশে একটা অসুস্থ মানুষের নক্ষত্ররা

সে পেয়ালা থেকে নিয়ে বিতরণ করছে হিম  চাঁদ
অনেক প্রশান্তভরা চাঁদ তার জমানো ছিল
চাঁদের মাংসের মধ্যে জরির সেলাই ঝকঝক করছে 

রাস্তা 
বাড়ি
প্রাঙ্গণ 
সবটাই ব্যথার আলোড়ন 

তার দাঁতে রূপোর চেন ছটফট করছে 
চোখ কালো মোমবাতির মতো জ্বলছে
আর গলে যাচ্ছে তার মণিকাঞ্চন 

তার হাতের  হাড় বেরিয়ে আসছে রাতের সূর্যের মতো
আর আঙুলগুলো ককিয়ে কাঁদছে 

তার ঝুলি 
ভেতরে এক দ্বীপ ঝুলছে 
পাশে একটি খোলা বই
পৃষ্ঠা জুড়ে লক্ষ লক্ষ মাইল জঙ্গল 
যেখানে শিশিরগুলো থেকে মায়া পড়ে পড়ে যায় শূন্যে

রাত্রি শীতল এবং শান্ত
নৈঃশব্দ্যের গতিবেগ নির্ণয় করা একটি দূরবর্তী শব্দ ডুবে যাচ্ছে কেবল 

সে দেখছে একটি ভাঙা থার্মোমিটার 
চামড়ায় ভরা একটি জীবন্ত কঙ্কাল 

রাতের মেঘ ডাকছে অনাবিস্কৃত এক সত্যে
ধনুক নামিয়ে মেঘেরা আত্মসমর্পণ করছে তার কাছে 
আর সে তার অচিহ্নিত জীবনের জন্য কয়েকটি নক্ষত্রের সঙ্গে নিঃসঙ্গতার ছায়া স্থাপন করলো 
মৃত্যুর যাবতীয় তৃষ্ণার মধ্যে জলের ওপরে পোকার ছায়ার মতো ভেসে ওঠে যে ছায়া

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন