নির্দিষ্ট রেস্টুরেন্টে ঠিক সময়ে পৌঁছে গিয়েও দেখি আমাদের রিজার্ভড টেবিল একেবারেই ফাঁকা। তার মানে আমিই প্রথম এসেছি। সেটা হওয়ার কথা নয় কারণ সায়ন্তন চিরকালই পাংচুয়াল। সেই স্কুল জীবন থেকেই দেখেছি। ও-ই প্ল্যানটা করেছিল আজ দুপুরের লাঞ্চটা এখানে করার জন্য। বন্ধুদের একটা ছোটখাটো গেট-টুগেদার। ছুটির দিনে আমি বাড়ি থেকে বেরোতে চাই না সচরাচর। ভালোই লাগে না আজকাল। কিন্তু সায়ন্তন সরাসরি বলেছিল, “তুই দিন-কে দিন বড়োই অসমাজিক হয়ে যাচ্ছিস আব্বাস। শনিবার দুপুরে না এলে কিন্তু খুব খারাপ হবে।” তারপর আরো কিছু সেন্টু দেওয়া কথাবার্তা। মত দিতেই হল।
অনেকেই নাকি আসবে। কিন্তু কোথায় কে? আমি তো একাই এখানে। রিজার্ভড টেবিলটাও এমন কিছু বড়ো নয়। সত্যিই কি অনেকে আসবে? বসে সায়ন্তনের মোবাইলে কল করলাম। বেজেই গেল। বিরক্ত হয়ে আরেকবার কল করতে যেতেই কানে এল, “তুমি?”
বহুদিন আগে শোনা এক রিনরিনে কণ্ঠস্বর টাইম-ট্র্যাভেল করে ভেসে এল কি? চোখ তুলে তাকাতেই দেখলাম তোমায়। ভ্রম নয়, বাস্তব। আমাকে দেখে একইরকম বিস্মিত তুমি। বসে থাকা যায় না এরপর। দাঁড়িয়ে পড়লাম।
“সায়ন্তন তো বলে নি তোমার কথা…?”
“আমাকেও তাই। শুধু গেট টুগেদারের কথা বলেছিল। কিন্তু তুমি আসবে জানলে …”
“তুমি আসতে না, তাই তো?”
তুমি উত্তরে কিছু না বলেই তাকিয়ে রইলে আমার দিকে, “বাকিরা কোথায়? কখন আসবে?”
“আমি কি জানি? সায়ন্তনকে ফোন করে দেখছি।” কিন্তু এবারে ফোনে রিংটাও হল না। ফোন সুইচ্ড অফ বলছে।
তুমি আর আমি দাঁড়িয়ে রইলাম টেবিলের দু’ধারে। আড়চোখে দেখলাম ওয়েটার এগিয়ে আসছে অর্ডার নেওয়ার জন্য …তুমি কি বসবে না? তা না হলে আমি বসি কি করে?
রেস্টুরেন্টের ঠিক উল্টো ফুটপাথে এক যুবক ঠায় দাঁড়িয়ে। তার পকেটের মোবাইল ফোনটা এখন বন্ধ। রেস্টুরেন্টের দরজার দিকে সে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।
খুব ভালো লাগলো স্যার।
উত্তরমুছুনWow
উত্তরমুছুন